মায়া (maya)

আজ এ মনের কোন্‌ সীমানায়

          যুগান্তরের প্রিয়া।

দূরে-উড়ে-যাওয়া মেঘের ছিদ্র দিয়া

          কখনো আসিছে রৌদ্র কখনো ছায়া,

        আমার জীবনে তুমি আজ শুধু মায়া;

সহজে তোমায় তাই তো মিলাই সুরে,

        সহজেই ডাকি সহজেই রাখি দূরে।

               স্বপ্নরূপিণী তুমি

আকুলিয়া আছ পথ-খোওয়া মোর

               প্রাণের স্বর্গভূমি।

        নাই কোনো ভার, নাই বেদনার তাপ,

ধূলির ধরায় পড়ে না পায়ের ছাপ।

        তাই তো আমার ছন্দে

          সহসা তোমার চুলের ফুলের গন্ধে

        জাগে নির্জন রাতের দীর্ঘশ্বাস,

          জাগে প্রভাতের পেলব তারায়

               বিদায়ের স্মিত হাস।

        তাই পথে যেতে কাশের বনেতে

               মর্মর দেয় আনি

        পাশ-দিয়ে-চলা ধানী-রঙ-করা

               শাড়ির পরশখানি।

        যদি জীবনের বর্তমানের তীরে

           আস কভু তুমি ফিরে

               স্পষ্ট আলোয়, তবে

        জানি না তোমার মায়ার সঙ্গে

               কায়ার কি মিল হবে।

            বিরহস্বর্গলোকে

        সে-জাগরণের রূঢ় আলোয়

          চিনিব কি চোখে-চোখে।

        সন্ধ্যাবেলায় যে-দ্বারে দিয়েছ

               বিরহকরুণ নাড়া,

        মিলনের ঘায়ে সে-দ্বার খুলিলে

          কাহারো কি পাবে সাড়া।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

172
Verses
THE SUNFLOWER blushed to own the nameless flower as her kin.
The sun rose and smiled on it, saying, 'Are you well, my darling?'
আরো দেখুন
পূর্ণিমায়
Verses
  যাই যাই ডুবে যাই--
  আরো আরো ডুবে যাই,
বিহ্বল অবশ অচেতন।
  কোন্‌ খানে, কোন্‌ দূরে,
  নিশীথের কোন্‌ মাঝে,
কোথা হয়ে যাই নিমগন।
  হে ধরণী, পদতলে
  দিয়ো না দিয়ো না বাধা,
দাও মোরে দাও ছেড়ে দাও--
  অনন্ত দিবস-নিশি
  এমনি ডুবিতে থাকি,
তোমরা সুদূরে চলে যাও।
  এ কী রে উদার জ্যোৎস্না
  এ কী রে গভীর নিশি
দিশে দিশে স্তব্ধতা বিস্তারি!
  আঁখি দুটি মুদে আমি
  কোথা আছি কোথা গেছি
কিছু যেন বুঝিতে না পারি।
  দেখি দেখি আরো দেখি,
  অসীম উদার শূন্যে
আরো দূরে আরো দূরে যাই--
  দেখি আজ এ অনন্তে
  আপনা হারায়ে ফেলে
আর যেন খুঁজিয়া না পাই।
  তোমরা চাহিয়া থাকো
  জোছনা অমৃত-পানে
বিহ্বল বিলীন তারাগুলি।
অপার দিগন্ত ওগো,
  থাক এ মাথার 'পরে
দুই দিকে দুই পাখা তুলি।
  গান নাই, কথা নাই,
  শব্দ নাই, স্পর্শ নাই,
নাই ঘুম, নাই জাগরণ।
  কোথা কিছু নাহি জাগে,
  সর্বাঙ্গে জোছনা লাগে,
সর্বাঙ্গ পুলকে অচেতন।
  অসীমে সুনীলে শূন্যে
  বিশ্ব কোথা ভেসে গেছে
তারে যেন দেখা নাহি যায়--
  নিশীথের মাঝে শুধু
  মহান্‌ একাকী আমি
অতলেতে ডুবি রে কোথায়।
  গাও বিশ্ব গাও তুমি
  সুদূর অদৃশ্য হতে
গাও তব নাবিকের গান--
  শত লক্ষ যাত্রী লয়ে
  কোথায় যেতেছ তুমি
তাই ভাবি মুদিয়া নয়ান।
  অনন্ত রজনী শুধু
  ডুবে যাই নিভে যাই
মরে যাই অসীম মধুরে--
  বিন্দু হতে বিন্দু হয়ে
  মিশায়ে মিলায়ে যাই
অনন্তের সুদূর সুদূরে।
আরো দেখুন
মহুয়া
Verses
বিরক্ত আমার মন কিংশুকের এত গর্ব দেখি।
          নাহি ঘুচিবে কি
অশোকের অতিখ্যাতি, বকুলের মুখর সম্মান।
          ক্লান্ত কি হবে না কবিগান
          মালতীর মল্লিকার
          অভ্যর্থনা রচি বারম্বার?
রে মহুয়া, নামখানি গ্রাম্য তোর, লঘু ধ্বনি তার,
          উচ্চশিরে তবু রাজকুলবনিতার
          গৌরব রাখিস ঊর্ধ্বে ধরে।
              আমি তো দেখেছি তোরে
          বনস্পতিগোষ্ঠী-মাঝে অরণ্যসভায়
              অকুণ্ঠিত মর্যাদায়
                   আছিস দাঁড়ায়ে;
              শাখা যত আকাশে বাড়ায়ে
শাল তাল সপ্তপর্ণ অশ্বত্থের সাথে
          প্রথম প্রভাতে
সূর্য-অভিনন্দনের তুলেছিস গম্ভীর বন্দন।
অপ্রসন্ন আকাশের ভ্রূভঙ্গে যখন
     অরণ্য উদ্‌বিগ্ন করি তোলে,
সেই কালবৈশাখীর ক্রুদ্ধ কলরোলে
          শাখাব্যূহে ঘিরে
আশ্বাস করিস দান শঙ্কিত বিহঙ্গ অতিথিরে।
     অনাবৃষ্টিক্লিষ্ট দিনে,
          বিশীর্ণ বিপিনে,
     বন্যবুভুক্ষুর দল ফেরে রিক্ত পথে,
দুর্ভিক্ষের ভিক্ষাঞ্জলি ভরে তারা তোর সদাব্রতে।
বহুদীর্ঘ সাধনায় সুদৃঢ় উন্নত
          তপস্বীর মতো
     বিলাসের চাঞ্চল্যবিহীন,
সুগম্ভীর সেই তোরে দেখিয়াছি অন্যদিন
          অন্তরে অধীরা
ফাল্গুনের ফুলদোলে কোথা হতে জোগাস মদিরা
          পুষ্পপুটে;
বনে বনে মৌমাছিরা চঞ্চলিয়া উঠে।
     তোর সুরাপাত্র হতে বন্যনারী
সম্বল সংগ্রহ করে পূর্ণিমার নৃত্যমত্ততারই।
          রে অটল, রে কঠিন,
     কেমনে গোপনে রাত্রিদিন
তরল যৌবনবহ্নি মজ্জায় রাখিয়াছিলি ভরে।
          কানে কানে কহি তোরে--
বধূরে যেদিন পাব, ডাকিব "মহুয়া' নাম ধরে।
আরো দেখুন