৫০ (tomare shotodha kori khudro kori)

তোমারে শতধা করি ক্ষুদ্র করি দিয়া

মাটিতে লুটায় যারা তৃপ্ত-সুপ্ত হিয়া

সমস্ত ধরণী আজি অবহেলাভরে

পা রেখেছে তাহাদের মাথার উপরে।

মনুষ্যত্ব তুচ্ছ করি যারা সারাবেলা

তোমারে লইয়া শুধু করে পূজা-খেলা

মুগ্ধভাবভোগে, সেই বৃদ্ধ শিশুদল

সমস্ত বিশ্বের আজি খেলার পুত্তল।

তোমারে আপন-সাথে করিয়া সমান

যে খর্ব বামনগণ করে অবমান

কে তাদের দিবে মান! নিজ মন্ত্রস্বরে

তোমারেই প্রাণ দিতে যারা স্পর্ধা করে

কে তাদের দিবে প্রাণ! তোমারেও যারা

ভাগ করে, কে তাদের দিবে ঐক্যধারা!

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

64
Verses
   প্রদোষের দেশে
          আর ভালো লাগে না গো--
   নবীন আলোকে
          জাগো, মন, জাগো জাগো।
   হারায়ো না মন
          চিরস্বপনের লোকে
   ছায়া-উপছায়া-
          জড়িত মুগ্ধ চোখে--
   নবপ্রভাতের
          পুণ্যপ্রসাদ মাগো।
আরো দেখুন
ধর্মপ্রচার
Verses
(এই কবিতায় বর্ণিত ঘটনা সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়! কলিকাতার এক বাসায়)
  ওই শোনো ভাই বিশু,
  পথে শুনি "জয় যিশু'!
কেমনে এ নাম করিব সহ্য
  আমরা আর্যশিশু!
  কূর্ম, কল্কি, স্কন্দ
  এখন করো তো বন্ধ।
যদি যিশু ভজে রবে না ভারতে
  পুরাণের নামগন্ধ।
  ওই দেখো ভাই, শুনি--
  যাজ্ঞবল্ক্য মুনি,
বিষ্ণু, হারীত, নারদ, অত্রি
  কেঁদে হল খুনোখুনি!
  কোথায় রহিল কর্ম,
  কোথা সনাতন ধর্ম!
সম্প্রতি তবু কিছু শোনা যায়
  বেদ-পুরাণের মর্ম!
  ওঠো, ওঠো ভাই, জাগো,
  মনে মনে খুব রাগো!
আর্যশাস্ত্র উদ্ধার করি,
  কোমর বাঁধিয়া লাগো!
কাছাকোঁচা লও আঁটি,
  হাতে তুলে লও লাঠি।
হিন্দুধর্ম করিব রক্ষা,
  খৃস্টানি হবে মাটি।
  কোথা গেল ভাই ভজা
  হিন্দুধর্মধ্বজা?
ষন্ডা ছিল সে, সে যদি থাকিত
  আজ হত দুশো মজা!
  এস মোনো, এস ভুতো,
  প'রে লও বুট জুতো।
পাদ্রি বেটার পা মাড়িয়ে দিয়ো
  পাও যদি কোনো ছুতো!
  আগে দেব দুয়ো তালি,
  তার পরে দেব গালি।
কিছু না বলিলে পড়িব তখন
  বিশ-পঁচিশ বাঙালি।
  তুমি আগে যেয়ো তেড়ে,
  আমি নেব টুপি কেড়ে।
গোলেমালে শেষে পাঁচজনে প'ড়ে
  মাটিতে ফেলিয়ো পেড়ে।
  কাঁচি দিয়ে তার চুল
  কেটে দেব বিলকুল।
কোটের বোতাম আগাগোড়া তার
  করে দেব নির্মূল।
তবে উঠ, সবে উঠ--
  বাঁধো কটি, আঁটো মুঠো!
দেখো, ভাই, যেন ভুলো না, অমনি
  সাথে নিয়ো লাঠি দুটো!
দলপতির শিষ ও গান:
     প্রাণসই রে,
মনোজ্বালা কারে কই রে!
কোমরে চাদর বাঁধিয়া, লাঠি হস্তে, মহোৎসাহে সকলের প্রস্থান।
পথে বিশু হারু মোনো ভুতোর সমাগম। গেরুয়াবস্ত্রাচ্ছাদিত অনাবৃতপদ
মুক্তিফৌজের প্রচারক:
ধন্য হউক তোমার প্রেম,
      ধন্য তোমার নাম,
ভুবন-মাঝারে হউক উদয়
      নূতন জেরুজিলাম।
ধরণী হইতে যাক ঘৃণাদ্বেষ,
      নিঠুরতা দূর হোক--
মুছে দাও, প্রভু, মানবের আঁখি,
      ঘুচাও মরণশোক।
তৃষিত যাহারা, জীবনের বারি
      করো তাহাদের দান।
দয়াময় যিশু, তোমার দয়ায়
      পাপীজনে করো ত্রাণ।
      "ওরে ভাই বিশু, এ কে,
      জুতো কোথা  এল রেখে!
গোরা বটে, তবু হতেছে ভরসা
      গেরুয়া বসন দেখে।'
"হারু, তবে তুই এগো!
      বল্‌-- বাছা, তুমি কে গো?
কিচিমিচি রাখো, খিদে পেয়েছে কি?
      দুটো কলা এনে দে গো!'
      বধির নিদয় কঠিন হৃদয়
      তারে প্রভু দাও কোল।
অক্ষম আমি কী করিতে পারি--
      "হরিবোল হরিবোল!'
      "আরে, রেখে দাও খৃস্ট!
      এখনি দেখাও পৃষ্ঠ!
দাঁড়ে উঠে চড়ো, পড়ো বাবা পড়ো
      হরে হরে হরে কৃষ্ট!'
তুমি যা সয়েছ তাহাই স্মরিয়া
      সহিব সকল ক্লেশ,
ক্রুস গুরুভার করিব বহন--
      "বেশ, বাবা, বেশ বেশ!'
দাও ব্যথা, যদি কারো মুছে পাপ
      আমার নয়ননীরে।
প্রাণ দিব, যদি এ জীবন দিলে
      পাপীর জীবন ফিরে।
আপনার জন,আপনার দেশ,
      হয়েছি সর্ব-ত্যাগী।
হৃদয়ের প্রেম সব ছেড়ে যায়
      তোমার প্রেমের লাগি।
সুখ, সভ্যতা, রমণীর প্রেম,
      বন্ধুর কোলাকুলি--
ফেলি দিয়া পথে তব মহাব্রত
      মাথায় লয়েছি তুলি।
এখনো তাদের ভুলিতে পারি নে,
      মাঝে মাঝে জাগে প্রাণে--
চিরজীবনের সুখবন্ধন
      সেই গৃহ-মাঝে টানে।
তখন তোমার রক্তসিক্ত
      ওই মুখপানে চাহি,
ও প্রেমের কাছে স্বদেশ বিদেশ
      আপনা ও পর নাহি।
ওই প্রেম তুমি করো বিতরণ
      আমার হৃদয় দিয়ে,
বিষ দিতে যারা এসেছে তাহরা
      ঘরে যাক সুধা নিয়ে।
পাপ লয়ে প্রাণে এসেছিল যারা
      তাহারা আসুক বুকে--
পড়ুক প্রেমের মধুর আলোক
      ভ্রূকুটিকুটিল মুখে!
"আর প্রাণে নাহি সহে,
      আর্যরক্ত দহে!'
"ওহে হারু, ওহে মাধু, লাঠি নিয়ে
      ঘা-কতক দাও তো হে!'
      "যদি চাস তুই ইষ্ট
      বল্‌ মুখে বল্‌ কৃষ্ট।'
ধন্য হউক তোমার নাম
      দয়াময় যিশুখৃস্ট!
"তবে রে! লাগাও লাঠি
      কোমরে কাপড় আঁটি।'
"হিন্দুধর্ম হউক রক্ষা
      খৃস্টানি হোক মাটি!'
প্রচারকের মাথায় লাঠি প্রহার। মাথা ফাটিয়া রক্তপাত। রক্ত মুছিয়া:
প্রভু তোমাদের করুন কুশল,
      দিন তিনি শুভমতি।
আমি তাঁর দীন অধম ভৃত্য,
      তিনি জগতের পতি।
      "ওরে শিবু, ওরে হারু,
      ওরে ননি, ওরে চারু,
তামাশা দেখার এই কি সময়--
      প্রাণে ভয় নেই কারু?'
"পুলিস আসিছে গুঁতা উঁচাইয়া,
      এইবেলা দাও দৌড়!'
"ধন্য হইল আর্য ধর্ম,
      ধন্য হইল গৌড়।'
    ঊর্ধ্বশ্বাসে পলায়ন।
    বাসায় ফিরিয়া:
সাহেব মেরেছি! বঙ্গবাসীর
      কলঙ্ক গেছে ঘুচি।
মেজবউ কোথা, ডেকে দাও তারে--
      কোথা ছোকা, কোথা লুচি!
এখনো আমার তপ্ত রক্ত
      উঠিতেছে উচ্ছ্বসি--
তাড়াতাড়ি আজ লুচি না পাইলে
      কী জানি কী ক'রে বসি!
স্বামী যবে এল যুদ্ধ সারিয়া
      ঘরে নেই লুচি ভাজা!
আর্যনারীর এ কেমন প্রথা,
      সমুচিত দিব সাজা।
যাজ্ঞবল্ক্য অত্রি হারীত
      জলে গুলে খেলে সবে--
মারধোর ক'রে হিন্দুধর্ম
      রক্ষা করিতে হবে।
কোথা পুরাতন পাতিব্রত্য,
      সনাতন লুচি ছোকা--
বৎসরে শুধু সংসারে আসে
      একখানি করে খোকা।
আরো দেখুন
বুধু
Verses
               মাঠের শেষে গ্রাম,
                সাতপুরিয়া নাম।
     চাষের তেমন সুবিধা নেই কৃপণ মাটির গুণে,
     পঁয়ত্রিশ ঘর তাঁতির বসত, ব্যাবসা জাজিম বুনে।
     নদীর ধারে খুঁড়ে খুঁড়ে পলির মাটি খুঁজে
     গৃহস্থেরা ফসল করে কাঁকুড়ে তরমুজে
ঐখানেতে বালির ডাঙা, মাঠ করছে ধু ধু,
ঢিবির 'পরে বসে আছে গাঁয়ের মোড়াল বুধু।
     সামনে মাঠে ছাগল চরছে ক'টা--
     শুকনো জমি, নেইকো ঘাসের ঘটা।
কী যে ওরা পাচ্ছে খেতে ওরাই সেটা জানে,
     ছাগল ব'লেই বেঁচে আছে প্রাণে।
আকাশে আজ হিমের আভাস, ফ্যাকাশে তার নীল,
     অনেক দূরে যাচ্ছে উড়ে চিল।
হেমন্তের এই রোদ্‌দুরটা লাগছে অতি মিঠে,
ছোটো নাতি মোগ্‌লুটা তার জড়িয়ে আছে পিঠে।
স্পর্শপুলক লাগছে দেহে, মনে লাগছে ভয়--
              বেঁচে থাকলে হয়।
গুটি তিনটি মরে শেষে ঐটি সাধের নাতি,
              রাত্রিদিনের সাথি!
গোরুর গাড়ির ব্যাবসা বুধুর চলছে হেসে-খেলেই,
নাড়ি ছেঁড়ে এক পয়সা খরচ করতে গেলেই।
কৃপণ ব'লে গ্রামে গ্রামে বুধুর নিন্দে রটে,
সকালে কেউ নাম করে না উপোস পাছে ঘটে।
ওর যে কৃপণতা সে তো ঢেলে দেবার তরে,
যত কিছু জমাচ্ছে সব মোগ্‌লু নাতির 'পরে।
পয়সাটা তার বুকের রক্ত, কারণটা তার ঐ--
এক পয়সা আর কারো নয় ঐ ছেলেটার বই।
না খেয়ে, না প'রে, নিজের শোষণ ক'রে প্রাণ
যেটুকু রয় সেইটুকু ওর প্রতি দিনের দান।
দেব্‌তা পাছে ঈর্ষাভরে নেয় কেড়ে মোগ্‌লুকে,
              আঁকড়ে রাখে বুকে।
এখনো তাই নাম দেয়নি, ডাক নামেতেই ডাকে,
নাম ভাঁড়িয়ে ফাঁকি দেবে নিষ্ঠুর দেব্‌তাকে।
আরো দেখুন