শেষ কথা (shesh kotha)

রাগ কর নাই কর, শেষ কথা এসেছি বলিতে--

     তোমার প্রদীপ আছে, নাইকো সলিতে।

          শিল্প তার মূল্যবান, দেয় না সে আলো,

     চোখেতে জড়ায় লোভ, মনেতে ঘনায় ছায়া কালো

অবসাদে। তবু তারে প্রাণপণে রাখি যতনেই,

          ছেড়ে যাব তার পথ নেই।

অন্ধকারে অন্ধদৃষ্টি নানাবিধ স্বপ্ন দিয়ে ঘেরে

                   আচ্ছন্ন করিয়া বাস্তবেরে।

               অস্পষ্ট তোমারে যবে

          ব্যগ্রকণ্ঠে ডাক দিই অত্যুক্তির স্তবে

তোমারে লঙ্ঘন করি সে-ডাক বাজিতে থাকে সুরে

     তাহারি উদ্দেশে আজো যে রয়েছে দূরে।

          হয়তো সে আসিবে না কভু,

     তিমিরে আচ্ছন্ন তুমি তারেই নির্দেশ কর তবু।

          তোমার এ দূত অন্ধকার

               গোপনে আমার

     ইচ্ছারে করিয়া পঙ্গু গতি তার করেছে হরণ,

জীবনের উৎসজলে মিশায়েছে মাদক মরণ।

                   রক্তে মোর যে-দুর্বল আছে

                        শঙ্কিত বক্ষের কাছে

          তারেই সে করেছে সহায়,

পশুবাহনের মতো মোহভার তাহারে বহায়।

          সে যে একান্তই দীন,

               মূল্যহীন,

          নিগড়ে বাঁধিয়া তারে

                   আপনারে

     বিড়ম্বিত করিতেছ পূর্ণ দান হতে,

   এ প্রমাদ কখনো কি দেখিবে আলোতে।

প্রেম নাহি দিয়ে যারে টানিয়াছ উচ্ছিষ্টের লোভে

     সে-দীন কি পার্শ্বে তব শোভে।

কভু কি জানিতে পাবে অসম্মানে নত এই প্রাণ

   বহন করিছে নিত্য তোমারি আপন অসম্মান।

          আমারে যা পারিলে না দিতে

সে-কার্পণ্য তোমারেই চিরদিন রহিল বঞ্চিতে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

192
Verses
I BRING TO THEE, night, my day's empty cup,
to be cleansed with thy cool darkness
for a new morning's festival.
আরো দেখুন
গুপ্ত প্রেম
Verses
         তবে  পরানে ভালোবাসা কেন গো দিলে
                রূপ না দিলে যদি বিধি হে!
         পূজার তরে হিয়া            উঠে যে ব্যাকুলিয়া,
                পূজিব তারে গিয়া কী দিয়ে!
       মনে    গোপনে থাকে প্রেম, যায় না দেখা,
                কুসুম দেয় তাই দেবতায়।
         দাঁড়ায়ে থাকি দ্বারে,         চাহিয়া দেখি তারে,
                কী ব'লে আপনারে দিব তায়?
       ভালো  বাসিলে ভালো যারে দেখিতে হয়
                সে যেন পারে ভালো বাসিতে।
         মধুর হাসি তার             দিক সে উপহার
                মাধুরী ফুটে যার হাসিতে।
       যার   নবনীসুকুমার কপোলতল
                কী শোভা পায় প্রেমলাজে গো!
         যাহার ঢলঢল                 নয়নশতদল
                তারেই আঁখিজল সাজে গো।
       তাই    লুকায়ে থাকি সদা পাছে সে দেখে,
                ভালোবাসিতে মরি শরমে।
         রুধিয়া মনোদ্বার          প্রেমের কারাগার
                রচেছি আপনার মরমে।
       আহা    এ তনু-আবরণ শ্রীহীন ম্লান
                ঝরিয়া পড়ে যদি শুকায়ে,
         হৃদয়মাঝে মম           দেবতা মনোরম
                মাধুরী নিরুপম লুকায়ে।
যত   গোপনে ভালোবাসি পরান ভরি
                পরান ভরি উঠে শোভাতে--
         যেমন কালো মেঘে         অরুণ-আলো লেগে
                মাধুরী উঠে জেগে প্রভাতে।
       আমি    সে শোভা কাহারে তো দেখাতে নারি,
                এ পোড়া দেহ সবে দেখে যায়--
         প্রেম যে চুপে চুপে           ফুটিতে চাহে রূপে,
                মনেরই অন্ধকূপে থেকে যায়।
       দেখো  বনের ভালোবাসা আঁধারে বসি
                কুসুমে আপনারে বিকাশে,
         তারকা নিজ হিয়া           তুলিছে উজলিয়া
                আপন আলো দিয়া লিখা সে।
       ভবে    প্রেমের আঁখি প্রেম কাড়িতে চাহে,
                মোহন রূপ তাই ধরিছে।
         আমি  যে আপনায়          ফুটাতে পারি নাই,
                পরান কেঁদে তাই মরিছে।
       আমি    আপন মধুরতা আপনি জানি
                পরানে আছে যাহা জাগিয়া,
         তাহারে লয়ে সেথা        দেখাতে পারিলে তা
                যেত এ ব্যাকুলতা ভাগিয়া।
       আমি    রূপসী নহি, তবু আমারো মনে
                প্রেমের রূপ সে তো সুমধুর।
         ধন সে যতনের                 শয়ন-স্বপনের,
                করে সে জীবনের তমোদূর।
আমি    আমার অপমান সহিতে পারি
                প্রেমের সহে না তো অপমান।
         অমরাবতী ত্যেজে          হৃদয়ে এসেছে যে,
                তাহারো চেয়ে সে যে মহীয়ান।
       পাছে    কুরূপ কভু তারে দেখিতে হয়
                কুরূপ দেহ-মাঝে উদিয়া,
         প্রাণের এক ধারে             দেহের পরপারে
                তাই তো রাখি তারে রুধিয়া।
       তাই    আঁখিতে প্রকাশিতে চাহি নে তারে,
                নীরবে থাকে তাই রসনা।
         মুখে সে চাহে যত             নয়ন করি নত,
                গোপনে মরে কত বাসনা।
       তাই    যদি সে কাছে আসে পালাই দূরে,
                আপন মনো-আশা দলে যাই,
         পাছে সে মোরে দেখে         থমকি বলে "এ কে!"
                দু-হাতে মুখ ঢেকে চলে যাই।
       পাছে    নয়নে বচনে সে বুঝিতে পারে
                আমার জীবনের কাহিনী--
         পাছে সে মনে ভানে,        "এও কি প্রেম জানে!
                আমি তো এর পানে চাহি নি!"
       তবে    পরানে ভালোবাসা কেন গো দিলে
                রূপ না দিলে যদি বিধি হে!
         পূজার তরে হিয়া          উঠে যে ব্যাকুলিয়া,
                পূজিব তারে গিয়া কী দিয়ে!
আরো দেখুন
দুর্বোধ
Verses
তুমি মোরে পার না বুঝিতে?
       প্রশান্ত বিষাদভরে
       দুটি আঁখি প্রশ্ন ক'রে
     অর্থ মোর চাহিছে খুঁজিতে,
চন্দ্রমা যেমন ভাবে স্থিরনতমুখে
      চেয়ে দেখে সমুদ্রের বুকে।
        কিছু আমি করি নি গোপন।
           যাহা আছে সব আছে
           তোমার আঁখির কাছে
        প্রসারিত অবারিত মন।
  দিয়েছি সমস্ত মোর করিতে ধারণা,
        তাই মোরে বুঝিতে পার না?
        এ যদি হইত শুধু মণি,
           শত খণ্ড করি তারে
           সযত্নে বিবিধাকারে
        একটি একটি করি গণি
  একখানি সূত্রে গাঁথি একখানি হার
        পরাতেম গলায় তোমার।
        এ যদি হইত শুধু ফুল,
           সুগোল সুন্দর ছোটো,
           উষালোকে ফোটো-ফোটো,
        বসন্তের পবনে দোদুল,
  বৃন্ত হতে সযতনে আনিতাম তুলে--
        পরায়ে দিতেম কালো চুলে।
এ যে সখী, সমস্ত হৃদয়।
           কোথা জল, কোথা কূল,
           দিক হয়ে যায় ভুল,
        অন্তহীন রহস্যনিলয়।
   এ রাজ্যের আদি অন্ত নাহি জান রানী--
        এ তবু তোমার রাজধানী।
     কী তোমারে চাহি বুঝাইতে?
           গভীর হৃদয়-মাঝে
           নাহি জানি কী যে বাজে
        নিশিদিন নীরব সংগীতে--
   শব্দহীন স্তব্ধতায় ব্যাপিয়া গগন
        রজনীর ধ্বনির মতন।
        এ যদি হইত শুধু সুখ,
           কেবল একটি হাসি
           অধরের প্রান্তে আসি
        আনন্দ করিত জাগরূক।
   মুহূর্তে বুঝিয়া নিতে হৃদয়বারতা,
        বলিতে হত না কোনো কথা।
        এ যদি হইত শুধু দুখ,
           দুটি বিন্দু অশ্রুজল
           দুই চক্ষে ছলছল,
        বিষণ্ণ অধর, ম্লান মুখ,
   প্রত্যক্ষ দেখিতে পেতে অন্তরের ব্যথা,
        নীরবে প্রকাশ হত কথা।
এ যে সখী, হৃদয়ের প্রেম,
        সুখদুঃখবেদনার
        আদি অন্ত নাহি যার--
     চিরদৈন্য  চিরপূর্ণ হেম।
নব নব ব্যাকুলতা জাগে দিবারাতে,
     তাই আমি না পারি বুঝাতে।
     নাই বা বুঝিলে তুমি মোরে!
        চিরকাল চোখে চোখে
        নূতন নূতনালোকে
     পাঠ করো রাত্রি দিন ধরে।
বুঝা যায় আধো প্রেম, আধখানা মন--
     সমস্ত কে বুঝেছে কখন?
আরো দেখুন