৭৩ (soba hote rakhbo tomay)

       সবা হতে রাখব তোমায়

              আড়াল ক'রে

       হেন পূজার ঘর কোথা পাই

              আমার ঘরে।

                                  যদি আমার দিনে রাতে,

                                  যদি আমার সবার সাথে

                                  দয়া ক'রে দাও ধরা, তো

                                         রাখব ধরে।

 

       মান দিব যে তেমন মানী

              নই তো আমি,

       পূজা করি সে আয়োজন

              নাই তো স্বামী।

                                  যদি তোমায় ভালোবাসি,

                                  আপনি বেজে উঠবে বাঁশি,

                                  আপনি ফুটে উঠবে কুসুম,

                                         কানন ভরে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

শ্যামা
Verses
             উজ্জ্বল শ্যামল বর্ণ, গলায় পলার হারখানি।
                         চেয়েছি অবাক মানি
                              তার পানে।
                 বড়ো বড়ো কাজল নয়ানে
             অসংকোচে ছিল চেয়ে
                         নবকৈশোরের মেয়ে,
             ছিল তারি কাছাকাছি বয়স আমার।
        স্পষ্ট মনে পড়ে ছবি। ঘরের দক্ষিণে খোলা দ্বার,
             সকালবেলার রোদে বাদামগাছের মাথা
        ফিকে আকাশের নীলে মেলেছে চিকন ঘন পাতা।
             একখানি সাদা শাড়ি কাঁচা কচি গায়ে,
        কালো পাড় দেহ ঘিরে ঘুরিয়া পড়েছে তার পায়ে।
             দুখানি সোনার চুড়ি নিটোল দু হাতে,
                   ছুটির মধ্যাহ্নে পড়া কাহিনীর পাতে
        ওই মূর্তিখানি ছিল। ডেকেছে সে মোরে মাঝে মাঝে
             বিধির খেয়াল যেথা নানাবিধ সাজে
        রচে মরীচিকালোক নাগালের পারে
             বালকের স্বপ্নের কিনারে।
                   দেহ ধরি মায়া
        আমার শরীরে মনে ফেলিল অদৃশ্য ছায়া
                   সূক্ষ্ণ স্পর্শময়ী।
             সাহস হল না কথা কই।
        হৃদয় ব্যথিল মোর অতিমৃদু গুঞ্জরিত সুরে--
             ও যে দূরে, ও যে বহুদূরে,
        যত দূরে শিরীষের ঊর্ধ্বশাখা যেথা হতে ধীরে
             ক্ষীণ গন্ধ নেমে আসে প্রাণের গভীরে।
                         একদিন পুতুলের বিয়ে,
                              পত্র গেল দিয়ে।
                   কলরব করেছিল হেসে খেলে
                   নিমন্ত্রিত দল। আমি মুখচোরা ছেলে
             একপাশে সংকোচে পীড়িত। সন্ধ্যা গেল বৃথা,
        পরিবেশনের ভাগে পেয়েছিনু মনে নেই কী তা।
             দেখেছিনু, দ্রুতগতি দুখানি পা আসে যায় ফিরে,
                   কালো পাড় নাচে তারে ঘিরে।
               কটাক্ষে দেখেছি, তার কাঁকনে নিরেট রোদ
        দু হাতে পড়েছে যেন বাঁধা। অনুরোধ উপরোধ
                   শুনেছিনু তার স্নিগ্ধ স্বরে।
             ফিরে এসে ঘরে
                   মনে বেজেছিল তারি প্রতিধ্বনি
                         অর্ধেক রজনী।
                   তার পরে একদিন
             জানাশোনা হল বাধাহীন।
        একদিন নিয়ে তার ডাকনাম
                               তারে ডাকিলাম।
                   একদিন ঘুচে গেল ভয়,
        পরিহাসে পরিহাসে হল দোঁহে কথা-বিনিময়।
             কখনো বা গড়ে-তোলা দোষ
                   ঘটায়েছে ছল-করা রোষ।
        কখনো বা শ্লেষবাক্যে নিষ্ঠুর কৌতুক
                   হেনেছিল দুখ।
             কখনো বা দিয়েছিল অপবাদ
                   অনবধানের অপরাধ।
        কখনো দেখেছি তার অযত্নের সাজ--
             রন্ধনে ছিল সে ব্যস্ত, পায় নাই লাজ।
                   পুরুষসুলভ মোর কত মূঢ়তারে
        ধিক্‌কার দিয়েছে নিজ স্ত্রীবুদ্ধির তীব্র অহংকারে।
             একদিন বলেছিল, "জানি হাত দেখা।"
        হাতে তুলে নিয়ে হাত নতশিরে গণেছিল রেখা--
             বলেছিল, "তোমার স্বভাব
        প্রেমের লক্ষণে দীন।" দিই নাই কোনোই জবাব।
             পরশের সত্য পুরস্কার
        খণ্ডিয়া দিয়েছে দোষ মিথ্যা সে নিন্দার।
                         তবু ঘুচিল না
                   অসম্পূর্ণ চেনার বেদনা।
             সুন্দরের দূরত্বের কখনো হয় না ক্ষয়,
        কাছে পেয়ে না পাওয়ার দেয় অফুরন্ত পরিচয়।
        পুলকে বিষাদে মেশা দিন পরে দিন
             পশ্চিমে দিগন্তে হয় লীন।
        চৈত্রের আকাশতলে নীলিমার লাবণ্য ঘনাল,
                         আশ্বিনের আলো
                   বাজাল সোনার ধানে ছুটির সানাই।
        চলেছে মন্থর তরী নিরুদ্দেশে স্বপ্নেতে বোঝাই।
আরো দেখুন
7
Verses
অন্ধকারের পার হতে আনি
      প্রভাতসূর্য মন্দ্রিল বাণী,
           জাগালো বিচিত্রেরে
      এক আলোকের আলিঙ্গনের ঘেরে।
আরো দেখুন
শেষ
Verses
হে অশেষ, তব হাতে শেষ
                  ধরে কী অপূর্ব বেশ,
                      কী মহিমা।
                  জ্যোতির্হীন সীমা
                মৃত্যুর অগ্নিতে জ্বলি
                             যায় গলি,
       গড়ে তোলে অসীমের অলংকার।
হয় সে অমৃতপাত্র, সীমার ফুরালে অহংকার।
       শেষের দীপালিরাত্রে,হে অশেষ,
অমা-অন্ধকার-রন্ধ্রে দেখা যায় তোমার উদ্দেশ।
           ভোরের বাতাসে
       শেফালি ঝরিয়া পড়ে ঘাসে,
তারাহারা রাত্রির বীণার
           চরম ঝংকার।
       যামিনীর তন্দ্রাহীন দীর্ঘ পথ ঘুরি
প্রভাত-আকাশে চন্দ্র, করুণ মাধুরী
        শেষ করে যায় তার
উদয়সূর্যের পানে শান্ত নমস্কার।
       যখন কর্মের দিন
           ম্লান ক্ষীণ
গোষ্ঠ-চলা ধেনুসম সন্ধ্যার সমীরে
       চলে ধীরে আঁধারের তীরে --
      তখন সোনার পাত্র হতে
           কী অজস্র স্রোতে
তাহারে করাও স্নান অন্তিমের সৌন্দর্যধারায়।
       যখন বর্ষার মেঘ নিঃশেষে হারায়
                 বর্ষণের সকল সম্বল,
শরতে শিশুর জন্ম দাও তারে শুভ্র সমুজ্জল।
       হে অশেষ, তোমার অঙ্গনে
   ভারমুক্ত তার সাথে ক্ষণে ক্ষণে
           খেলায় রঙের খেলা,
       ভাসায়ে আলোর ভেলা,
  বিচিত্র করিয়া তোল তার শেষ বেলা।
  ক্লান্ত আমি তারি লাগি, অন্তর তৃষিত --
কত দূরে আছে সেই খেলাভরা মুক্তির অমৃত।
       বধূ যথা গোধূলিতে শেষ ঘট ভরে
বেণুচ্ছায়াঘন পথে অন্ধকারে ফিরে যায় ঘরে,
       সেই মতো, হে সুন্দর, মোর অবসান
              তোমার মাধুরী হতে
                      সুধাস্রোতে
       ভরে নিতে চায় তার দিনান্তের গান।
           হে ভীষণ, তব স্পর্শঘাত
                  অকস্মাৎ
           মোর গূঢ় চিত্ত হতে কবে
  চরম বেদনা-উৎস মুক্ত করি অগ্নিমহোৎসবে
          অপূর্ণের যত দুঃখ যত অসম্মান
উচ্ছ্বসিত রুদ্র হাস্যে করি দিবে শেষ দীপ্যমান।
আরো দেখুন