আনমনা (anmona)

                    আনমনা গো, আনমনা,

          তোমার কাছে আমার বাণীর মালাখানি আনব না।

                      বার্তা আমার ব্যর্থ হবে,

                          সত্য আমার বুঝবে কবে?

                      তোমারো মন জানব না,

                       আন্‌মনা গো, আন্‌মনা।

                লগ্ন যদি হয় অনুকূল মৌন মধুর সাঁঝে,

             নয়ন তোমার মগ্ন যখন ম্লান আলোর মাঝে,

                   দেব তোমায় শান্ত সুরের সান্ত্বনা,

                       আনমনা গো, আনমনা।

          জনশূন্য তটের পানে ফিরবে হাঁসের দল;

                       স্বচ্ছ নদীর জল

                আকাশ-পানে রইবে পেতে কান

             বুকের তলে শুনবে ব'লে গ্রহতারার গান;

                       কুলায়-ফেরা পাখি

       নীল আকাশের বিরামখানি রাখবে ডানায় ঢাকি;

                বেণুশাখার অন্তরালে অস্তপারের রবি

       আঁকবে মেঘে মুছবে আবার শেষ-বিদায়ের ছবি;

          স্তব্ধ হবে দিনের বেলার ক্ষুব্ধ হাওয়ার দোলা,

              তখন তোমার মন যদি রয় খোলা --

                       তখন সন্ধ্যাতারা

                   পায় যদি তার সাড়া

              তোমার উদার আঁখিতারার পারে,

          কনকচাঁপার গন্ধ-ছোঁওয়া বনের অন্ধকারে

       ক্লান্তি-অলস ভাব্‌না যদি ফুল-বিছানো ভুঁয়ে

            মেলিয়ে ছায়া এলিয়ে থাকে শুয়ে;

          ছন্দে গাঁথা বাণী তখন পড়ব তোমার কানে

                   মন্দ মৃদুল তানে --

          ঝিল্লি যেমন শালের বনে নিদ্রানীরব রাতে

       অন্ধকারের জপের মালায় একটানা সুর গাঁথে।

             একলা তোমার বিজন প্রাণের প্রাঙ্গণে

                   প্রান্তে বসে একমনে

             এঁকে যাব আমার গানের আল্‌পনা

                   আনমনা গো, আনমনা।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

৯৯
Verses
৯৯
       ফুরাইলে দিবসের পালা
আকাশ সূর্যেরে জপে লয়ে তারকার জপমালা॥  
আরো দেখুন
15
Verses
তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি
বিচিত্র ছলনাজালে,
হে ছলনাময়ী।
মিথ্যা বিশ্বাসের ফাঁদ পেতেছ নিপুণ হাতে
সরল জীবনে।
এই প্রবঞ্চনা দিয়ে মহত্ত্বেরে করেছ চিহ্নিত;
তার তরে রাখ নি গোপন রাত্রি।
তোমার জ্যোতিষ্ক তা'রে
যে-পথ দেখায়
সে যে তার অন্তরের পথ,
সে যে চিরস্বচ্ছ,
সহজ বিশ্বাসে সে যে
করে তা'রে চিরসমুজ্জল।
বাহিরে কুটিল হোক অন্তরে সে ঋজু,
এই নিয়ে তাহার গৌরব।
লোকে তা'রে বলে বিড়ম্বিত।
সত্যেরে সে পায়
আপন আলোকে ধৌত অন্তরে অন্তরে।
কিছুতে পারে না তা'রে প্রবঞ্চিতে,
শেষ পুরস্কার নিয়ে যায় সে যে
আপন ভান্ডারে।
অনায়াসে যে পেরেছে ছলনা সহিতে
সে পায় তোমার হাতে
শান্তির অক্ষয় অধিকার।
আরো দেখুন
রাজার মতো বেশে
Verses
       রাজার মতো বেশে তুমি সাজাও যে শিশুরে
              পরাও যারে মণিরতন-হার--
       খেলাধুলা আনন্দ তার সকলি যায় ঘুরে,
              বসন-ভুষণ হয় যে বিষম ভার।
                   ছেঁড়ে পাছে আঘাত লাগি,
                   পাছে ধুলায় হয় সে দাগি,
       আপনাকে তাই সরিয়ে রাখে সবার হতে দূরে,
              চলতে গেলে ভাবনা ধরে তার--
       রাজার মতো বেশে তুমি সাজাও যে শিশুরে,
              পরাও যারে মণিরতন-হার।
              কী হবে মা অমনতরো রাজার মতো সাজে,
                    কী হবে ওই মণিরতন-হারে।
              দুয়ার খুলে দাও যদি তো ছুটি পথের মাঝে
                       রৌদ্রবায়ু-ধুলাকাদার পাড়ে।
                           যেথায় বিশ্বজনের মেলা
                           সমস্ত দিন নানান খেলা,
       চারি দিকে বিরাট গাথা বাজে হাজার সুরে,
              সেথায় সে যে পায় না অধিকার,
       রাজার মতো বেশে তুমি সাজাও যে শিশুরে,
              পরাও যারে মণিরতন-হার।
আরো দেখুন