লেখা (lekha)

সব লেখা লুপ্ত হয়, বারম্বার লিখিবার তরে

নূতন কালের বর্ণে। জীর্ণ তোর অক্ষরে অক্ষরে

কেন পট রেখেছিস পূর্ণ করি। হয়েছে সময়

নবীনের তুলিকারে পথ ছেড়ে দিতে। হোক লয়

সমাপ্তির রেখাদুর্গ। নব লেখা আসি দর্পভরে

তার ভগ্নস্তূপরাশি বিকীর্ণ করিয়া দূরান্তরে

উন্মুক্ত করুক পথ, স্থাবরের সীমা করি জয়,

নবীনের রথযাত্রা লাগি। অজ্ঞাতের পরিচয়

অনভিজ্ঞ নিক জিনে। কালের মন্দিরে পূজাঘরে

যুগবিজয়ার দিনে পূজার্চনা সাঙ্গ হলে পরে

যায় প্রতিমার দিন। ধুলা তারে ডাক দিয়ে কয়--

"ফিরে ফিরে মোর মাঝে ক্ষয়ে ক্ষয়ে হবি রে অক্ষয়,

তোর মাটি দিয়ে শিল্পী বিরচিবে নূতন প্রতিমা,

প্রকাশিবে অসীমের নব নব অন্তহীন সীমা।'

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

পত্র
Verses
শ্রীমতী ইন্দিরা প্রাণাধিকাসু
স্টীমার । খুলনা
বসে বসে লিখলেম চিঠি
পুরিয়ে দিলাম চারটি পিঠই,
পেলেম না তার জবাবই
এমনি তোমার নবাবী!
দুটো ছত্র লিখবি পত্র
          একলা তোমার "রব্‌-কা' যে!
পোড়ারমুখী তাও হবে না
          আলিস্যি তোর সব কাজে!
ঝগড়াটে নয় স্বভাব আমার
          নইলে দেখতে কারখানা,
গলার চোটে আকাশ ফেটে
          হয়ে যেত চারখানা,
বাছা আমার দেখতে পেতে
          এই কলমের ধারখানা!
তোমার মতো এমনি মা তো
          দেখি নি এ বঙ্গে গো,
মায়া দয়া যা-কিছু সে
          যদিন থাকে সঙ্গে গো!
চোখের আড়াল প্রাণের আড়াল
          কেমনতরো ঢঙ এ গো!
তোমার প্রাণ যে পাষাণ-সম
          জানি সেটা রষশফ তফষ!
সংসারে যে সবি মায়া
          সেটা নেহাত গল্প না!
বাইরেতে এক ভিতরে এক
          এ যেন কার খল-পনা!
সত্যি বলে যেটা দেখি
          সেটা আমার কল্পনা!
ভেবে একবার দেখো বাছা
          ফিলজফি অল্প না!
মস্ত একটা বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ
          কে রেখেছে সাজিয়ে
যা করি তা কেবল "থোড়া
          জমির বাস্তে কাজিয়ে!'
     বৃষ্টি পড়ে চিঠি না পাই,
     মনটা নিয়ে ততই হাঁপাই,
শূন্যে চেয়ে ততই ভাবি
          সকলি ভোজ-বাজি এ!
ফিলজফি মনের মধ্যে
            ততই ওঠে গাঁজিয়ে!
দূর হোক গে, এত কথা
          কেনই বলি তোমাকে!
ভরা নায়ে পা দিয়েছ,
          আছ তুমি দেমাকে!
...
তোমার সঙ্গে আর কথা না,
          তুমি এখন লোকটা মস্ত,
কাজ কি বাপু, এইখেনেতেই
          রবীন্দ্রনাথ হলেন অস্ত।
আরো দেখুন
পলায়নী
Verses
যে পলায়নের অসীম তরণী
          বাহিছে সূর্যতারা
সেই পলায়নে দিবসরজনী
          ছুটেছ গঙ্গাধারা।
চিরধাবমান নিখিলবিশ্ব
এ পলায়নের বিপুল দৃশ্য,
এই পলায়নে ভূত ভবিষ্য
          দীক্ষিছে ধরণীরে।
জলের ছায়া সে দ্রুততালে বয়,
কঠিন ছায়া সে ওই লোকালয়,
একই প্রলয়ের বিভিন্ন লয়
          স্থিরে আর অস্থিরে।
সৃষ্টি যখন আছিল নবীন
          নবীনতা নিয়ে এলে,
ছেলেমানুষির স্রোতে নিশিদিন
          চল অকারণ খেলে।
লীলাছলে তুমি চিরপথহারা,
বন্ধনহীন নৃত্যের ধারা,
তোমার কুলেতে সীমা দিয়ে কারা
          বাঁধন গড়িছে মিছে।
আবাঁধা ছন্দে হেসে যাও সরি
পাথরের মুঠি শিথিলিত করি,
বাঁধাছন্দের নগরনগরী
          ধুলায় মিলায় পিছে।
অচঞ্চলের অমৃত বরিষে
          চঞ্চলতার নাচে,
বিশ্বলীলা তো দেখি কেবলি সে
          নেই নেই ক'রে আছে।
ভিত ফেঁদে যারা তুলিছে দেয়াল
তারা বিধাতার মানে না খেয়াল,
তারা বুঝিল না-- অনন্তকাল
          অচির কালেরই মেলা।
বিজয়তোরণ গাঁথে তারা যত
আপনার ভারে ভেঙে পড়ে তত,
খেলা করে কাল বালকের মতো
          লয়ে তার ভাঙা ঢেলা।
ওরে মন, তুই চিন্তার টানে
          বাঁধিস নে আপনারে,
এই বিশ্বের সুদূর ভাসানে
          অনায়াসে ভেসে যা রে।
কী গেছে তোমার কী রয়েছে আর
নাই ঠাঁই তার হিসাব রাখার,
কী ঘটিতে পারে জবাব তাহার
          নাই বা মিলিল কোনো।
ফেলিতে ফেলিতে যাহা ঠেকে হাতে
তাই পরশিয়া চলো দিনে রাতে,
যে সুর বাজিল মিলাতে মিলাতে
          তাই কান দিয়ে শোনো।
এর বেশি যদি আরো কিছু চাও
          দুঃখই তাহে মেলে।
যেটুকু পেয়েছে তাই যদি পাও
          তাই নাও, দাও ফেলে।
যুগ যুগ ধরি জেনো মহাকাল
চলার নেশায় হয়েছে মাতাল,
ডুবিছে ভাসিছে আকাশ পাতাল
          আলোক আঁধার বহি।
দাঁড়াবে না কিছু তব আহ্বানে,
ফিরিয়া কিছু না চাবে তোমা-পানে,
ভেসে যদি যাও যাবে একখানে
          সকলের সাথে রহি।
আরো দেখুন
76
Verses
WE GAIN freedom when we have paid the full price
for our right to live.
আরো দেখুন