সিয়াম (siyam 2)

বিদায়কালে

      কোন্‌ সে সুদূর মৈত্রী আপন প্রচ্ছন্ন অভিজ্ঞানে

                    আমার গোপন ধ্যানে

                       চিহ্নিত করেছে তব নাম,

                                হে সিয়াম,

      বহু পূর্বে যুগান্তরে মিলনের দিনে।

                 মুহূর্তে লয়েছি তাই চিনে

                       তোমারে আপন বলি,

             তাই আজ ভরিয়াছি ক্ষণিকের পথিক-অঞ্জলি

                   পুরাতন প্রণয়ের স্মরণের দানে,

           সপ্তাহ হয়েছে পূর্ণ শতাব্দীর শব্দহীন গানে।

                 চিরন্তন আত্মীয়জনারে

                    দেখিয়াছি বারে বারে

                       তোমার ভাষায়,

           তোমার ভক্তিতে, তব মুক্তির আশায়,

                 সুন্দরের তপস্যাতে

           যে অর্ঘ্য রচিলে তব সুনিপুণ হাতে

                 তাহারি শোভন রূপে --

           পূজার প্রদীপে তব, প্রজ্বলিত ধূপে।

                 আজি বিদায়ের ক্ষণে

           চাহিলাম স্নিগ্ধ তব উদার নয়নে,

                 দাঁড়ানু ক্ষণিক তব অঙ্গনের তলে,

                            পরাইনু গলে

                       বরমাল্য পূর্ণ অনুরাগে --

           অম্লান কুসুম যার ফুটেছিল বহুযুগ আগে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

গানের সাজি
Verses
গানের সাজি এনেছি আজি,
     ঢাকাটি তার লও গো খুলে--
         দেখো তো চেয়ে কী আছে।
যে থাকে মনে স্বপন-বনে
     ছায়ার দেশে ভাবের কূলে
         সে বুঝি কিছু দিয়াছে।
কী যে সে তাহা আমি কি জানি,
ভাষায়-চাপা কোন্‌ সে বাণী
সুরের ফুলে গন্ধখানি
         ছন্দে বাঁধি গিয়াছে--
সে ফুল বুঝি হয়েছে পুঁজি,
         দেখো তো চেয়ে কী আছে।
দেখো তো, সখী দিয়েছে ও কি
     সুখের কাঁদা, দুখের হাসি,
         দুরাশাভরা চাহনি।
দিয়েছে কি না ভোরের বীণা,
     দিয়েছে কি সে রাতের বাঁশি
         গহন-গান-গাহনি।
বিপুল ব্যথা ফাগুন-বেলা,
সোহাগ কভু, কভু বা হেলা,
আপন মনে আগুন-খেলা
         পরানমন-দাহনি--
দেখো তো ডালা, সে স্মৃতি-ঢালা
             আছে আকুল চাহনি?
ডেকেছ কবে মধুর রবে,
     মিটালে কবে প্রাণের ক্ষুধা
         তোমার করপরশে,
সহসা এসে করুণ হেসে
     কখন চোখে ঢালিলে সুধা
         ক্ষণিক  তব দরশে--
বাসনা জাগে নিভৃতে চিতে
সে-সব দান ফিরায়ে দিতে
আমার দিনশেষের গীতে--
         সফল তারে করো-সে।
গানের সাজি খোলো গো আজি
         করুণ করপরশে।
রসে বিলীন সে-সব দিন
     ভরেছে আজি বরণডালা
         চরম তব বরণে!
সুরের ডোরে গাঁথনি করে
     রচিয়া মম বিরহমালা
রাখিয়া যাব চরণে।
একদা তব মনে না রবে,
স্বপনে এরা মিলাবে কবে,
তাহারি আগে মরুক তবে
         অমৃতময় মরণে
ফাগুনে তোরে বরণ করে
         সকল শেষ বরণে।
আরো দেখুন
32
Verses
আলোকের অন্তরে যে আনন্দের পরশন পাই,
জানি আমি তার সাথে আমার আত্মার ভেদ নাই
এক আদি জ্যোতি-উৎস হতে
চৈতন্যের পুণ্যস্রোতে
আমার হয়েছে অভিষেক,
ললাটে দিয়েছে জয়লেখ,
জানায়েছে অমৃতের আমি অধিকারী;
পরম-আমির সাথে যুক্ত হতে পারি
বিচিত্র জগতে
প্রবেশ লভিতে পারি আনন্দের পথে।
আরো দেখুন
ভগ্ন মন্দির
Verses
ভাঙা দেউলের দেবতা,
তব বন্দনা রচিতে, ছিন্না
   বীণার তন্ত্রী বিরতা।
সন্ধ্যাগগনে ঘোষে না শঙ্খ
   তোমার আরতি-বারতা।
তব মন্দির স্থির গম্ভীর,
   ভাঙা দেউলের দেবতা!
    তব জনহীন ভবনে
থেকে থেকে আসে ব্যাকুল গন্ধ
   নববসন্তপবনে।
যে ফুলে রচেনি পূজার অর্ঘ্য,
   রাখে নি ও রাঙা চরণে,
সে ফুল ফোটার আসে সমাচার
   জনহীন ভাঙা ভবনে।
   পূজাহীন তব পূজারি
কোথা সারাদিন ফিরে উদাসীন
   কার প্রসাদের ভিখারি!
গোধূলিবেলায় বনের ছায়ায়
   চির-উপবাস-ভূখারি
ভাঙা মন্দিরে আসে ফিরে ফিরে
   পূজাহীন তব পূজারি।
   ভাঙা দেউলের দেবতা,
কত উৎসব হইল নীরব,
   কত পূজানিশা বিগতা।
কত বিজয়ায় নবীন প্রতিমা
   কত যায় কত কব তা--
শুধু চিরদিন থাকে সেবাহীন
   ভাঙা দেউলের দেবতা।
আরো দেখুন