৬২ (tobo choroner asha ogo moharaj)

তব চরণের আশা, ওগো মহারাজ,

ছাড়ি নাই। এত যে হীনতা, এত লাজ,

তবু ছাড়ি নাই আশা। তোমার বিধান

কেমনে কী ইন্দ্রজাল করে যে নির্মাণ

সংগোপনে সবার নয়ন-অন্তরালে

কেহ নাহি জানে। তোমার নির্দিষ্ট কালে

মুহূর্তেই অসম্ভব আসে কোথা হতে

আপনারে ব্যক্ত করি আপন আলোতে

চিরপ্রতীক্ষিত চিরসম্ভবের বেশে।

আছ তুমি অন্তর্যামী এ লজ্জিত দেশে--

সবার অজ্ঞাতসারে হৃদয়ে হৃদয়ে

গৃহে গৃহে রাত্রিদিন জাগরূক হয়ে

তোমার নিগূঢ় শক্তি করিতেছে কাজ।

আমি ছাড়ি নাই আশা, ওগো মহারাজ!

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

21
Verses
I WILL MEET one day the Life within me, the joy that hides in my life, though the days perplex my path with their idle dust.
I have known it in glimpses, and its fitful breath has come upon me making my thoughts fragrant for a while.
I will meet one day the Joy without me that dwells behind the screen of light-and will stand in the overflowing solitude where all things are seen as by their creator.
আরো দেখুন
ধ্যানভঙ্গ
Verses
পদ্মাসনার সাধনাতে দুয়ার থাকে বন্ধ,
ধাক্কা লাগায় সুধাকান্ত, লাগায় অনিল চন্দ।
ভিজিটর্‌কে এগিয়ে আনে; অটোগ্রাফের বহি
দশ-বিশটা জমা করে, লাগাতে হয় সহি।
আনে ফটোগ্রাফের দাবি, রেজিস্টারি চিঠি,
বাজে কথা, কাজের তর্ক, নানান খিটিমিটি।
পদ্মাসনের পদ্মে দেবী লাগান মোটরচাকা,
এমন দৌড় মারেন তখন মিথ্যে তাঁরে ডাকা।
ভাঙা ধ্যানের টুকরো যত খাতায় থাকে পড়ি;
অসমাপ্ত চিন্তাগুলোর শূন্যে ছড়াছড়ি।
সত্যযুগে ইন্দ্রদেবের ছিল রসজ্ঞান,
মস্ত মস্ত ঋষিমুনির ভেঙে দিতেন ধ্যান--
ভাঙন কিন্তু আর্টিস্‌টিক; কবিজনের চক্ষে
লাগত ভালো, শোভন হত দেব্‌তাদিগের পক্ষে।
তপস্যাটার ফলের চেয়ে অধিক হত মিঠা
নিষ্ফলতার রসমগ্ন অমোঘ পদ্ধতিটা।
ইন্দ্রদেবের অধুনাতন মেজাজ কেন কড়া--
তখন ছিল ফুলের বাঁধন, এখন দড়িদড়া।
ধাক্কা মারেন সেক্রেটরি, নয় মেনকা-রম্ভা--
রিয়লিস্‌টিক আধুনিকের এইমতোই ধরম বা।
ধ্যান খোয়াতে রাজি আছি দেবতা যদি চান তা--
সুধাকান্ত না পাঠিয়ে পাঠান সুধাকান্তা।
কিন্তু, জানি, ঘটবে না তা, আছেন অনিল চন্দ--
ইন্দ্রদেবের বাঁকা মেজাজ, আমার ভাগ্য মন্দ।
সইতে হবে স্থূলহস্ত-অবলেপের দুঃখ,
কলিযুগের চালচলনটা একটুও নয় সূক্ষ্ম।
আরো দেখুন
সংযোজন - ১
Verses
        "হে পথিক, কোন্‌খানে
        চলেছ কাহার পানে।'
গিয়েছে রজনী,      উঠে দিনমণি,
        চলেছি সাগরস্নানে।
উষার আভাসে       তুষারবাতাসে
        পাখির উদার গানে
শয়ন তেয়াগি        উঠিয়াছি জাগি,
        চলেছি সাগরস্নানে।
        "শুধাই তোমার কাছে
        সে সাগর কোথা আছে।'
যেথা এই নদী       বহি নিরবধি
        নীল জলে মিশিয়াছে।
সেথা হতে রবি      উঠে নবছবি,
        লুকায় তাহারি পাছে--
তপ্ত প্রাণের           তীর্থস্নানের
        সাগর সেথায় আছে।
        "পথিক তোমার দলে
        যাত্রী ক'জন চলে।'
গণি তাহা ভাই     শেষ নাহি পাই,
        চলেছে জলে স্থলে।
তাহাদের বাতি      জ্বলে সারারাতি
        তিমির-আকাশ-তলে।
তাহাদের গান        সারা দিনমান
        ধ্বনিছে জলে স্থলে।
        "সে সাগর, কহো,তবে
        আর কত দূরে হবে।'
"আর কত দূরে'     "আর কত দূরে'
        সেই তো শুধাই সবে।
ধ্বনি তার আসে      দখিন বাতাসে
        ঘনভৈরবরবে।
কভু ভাবি "কাছে',   কভু "দূরে আছে'--
        আর কত দূরে হবে।
        "পথিক, গগনে চাহো,
        বাড়িছে দিনের দাহ।'
বাড়ে যদি দুখ       হব না বিমুখ,
        নিবাব না উৎসাহ।
ওরে ওরে ভীত      তৃষিত তাপিত
        জয়সংগীত গাহো।
মাথার উপরে        খররবিকরে
        বাড়ুক দিনের দাহ।
        "কী করিবে চলে চলে
        পথেই সন্ধ্যা হলে।'
প্রভাতের আশে      স্নিগ্ধ বাতাসে
        ঘুমাব পথের কোলে।
উদিবে অরুণ        নবীন করুণ
        বিহঙ্গকলরোলে।
সাগরের স্নান       হবে সমাধান
        নূতন প্রভাত হলে।
আরো দেখুন