১৬ (obosonno aloker)

অবসন্ন আলোকের

শরতের সায়াহ্নপ্রতিমা--

সংখ্যাহীন তারকার শান্ত নীরবতা

স্তব্ধ তার হৃদয়গহনে,

প্রতি ক্ষণে নিশ্বসিত নিঃশব্দ শুশ্রূষা।

আঁধারের গুহা দিয়ে

আসে তার জাগরণপথে

হতাশ্বাস রজনীর মন্থর প্রহরগুলি

প্রভাতের শুকতারা-পানে

পূজাগন্ধী বাতাসের

হিমস্পর্শ লয়ে।

সায়াহ্নের ম্লানদীপ্তি

সে করুণচ্ছবি

ধরিল কল্যাণরূপ

আজি প্রাতে অরুণকিরণে;

দেখিলাম, ধীরে আসে আশীর্বাদ বহি

শেফালিকুসুমরুচি আলোর থালায়।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

96
Verses
অন্তরের সে সম্পদ ফেলেছি হারায়ে।
তাই মোরা লজ্জানত; তাই সর্ব গায়ে
ক্ষুধার্ত দুর্ভর দৈন্য করিছে দংশন;
তাই আজি ব্রাহ্মণের বিরল বসন
সম্মান বহে না আর; নাহি ধ্যানবল,
শুধু জপমাত্র আছে; শুচিত্ব কেবল
চিত্তহীন অর্থহীন অভ্যস্ত আচার।
সন্তোষের অন্তরেতে বীর্য নাহি আর,
কেবল জড়ত্বপুঞ্জ;ধর্ম প্রাণহীন
ভারসম চেপে আছে আড়ষ্ট কঠিন।
তাই আজি দলে দলে চাই ছুটিবারে
পশ্চিমের পরিত্যক্ত বস্ত্র লুটিবারে
লুকাতে প্রাচীন  দৈন্য। বৃথা চেষ্টা ভাই,
সব সজ্জা লজ্জা-ভরা চিত্ত যেথা নাই।
আরো দেখুন
আহ্বান
Verses
আমারে যে ডাক দেবে এ জীবনে তারে বারংবার
            ফিরেছি ডাকিয়া।
সে নারী বিচিত্র বেশে মৃদু হেসে খুলিয়াছে দ্বার
            থাকিয়া থাকিয়া।
দীপখানি তুলে ধ'রে, মুখে চেয়ে, ক্ষণকাল থামি
            চিনেছে আমারে।
তারি সেই চাওয়া, সেই চেনার আলোক দিয়ে আমি
            চিনি আপনারে।
সহস্রের বন্যাস্রোতে জন্ম হতে মৃত্যুর আঁধারে
            চলে যাই ভেসে।
নিজেরে হারায়ে ফেলি অস্পষ্টের প্রচ্ছন্ন পাথারে
            কোন্‌ নিরুদ্দেশে।
নামহীন দীপ্তিহীন তৃপ্তিহীন আত্মবিস্মৃতির
            তমসার মাঝে।
কোথা হতে অকস্মাৎ কর মোরে খুঁজিয়া বাহির
            তাহা বুঝি না যে।
তব কণ্ঠে মোর নাম যেই শুনি, গান গেয়ে উঠি--
            "আছি, আমি আছি।'
সেই আপনার গানে লুপ্তির কুয়াশা ফেলে টুটি
            বাঁচি, আমি বাঁচি।
তুমি মোরে চাও যবে অব্যক্তের অখ্যাত আবাসে
            আলো উঠে জ্বলে--
অসাড়ের সাড়া জাগে, নিশ্চল তুষার গলে আসে
            নৃত্যকলরোলে।
নিঃশব্দচরণে উষা নিখিলের সুপ্তির দুয়ারে
            দাঁড়ায় একাকী,
রক্ত-অবগুণ্ঠনের অন্তরালে নাম ধরি কারে
            চলে যায় ডাকি।
অমনি প্রভাত তার বীণা হাতে বাহিরিয়া আসে,
            শূন্য ভরে গানে;
ঐশ্বর্য ছড়ায়ে দেয় মুক্তহস্তে আকাশে আকাশে,
            ক্লান্তি নাহি জানে।
কোন্‌ জ্যোতির্ময়ী হোথা অমরাবতীর বাতায়নে
            রচিতেছে গান
আলোকের বর্ণে বর্ণে; নির্নিমেষ উদ্দীপ্ত নয়নে
            করিছে আহ্বান।
তাই তো চাঞ্চল্য জাগে মাটির গভীর অন্ধকারে;
            রোমাঞ্চিত তৃণে।
ধরণী ক্রন্দিয়া উঠে, প্রাণস্পন্দ ছুটে চারিধারে
            বিপিনে বিপিনে।
তাই তো গোপন ধন খুঁজে পায় অকিঞ্চন ধূলি
            নিরুদ্ধ ভাণ্ডারে।
বর্ণে গন্ধে রূপে রসে আপনার দৈন্য যায় ভুলি
            পত্রপুষ্পভারে।
দেবতার প্রাথর্নায় কার্পণ্যের বন্ধ মুষ্টি খুলে,
            রিক্ততারে টুটি
রহস্যসমুদ্রতলে উন্মথিয়া উঠে উপকূলে
            রত্ন মুঠি মুঠি।
তুমি সে আকাশভ্রষ্ট প্রবাসী আলোক, হে কল্যাণী,
            দেবতার দূতী।
মর্তের গৃহের প্রান্তে বহিয়া এনেছে তব বাণী
            স্বর্গের আকূতি।
ভঙ্গুর মাটির ভাণ্ডে গুপ্ত আছে যে অমৃতবারি
            মৃত্যুর আড়ালে,
দেবতার হয়ে হেথা তাহারি সন্ধানে তুমি, নারী,
            দু বাহু বাড়ালে।
তাই তো কবির চিত্তে কল্পলোকে টুটিল অর্গল
            বেদনার বেগে,
মানসতরঙ্গতলে বাণীর সংগীতশতদল
            নেচে ওঠে জেগে।
সুপ্তির তিমিরবক্ষ দীর্ণ করে তেজস্বী তাপস
            দীপ্তির কৃপাণে;
বীরের দক্ষিণ হস্ত মুক্তিমন্ত্রে বজ্র করে বশ,
            অসত্যেরে হানে।
হে অভিসারিকা, তব বহুদূর পদধ্বনি লাগি
            আপনার মনে
বাণীহীন প্রতীক্ষায় আমি আজ একা বসে জাগি
            নির্জন প্রাঙ্গণে।
দীপ চাহে তব শিখা, মৌনী বীণা ধেয়ায় তোমার
            অঙ্গুলিপরশ।
তারায় তারায় খোঁজে তৃষ্ণায়-আতুর অন্ধকার
            সঙ্গসুধারস।
নিদ্রাহীন বেদনায় ভাবি কবে আসিবে পরানে
            চরম আহ্বান।
মনে জানি এ জীবনে সাঙ্গ হয় নাই পূর্ণ তানে
            মোর শেষ গান।
কোথা তুমি, শেষবার যে ছোঁয়াবে তব স্পর্শমণি
            আমার সংগীতে।
মহানিস্তব্ধের প্রান্তে কোথা বসে রয়েছ রমণী
            নীরব নিশীথে।
মহেন্দ্রের বজ্র হতে কালো চক্ষে বিদ্যুতের আলো
            আনো আনো ডাকি--
বর্ষণ-কাঙাল মোর মেঘের অন্তরে বহ্নি জ্বালো
            হে কালবৈশাখী।
অশ্রুভারে ক্লান্ত তার স্তব্ধ মূক অবরুদ্ধ দান
            কালো হয়ে উঠে।
বন্যাবেগে মুক্ত করো, রিক্ত করি করো পরিত্রাণ,
            সব লও লুটে।
তার পরে যাও যদি যেয়ো চলি, দিগন্ত-অঙ্গন
            হয়ে যাবে স্থির।
বিরহের শুভ্রতায় শূন্যে দেখা দিবে চিরন্তন
            শান্তি সুগম্ভীর।
স্বচ্ছ আনন্দের মাঝে মিলে যাবে সর্বশেষ লাভ,
            সর্বশেষ ক্ষতি--
দুঃখে সুখে পূর্ণ হবে অরূপসুন্দর আবির্ভাব,
            অশ্রুধৌত জ্যোতি।
ওরে পান্থ, কোথা তোর দিনান্তের যাত্রাসহচরী।
            দক্ষিণপবন
বহুক্ষণ চলে গেছে অরণ্যের পল্লব মর্মরি--
            নিকুঞ্জভবন
গন্ধের ইঙ্গিত দিয়ে বসন্তের উৎসবের পথ
            করে না প্রচার।
কাহারে ডাকিস তুই, গেছে চলে তার স্বর্ণরথ
            কোন্‌ সিন্ধুপার।
জানি জানি, আপনার অন্তরের গহনবাসীরে
            আজিও না চিনি।
সন্ধ্যারতিলগ্নে কেন আসিলে না নিভৃত মন্দিরে
            শেষ পূজারিনী।
কেন সাজালে না দীপ, তোমার পূজার মন্ত্র-গানে
            জাগায়ে দিলে না
তিমিররাত্রির বাণী, গোপনে যা লীন আছে প্রাণে
            দিনের অচেনা।
অসমাপ্ত পরিচয় অসম্পূর্ণ নৈবেদ্যের থালি
            নিতে হল তুলে।
রচিয়া রাখে নি মোর প্রেয়সী কি বরণের ডালি
            মরণের কূলে।
সেখানে কি পুষ্পবনে গীতহীনা রজনীর তারা
            নব জন্ম লভি
এই নীরবের বক্ষে নব ছন্দে ছুটাবে ফোয়ারা
            প্রভাতী ভৈরবী।
আরো দেখুন
দেখা
Verses
        মোটা মোটা কালো মেঘ
ক্লান্ত পালোয়ানের দল যেন,
           সমস্ত রাত বর্ষণের পর
        আকাশের এক পাশে এসে জমল
               ঘেঁষাঘেঁষি ক'রে।
        বাগানের দক্ষিণ সীমায় সেগুন গাছে
           মঞ্জরীর ঢেউগুলোতে হঠাৎ পড়ল আলো,
               চমকে উঠল বনের ছায়া।
        শ্রাবণ মাসের রৌদ্র দেখা দিয়েছে
               অনাহূত অতিথি,
        হাসির কোলাহল উঠল
           গাছে গাছে ডালে-পালায়।
        রোদ-পোহানো ভাবনাগুলো
           ভেসে ভেসে বেড়ালো মনের দূর গগনে।
               বেলা গেল অকাজে।
বিকেলে হঠাৎ এল গুরু গুরু ধ্বনি,
           কার যেন সংকেত।
এক মুহূর্তে মেঘের দল
    বুক ফুলিয়ে হু হু করে ছুটে আসে
           তাদের কোণ ছেড়ে।
বাঁধের জল হয়ে গেল কালো,
        বটের তলায় নামল থম্‌থমে অন্ধকার।
           দূর বনের পাতায় পাতায়
               বেজে ওঠে ধারাপতনের ভূমিকা।
দেখতে দেখতে ঘনবৃষ্টিতে পাণ্ডুর হয়ে আসে
           সমস্ত আকাশ,
               মাঠ ভেসে যায় জলে।
বুড়ো বুড়ো গাছগুলো আলুথালু মাতামাতি করে
           ছেলেমানুষের মতো;
ধৈর্য থাকে না তালের পাতায়, বাঁশের ডালে।
        একটু পরেই পালা হল শেষ--
           আকাশ নিকিয়ে গেল কে।
কৃষ্ণপক্ষের কৃশ চাঁদ যেন রোগশয্যা ছেড়ে
           ক্লান্ত হাসি নিয়ে অঙ্গনে বাহির হয়ে এল।
মন বলে, এই আমার যত দেখার টুকরো
           চাই নে হারাতে।
আমার সত্তর বছরের খেয়ায়
           কত চল্‌তি মুহূর্ত উঠে বসেছিল,
    তারা পার হয়ে গেছে অদৃশ্যে।
তার মধ্যে দুটি-একটি কুঁড়েমির দিনকে
           পিছনে রেখে যাব
        ছন্দে-গাঁথা কুঁড়েমির কারুকাজে,
    তারা জানিয়ে দেবে আশ্চর্য কথাটি
        একদিন আমি দেখেছিলেম এই সব-কিছু।
আরো দেখুন