৬১ (e mrityu chhedite hobe ei bhoyjale)

এ মৃত্যু ছেদিতে হবে, এই ভয়জালে,

এই পুঞ্জপুঞ্জীভূত জড়ের জঞ্জালে,

মৃত আবর্জনা। ওরে, জাগিতেই হবে

এ দীপ্ত প্রভাতকালে, এ জাগ্রত ভবে

এই কর্মধামে। দুই নেত্র করি আঁধা

জ্ঞানে বাধা, কর্মে বাধা, গতিপথে বাধা,

আচারে বিচারে বাধা, করি দিয়া দূর

ধরিতে হইবে মুক্ত বিহঙ্গের সুর

আনন্দে উদার উচ্চ।

সমস্ত তিমির

ভেদ করি দেখিতে হইবে ঊর্দ্ধশির

এক পূর্ণ জ্যোতির্ময়ে অনন্ত ভুবনে।

ঘোষণা করিতে হবে অসংশয়মনে--

"ওগো দিব্যধামবাসী দেবগণ যত,

মোরা অমৃতের পুত্র তোমাদের মতো।'

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

তীর্থযাত্রী
Verses
কন্‌কনে ঠাণ্ডায় আমাদের যাত্রা--
    ভ্রমণটা বিষম দীর্ঘ, সময়টা সব চেয়ে খারাপ,
        রাস্তা ঘোরালো, ধারালো বাতাসের চোট,
           একেবারে দুর্জয় শীত।
ঘাড়ে ক্ষত, পায়ে ব্যথা, মেজাজ-চড়া উটগুলো
           শুয়ে শুয়ে পড়ে গলা বরফে।
        মাঝে মাঝে মন যায় বিগড়ে
যখন মনে পড়ে পাহাড়তলিতে বসন্তমঞ্জিল, তার চাতাল,
    আর শর্বতের পেয়ালা হাতে রেশমি সাজে যুবতীর দল।
এ দিকে উটওয়ালারা গাল পাড়ে, গন্‌গন্‌ করে রাগে,
        ছুটে পালায় মদ আর মেয়ের খোঁজে।
    মশাল যায় নিভে, মাথা রাখবার জায়গা জোটে না।
        নগরে যাই, সেখানে বৈরিতা; নগরীতে সন্দেহ।
           গ্রামগুলো নোংরা, তারা চড়া দাম হাঁকে।
কঠিন মুশকিল।
           শেষে ঠাওরালেম চলব সারারাত,
               মাঝে মাঝে নেব ঝিমিয়ে
           আর কানে কানে কেউ বা গান গাবে--
                   এ সমস্তই পাগলামি।
                   ভোরের দিকে এলেম, যেখানে মিঠে শীত সেই পাহাড়ের খদে;
সেখানে বরফ-সীমার নীচেটা ভিজে-ভিজে, ঘন গাছ-গাছালির গন্ধ।
নদী চলেছে ছুটে, জলযন্ত্রের চাকা আঁধারকে মারছে চাপড়।
দিগন্তের গায়ে তিনটে গাছ দাঁড়িয়ে,
বুড়ো সাদা ঘোড়াটা মাঠ বেয়ে দৌড় দিয়েছে।
পৌঁছলেম শরাবখানায়, তার কপাটের মাথায় আঙুরলতা।
দুজন মানুষ খোলা দরোজার কাছে পাশা খেলছে টাকার লোভে,
        পা দিয়ে ঠেলছে শূন্য মদের কুপো।
           কোনো খবরই মিলল না সেখানে,
               চললেম আরো আগে।
                   যেতে যেতে সন্ধে হল;
        সময় পেরিয়ে যায় যায়, তখন খুঁজে পেলেম জায়গাটা--
           বলা যেতে পারে ব্যাপারটা তৃপ্তিজনক।
    মনে পড়ে এ-সব ঘটেছে অনেক কাল আগে,
           আবার ঘটে যেন এই ইচ্ছে, কিন্তু লিখে রাখো--
এই লিখে রাখো-- এত দূরে যে আমাদের টেনে নিয়েছিল
        সে কি জন্মের সন্ধানে না মৃত্যুর।
           জন্ম একটা হয়েছিল বটে--
               প্রমাণ পেয়েছি, সন্দেহ নেই।
এর আগে তো জন্মও দেখেছি, মৃত্যুও--
        মনে ভাবতেম তারা এক নয়।
কিন্তু এই-যে জন্ম এ বড়ো কঠোর--
দারুণ এর যাতনা, মৃত্যুর মতো, আমাদের মৃত্যুর মতোই।
এলেম ফিরে আপন আপন দেশে, এই আমাদের রাজত্বগুলোয়
    আর কিন্তু স্বস্তি নেই সেই পুরানো বিধিবিধানে
যার মধ্যে আছে সব অনাত্মীয় আপন দেবদেবী আঁকড়ে ধ'রে।
           আর-একবার মরতে পারলে আমি বাঁচি।
আরো দেখুন
লক্ষ্যশূন্য
Verses
রথীরে কহিল গৃহী উৎকণ্ঠায় ঊর্ধ্বস্বরে ডাকি,
"থামো থামো, কোথা তুমি রুদ্রবেগে রথ যাও হাঁকি,
সম্মুখে আমার গৃহ।' রথী কহে, "ওই মোর পথ,
ঘুরে গেলে দেরি হবে, বাধা ভেঙে সিধা যাবে রথ।'
গৃহী কহে, "নিদারুণ ত্বরা দেখে মোর ডর লাগে,
কোথা যেতে হবে বলো।' রথী কহে, "যেতে হবে আগে।'
"কোন্‌খানে' শুধাইল। রথী বলে, "কোনোখানে নহে ,--
শুধু আগে।' "কোন্‌ তীর্থে, কোন্‌ সে মন্দিরে' গৃহী কহে।
"কোথাও না, শুধু আগে।' "কোন্‌ বন্ধু-সাথে হবে দেখা।'
"কারো সাথে নহে, যাব সব-আগে আমি মাত্র একা।'
ঘর্ঘরিত রথবেগে গৃহভিত্তি করি দিল গ্রাস;
হাহাকারে, অভিশাপে, ধূলিজালে ক্ষুভিল বাতাস
সন্ধ্যার আকাশে। আঁধারের দীপ্ত সিংহদ্বার-বাগে
রক্তবর্ণ অস্তপথে ছোটে রথ লক্ষ্যশূন্য আগে।
আরো দেখুন
ক্ষতিপূরণ
Verses
তোমার তরে সবাই মোরে
       করছে দোষী
       হে প্রেয়সী!
বলছে--কবি তোমার ছবি
       আঁকছে গানে,
প্রণয়গীতি গাচ্ছে নিতি
       তোমার কানে,
নেশায় মেতে ছন্দে গেঁথে
       তুচ্ছ কথা
ঢাকছে শেষে বাংলাদেশে
       উচ্চ কথা।
তোমার তরে সবাই মোরে
       করছে দোষী
       হে প্রেয়সী!
সে কলঙ্ক নিন্দাপঙ্ক
       তিলক টানি
       এলেম রানী!
ফেলুক মুছি হাস্যশুচি
       তোমার লোচন
বিশ্বসুদ্ধ যতেক ক্রুদ্ধ
       সমালোচন।
অনুরক্ত তব ভক্ত
       নিন্দিতেরে
করো রক্ষে শীতল বক্ষে
       বাহুর ঘেরে।
তাই কলঙ্ক নিন্দাপঙ্ক
       তিলক টানি
       এলেম রানী।
আমি নাবব মহাকাব্য-
       সংরচনে
       ছিল মনে--
ঠেকল যখন তোমার কাঁকন-
       কিংকিণীতে,
কল্পনাটি গেল ফাটি
       হাজার গীতে।
মহাকাব্য সেই অভাব্য    
       দুর্ঘটনায়
পায়ের কাছে ছড়িয়ে আছে
       কণায় কণায়।
আমি নাবব মহাকাব্য-
       সংরচনে
       ছিল মনে।
হায় রে কোথা যুদ্ধকথা
       হৈল গত
       স্বপ্নমত!
পুরাণচিত্র বীরচরিত্র
       অষ্ট সর্গ
কৈল খণ্ড তোমার চণ্ড
       নয়ন-খড়্‌গ।
রইল মাত্র দিবারাত্র
       প্রেমের প্রলাপ,
দিলেম ফেলে ভাবীকেলে
       কীর্তিকলাপ।
হায় রে কোথা যুদ্ধকথা
       হৈল গত
       স্বপ্নমত!
সেসব-ক্ষতি-পূরণ প্রতি
       দৃষ্টি রাখি
       হরিণ-আঁখি!
লোকের মনে সিংহাসনে
       নাইকো দাবি--
তোমার মনোগৃহের কোনো
       দাও তো চাবি।
মরার পরে চাই নে ওরে
       অমর হতে,
অমর হব আঁখির তব
       সুধার স্রোতে।
খ্যাতির ক্ষতি-পূরণ প্রতি
       দৃষ্টি রাখি
       হরিণ-আঁখি!
আরো দেখুন