একজন লোক (ekjon lok)

আধবুড়ো হিন্দুস্থানি,

               রোগা লম্বা মানুষ--

পাকা গোঁফ, দাড়ি-কামানো মুখ

               শুকিয়ে-আসা ফলের মতো।

ছিটের মের্‌জাই গায়ে, মালকোঁচা ধুতি,

    বাঁ কাঁধে ছাতি, ডান হাতে খাটো লাঠি,

পায়ে নাগরা-- চলেছে শহরের দিকে।

           ভাদ্রমাসের সকালবেলা,

    পাতলা মেঘের ঝাপসা রোদ্‌দুর;

কাল গিয়েছে কম্বল-চাপা হাঁপিয়ে-ওঠা রাত,

           আজ সকালে কুয়াশা-ভিজে হাওয়া

    দোমনা ক'রে বইছে আমলকীর কচি ডালে।

 

        পথিকটিকে দেখা গেল

    আমার বিশ্বের শেষরেখাতে

যেখানে বস্তুহারা ছায়াছবির চলাচল।

        ওকে শুধু জানলুম একজন লোক।

    ওর নাম নেই, সংজ্ঞা নেই, বেদনা নেই,

        কিছুতে নেই কোনো দরকার--

           কেবল হাটে-চলার পথে

        ভাদ্রমাসের সকালবেলায়

           একজন লোক।

 

        সেও আমায় গেছে দেখে

তার জগতের পোড়ো জমির শেষ সীমানায়,

           যেখানকার নীল কুয়াশার মাঝে

        কারো সঙ্গে সম্বন্ধ নেই কারো,

           যেখানে আমি-- একজন লোক।

 

    তার ঘরে তার বাছুর আছে,

        ময়না আছে খাঁচায়;

স্ত্রী আছে তার, জাঁতায় আটা ভাঙে,

        পিতলের মোটা কাঁকন হাতে;

আছে তার ধোবা প্রতিবেশী,

           আছে মুদি দোকানদার

        দেনা আছে কাবুলিদের কাছে;

               কোনোখানেই নেই

                   আমি-- একজন লোক।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

25
Verses
GOD SEEKS comrades and claims love,
the Devil seeks slaves and claims obedience.
আরো দেখুন
ধর্মমোহ
Verses
ধর্মের বেশে মোহ যারে এসে ধরে
           অন্ধ সে জন মারে আর শুধু মরে।
                 নাস্তিক সেও পায়ে বিধাতার বর,
                 ধার্মিকতার করে না আড়ম্বর।
           শ্রদ্ধা করিয়া জ্বালে বুদ্ধির আলো,
           শাস্ত্রে মানে না, মানে মানুষের ভালো।
           বিধর্ম বলি মারে পরধর্মেরে,
           নিজ ধর্মের অপমান করি ফেরে,
                    পিতার নামেতে হানে তাঁর সন্তানে,
                     আচার লইয়া বিচার নাহিকো জানে,
           পূজাগৃহে তোলে রক্তমাখানো ধ্বজা, --
           দেবতার নামে এ যে শয়তান ভজা।
           অনেক যুগের লজ্জা ও লাঞ্ছনা,
           বর্বরতার বিকারবিড়ম্বনা
                 ধর্মের মাঝে আশ্রয় দিল যারা
                 আবর্জনায় রচে তারা নিজ কারা। --
           প্রলয়ের ওই শুনি শৃঙ্গধ্বনি,
           মহাকাল আসে লয়ে সম্মার্জনী।
           যে দেবে মুক্তি তারে খুঁটিরূপে গাড়া,
           যে মিলাবে তারে করিল ভেদের খাঁড়া,
                 যে আনিবে প্রেম অমৃত-উৎস হতে
                 তারি নামে ধরা ভাসায় বিষের স্রোতে,
           তরী ফুটা করি পার হতে গিয়ে ডোবে --
           তবু এরা কারে অপবাদ দেয় ক্ষোভে।
           হে ধর্মরাজ, ধর্মবিকার নাশি
           ধর্মমূঢ়জনেরে বাঁচাও আসি।
                 যে পূজার বেদি রক্তে গিয়েছে ভেসে
                 ভাঙো ভাঙো, আজি ভাঙো তারে নিঃশেষে --
           ধর্মকারার প্রাচীরে বজ্র হানো,
           এ অভাগা দেশে জ্ঞানের আলোক আনো।
আরো দেখুন
11
Verses
কালের প্রবল আবর্তে প্রতিহত
ফেনপুঞ্জের মতো,
আলোকে আঁধারে রঞ্জিত এই মায়া,
অদেহ ধরিল কায়া।
সত্তা আমার,জানি না, সে কোথা হতে
হল উত্থিত নিত্যধাবিত স্রোতে।
সহসা অভাবনীয়
অদৃশ্য এক আরম্ভ-মাঝে কেন্দ্র রচিল স্বীয়।
বিশ্বসত্তা মাঝখানে দিল উঁকি,
এ কৌতুকের পশ্চাতে আছে জানি না কে কৌতুকী।
ক্ষণিকারে নিয়ে অসীমের এই খেলা,
নববিকাশের সাথে গেঁথে দেয় শেষ-বিনাশের হেলা,
আলোকে কালের মৃদঙ্গ উঠে বেজে,
গোপনে ক্ষণিকা দেখা দিতে আসে মুখ-ঢাকা বধূ সেজে,
গলায় পরিয়া হার
বুদ্‌বুদ্‌ মণিকার।
সৃষ্টির মাঝে আসন করে সে লাভ,
অনন্ত তারে অন্তসীমায় জানায় অবির্ভাব।
আরো দেখুন