নারীপ্রগতি (nariprogoti)

শুনেছিনু নাকি মোটরের তেল

পথের মাঝেই করেছিল ফেল,

তবু তুমি গাড়ি ধরেছ দৌড়ে--

হেন বীরনারী আছে কি গৌড়ে।

নারীপ্রগতির মহাদিনে আজি

নারীপদগতি জিনিল এ বাজি।

হায় কালিদাস, হায় ভবভূতি,

এই গতি আর এই-সব জুতি

তোমাদের গজগামিনীর দিনে

কবিকল্পনা নেয় নি তো চিনে;

কেনে নি ইস্‌টিশনের টিকেট;

হৃদয়ক্ষেত্রে খেলে নি ক্রিকেট;

চণ্ড বেগের ডাণ্ডাগোলায়--

তারা তো মন্দ-মধুর দোলায়

শান্ত মিলন-বিরহ-বন্ধে

বেঁধেছিল মন শিথিল ছন্দে।

রেলগাড়ি আর মোটরের যুগে

বহু অপঘাত চলিয়াছি ভুগে--

তাহারি মধ্যে এল সম্প্রতি

এ দুঃসাহস, এ তড়িৎগতি;

পুরুষেরে দিল দুর্দাম তাড়া,

দুর্বার তেজে নিষ্ঠুর নাড়া।

ভূকম্পনের বিগ্রহবতী

প্রলয়ধাতার নিগ্রহ অতি

বহন করিয়া এসেছে বঙ্গে

পাদুকামুখর চরণভঙ্গে।

সে ধ্বনি শুনিয়া পরলোকে বসি,

কবি কালিদাস, পড়িল কি খসি

উষ্ণীষ তব; দুরুদুরু বুকে

ছন্দ কিছু কি জুটিয়াছে মুখে।

একটি প্রশ্ন শুধাব এবার--

অকপটে তারি জবাব দেবার

আগে একবার ভেবে দেখো মনে,

উত্তর পেলে রাখিব গোপনে--

স্নিগ্ধচ্ছায়া ছিলে যে অতীতে

তেয়াগিয়া তাহা তড়িৎগতিতে

নিতে চাও কভু তীব্রভাষণ

আধুনিকাদের কবির আসন?

মেঘদূত ছেড়ে বিদ্যুৎ-দূত

লিখিতে পাবে কি ভাষা মজবুত।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

যোগিয়া
Verses
     বহুদিন পরে আজি মেঘ গেছে চলে,
     রবির কিরণসুধা আকাশে উথলে।
স্নিগ্ধ শ্যাম পত্রপুটে              আলোক ঝলকি উঠে
          পুলক নাচিছে গাছে গাছে।
নবীন যৌবন যেন                  প্রেমের মিলনে কাঁপে,
          আনন্দ বিদ্যুৎ-আলো নাচে।
জুঁই সরোবরতীরে                 নিশ্বাস ফেলিয়া ধীরে
          ঝরিয়া পড়িতে চায় ভুঁয়ে,
অতি মৃদু হাসি তার,              বরষার বৃষ্টিধার
          গন্ধটুকু নিয়ে গেছে ধুয়ে।
আজিকে আপন প্রাণে             না জানি বা কোন্‌খানে
          যোগিয়া রাগিণী গায় কে রে।
ধীরে ধীরে সুর তার               মিলাইছে চারি ধার,
          আচ্ছন্ন করিছে প্রভাতেরে।
গাছপালা চারি ভিতে               সংগীতের মাধুরীতে
          মগ্ন হয়ে ধরে স্বপ্নছবি।
এ প্রভাত মনে হয়                 আরেক প্রভাতময়,
          রবি যেন আর কোনো রবি।
ভাবিতেছি মনে মনে               কোথা কোন্‌ উপবনে
          কী ভাবে সে গান গাইছে না জানি,
চোখে তার অশ্রুরেখা   একটু দেছে কি দেখা,
          ছড়ায়েছে চরণ দুখানি।
তার কি পায়ের কাছে    বাঁশিটি পড়িয়া আছে--
          আলোছায়া পড়েছে কপোলে।
মলিন মালাটি তুলি                ছিঁড়ি ছিঁড়ি পাতাগুলি
          ভাসাইছে সরসীর জলে।
বিষাদ-কাহিনী তার               সাধ যায় শুনিবার
          কোন্‌খানে তাহার ভবন।
তাহার আঁখির কাছে               যার মুখ জেগে আছে
          তাহারে বা দেখিতে কেমন।
এ কী রে আকুল ভাষা!          প্রাণের নিরাশ আশা
          পল্লবের মর্মরে মিশালো।
না জানি কাহারে চায়    তার দেখা নাহি পায়
          ম্লান তাই প্রভাতের আলো।
এমন কত-না প্রাতে               চাহিয়া আকাশপাতে
          কত লোক ফেলেছে নিশ্বাস,
সে-সব প্রভাত গেছে,              তারা তার সাথে গেছে
          লয়ে গেছে হৃদয়-হুতাশ!
এমন কত না আশা                কত ম্লান ভালোবাসা
          প্রতিদিন পড়িছে ঝরিয়া,
তাদের হৃদয়-ব্যথা                তাদের মরণ-গাথা
          কে গাইছে একত্র করিয়া,
পরস্পর পরস্পরে                 ডাকিতেছে নাম ধরে,
          কেহ তাহা শুনিতে না পায়।
কাছে আসে, বসে পাশে,তবুও কথা না ভাষে,
          অশ্রুজলে ফিরে ফিরে যায়।
চায় তবু নাহি পায়,                 অবশেষে নাহি চায়,
          অবশেষে নাহি গায় গান,
ধীরে ধীরে শূন্য হিয়া              বনের ছায়ায় গিয়া
          মুছে আসে সজল নয়ান।
আরো দেখুন
35
Verses
II.113. valam, awo hamare geh re
MY BODY AND my mind are grieved for the want of Thee;
O my Beloved! come to my house.
When people say I am Thy bride, I am ashamed; for I have not touched Thy heart with my heart.
Then what is this love of mine? I have no taste for food, I have no sleep; my heart is ever restless within doors and without.
As water is to the thirsty, so is the lover to the bride. Who is there that will carry my news to my Beloved?
Kabir is restless: he is dying for sight of Him.
আরো দেখুন
সবা হতে রাখব তোমায়
Verses
       সবা হতে রাখব তোমায়
              আড়াল ক'রে
       হেন পূজার ঘর কোথা পাই
              আমার ঘরে।
                                  যদি আমার দিনে রাতে,
                                  যদি আমার সবার সাথে
                                  দয়া ক'রে দাও ধরা, তো
                                         রাখব ধরে।
       মান দিব যে তেমন মানী
              নই তো আমি,
       পূজা করি সে আয়োজন
              নাই তো স্বামী।
                                  যদি তোমায় ভালোবাসি,
                                  আপনি বেজে উঠবে বাঁশি,
                                  আপনি ফুটে উঠবে কুসুম,
                                         কানন ভরে।
আরো দেখুন