খেলনার মুক্তি (khelnar mukti)

এক আছে মণিদিদি,

আর আছে তার ঘরে জাপানি পুতুল

           নাম হানাসান।

        পরেছে জাপানি পেশোয়াজ

ফিকে সবুজের 'পরে ফুলকাটা সোনালি রঙের।

        বিলেতের হাট থেকে এল তার বর;

সেকালের রাজপুত্র কোমরেতে তলোয়ার বাঁধা,

        মাথার টুপিতে উঁচু পাখির পালখ--

           কাল হবে অধিবাস, পশু হবে বিয়ে।

 

        সন্ধে হল।

    পালঙ্কেতে শুয়ে হানাসান।

           জ্বলে ইলেক্‌ট্রিক বাতি।

    কোথা থেকে এল এক কালো চামচিকে,

           উড়ে উড়ে ফেরে ঘুরে ঘুরে,

               সঙ্গে তার ঘোরে ছায়া।

           হানাসান ডেকে বলে,

    "চামচিকে, লক্ষ্মী ভাই, আমাকে উড়িয়ে নিয়ে যাও

           মেঘেদের দেশে।

জন্মেছি খেলনা হয়ে--

        যেখানে খেলার স্বর্গ

           সেইখানে হয় যেন গতি

               ছুটির খেলায়।'

 

মণিদিদি এসে দেখে পালঙ্কে তো নেই হানাসান।

        কোথা গেল! কোথা গেল!

    বটগাছে আঙিনার পারে

           বাসা ক'রে আছে ব্যাঙ্গমা;

        সে বলে, "আমি তো জানি,

               চামচিকে ভায়া

        তাকে নিয়ে উড়ে চলে গেছে।'

মণি বলে, "হেই দাদা, হেই ব্যাঙ্গমা,

        আমাকেও নিয়ে চলো,

           ফিরিয়ে আনি গে।'

 

ব্যাঙ্গমা মেলে দিল পাখা,

           মণিদিদি উড়ে চলে সারা রাত্রি ধ'রে।

    ভোর হল, এল চিত্রকূটগিরি--

               সেইখানে মেঘেদের পাড়া।

মণি ডাকে, "হানাসান! কোথা হানাসান!

        খেলা যে আমার প'ড়ে আছে।'

 

        নীল মেঘ বলে এসে,

"মানুষ কী খেলা জানে?

    খেলা দিয়ে শুধু বাঁধে যাকে নিয়ে খেলে।'

মণি বলে, "তোমাদের খেলা কিরকম।'

        কালো মেঘ ভেসে এল

           হেসে চিকিমিকি,

               ডেকে গুরু গুরু

    বলে, "ওই চেয়ে দেখো, হানাসান হল নানাখানা--

           ওর ছুটি নানা রঙে

               নানা চেহারায়,

                   নানা দিকে

                       বাতাসে বাতাসে

                          আলোতে আলোতে।'

 

মণি বলে, "ব্যাঙ্গমা দাদা,

    এ দিকে বিয়ে যে ঠিক--

        বর এসে কী বলবে শেষে।'

ব্যাঙ্গমা হেসে বলে,

    "আছে চামচিকে ভায়া,

        বরকেও নিয়ে দেবে পাড়ি।

           বিয়ের খেলাটা সেও

        মিলে যাবে সূর্যাস্তের শূন্যে এসে

           গোধূলির মেঘে।'

 

        মণি কেঁদে বলে, "তবে,

           শুধু কি রইবে বাকি কান্নার খেলা।'

        ব্যাঙ্গমা বলে, "মণিদিদি,

           রাত হয়ে যাবে শেষ,

    কাল সকালের ফোটা বৃষ্টি-ধোওয়া মালতীর ফুলে

           সে খেলাও চিনবে না কেউ।'

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

24
Verses
I ASK FOR AN audience from you, my King, in your solitary chamber.
Call me from the crowd.
When your gate was kept open for all I entered your courtyard
with the bustling throng, and in the confusion found you not.
Now when at night they take up their lanterns and go by different
roads to their different homes, allow me to linger here for
a moment, standing at your feet, and hold up my lamp and see your face.
আরো দেখুন
বঞ্চিত
Verses
ফুলিদের বাড়ি থেকে এসেই দেখি
      পোস্টকার্ডখানা আয়নার সামনেই,
            কখন এসেছে জানি নে তো।
মনে হল, সময় নেই একটুও;
            গাড়ি ধরতে পারব না বুঝি।
                 বাক্স থেকে টাকা বের করতে গিয়ে
                       ছড়িয়ে পড়ল সিকি দুয়ানি,
                    কিছু কুড়োলেম, কিছু রইল বা,
                          গ'নে ওঠা হল না।
                 কাপড় ছাড়ি কখন।
            নীল রঙের রেশমি রুমালখানা
      দিলেম মাথার উপর তুলে কাঁটায় বিঁধে।
    চুলটাকে জড়িয়ে নিলুম কোনোমতে
          টবের গাছ থেকে তুলে নিলুম
                চন্দ্রমল্লিকা বাসন্তীরঙের।
স্টেশনে এসে দেখি গাড়ি আসেই না,
      জানি নে কতক্ষণ গেল--
            পাঁচ মিনিট, হয়তো বা পঁচিশ মিনিট।
গাড়িতে উঠে দেখি চেলি-পরা বিয়ের কনে দলে-বলে;
         আমার চোখে কিছুই পড়ে না যেন,
     খানিকটা লাল রঙের কুয়াশা, একখানা ফিকে ছবি।
      গাড়ি চলেছে ঘটর ঘটর, বেজে উঠছে বাঁশি,
               উড়ে আসছে কয়লার গুঁড়ো,
                    কেবলই মুখ মুছছি রুমালে।
            কোন্‌-এক স্টেশনে
    বাঁকে করে ছানা এনেছে গয়লার দল।
         গাড়িটাকে দেরি করাচ্ছে মিছিমিছি।
             হুইস্‌ল্‌ দিলে শেষকালে;
         সাড়া পড়ল চাকাগুলোয়, চলল গাড়ি।
             গাছপালা, ঘরবাড়ি, পানাপুকুর
          ছুটেছে জানলার দু ধারে পিছনের দিকে --
      পৃথিবী যেন কোথায় কী ফেলে এসেছে ভুলে,
                 ফিরে আর পায় কি-না পায়।
              গাড়ি চলেছে ঘটর ঘটর।
      মাঝখানে অকারণে গাড়িটা থামল অনেক ক্ষণ,
      খেতে খেতে খাবার গলায় বেধে যাবার মতো।
                            আবার বাঁশি বাজল,
                    আবার চলল গাড়ি ঘটর ঘটর।
                          শেষে দেখা দিল হাবড়া স্টেশন।
     চাইলেম না জানালার বাইরে,
                   মনে স্থির করে আছি --
খুঁজতে খুঁজতে আমাকে আবিষ্কার করবে একজন এসে,
         তার পরে দুজনের হাসি।
বিয়ের কনে, টোপর-হাতে আত্মীয়স্বজন,
         সবাই গেল চলে।
      কুলি এসে চাইলে মুখের দিকে,
   দেখলে গাড়ির ভিতরটাতে মুখ বাড়িয়ে,
            কিছুই নেই।
যারা কনেকে নিতে এসেছিল গেল চলে।
         যে জনস্রোত এ মুখে আসছিল
                 ফিরল গেটের দিকে।
গট গট করে চলতে চলতে
গার্ড্‌ আমার জানালার দিকে একটু তাকালে,
ভাবলে মেয়েটা নামে না কেন।
     মেয়েটাকে নামতেই হল।
এই আগন্তুকের ভিড়ের মধ্যে
আমি একটিমাত্র খাপছাড়া।
      মনে হল প্লাটফর্‌ম্‌টার
এক প্রান্ত থেকে আর-এক প্রান্ত প্রশ্ন করছে আমাকে;
         জবাব দিচ্ছি নীরবে,
                 "না এলেই হত।"
         আর-একবার পড়লুম পোস্টকার্ড্‌খানা --
                       ভুল করি নি তো?
এখন ফিরতি গাড়ি নেই একটাও।
যদি বা থাকত, তবু কি ...
বুকের মধ্যে পাক খেয়ে বেড়াচ্ছে
            কত রকমের "হয়তো'--
                 সবগুলিই সাংঘাতিক।
      বেরিয়ে এসে তাকিয়ে রইলুম ব্রিজটার দিকে।
            রাস্তার লোক কী ভাবলে জানি নে।
                  সামনে ছিল বাস্‌, উঠে পড়লুম।
                       ফেলে দিলুম চন্দ্রমল্লিকাটা।
আরো দেখুন
254
Verses
THE REAL WITH its meaning read wrong and emphasis misplaced is the unreal.
আরো দেখুন