৯৮ (majhe majhe kobhu jobe obosad asi)

মাঝে মাঝে কভু যবে অবসাদ আসি

অন্তরের আলোক পলকে ফেলে গ্রাসি,

মন্দপদে যবে শ্রান্তি আসে তিল তিল

তোমার পূজার বৃন্ত করে সে শিথিল

ম্রিয়মাণ-- তখনো না যেন করি ভয়,

তখনো অটল আশা যেন জেগে রয়

তোমা-পানে।

          তোমা-'পরে করিয়া নির্ভর

সে শ্রান্তির রাত্রে যেন সকল অন্তর

নির্ভয়ে অর্পণ করি পথধূলিতলে

নিদ্রারে আহ্বান করি। প্রাণপণ বলে

ক্লান্ত চিত্তে নাহি তুলি ক্ষীণ কলরব

তোমার পূজার অতি দরিদ্র উৎসব।

রাত্রি এনে দাও তুমি দিবসের চোখে,

আবার জাগাতে তারে নবীন আলোকে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

76
Verses
হাওয়া লাগে গানের পালে,
মাঝি আমার বসো হালে।
       এবার ছাড়া পেলে বাঁচে,
       জীবনতরী ঢেউয়ে নাচে
            এই বাতাসের তালে তালে।
            মাঝি, এবার বসো হালে।
দিন গিয়েছে এলো রাতি,
নাই কেহ মোর ঘাটের সাথি।
      কাটো বাঁধন দাও গো ছাড়ি,
      তারার আলোয় দেব পাড়ি,
            সুর জেগেছে যাবার কালে।
            মাঝি, এবার বসো হালে।
আরো দেখুন
14
Verses
প্রত্যহ প্রভাতকালে ভক্ত এ কুকুর
স্তব্ধ হয়ে বসে থাকে আসনের কাছে
যতক্ষণে সঙ্গ তার না করি স্বীকার
করস্পর্শ দিয়ে।
এটুকু স্বীকৃতি লাভ করি
সর্বাঙ্গে তরঙ্গি উঠে আনন্দপ্রবাহ।
বাক্যহীন প্রাণীলোক-মাঝে
এই জীব শুধু
ভালো মন্দ সব ভেদ করি
দেখেছে সম্পূর্ণ মানুষেরে;
দেখেছে আনন্দে যারে প্রাণ দেওয়া যায়
যারে ঢেলে দেওয়া যায় অহেতুক প্রেম,
অসীম চৈতন্যলোকে
পথ দেখাইয়া দেয় যাহার চেতনা।
দেখি যবে মূক হৃদয়ের
প্রাণপণ আত্মনিবেদন
আপনার দীনতা জানায়ে,
ভাবিয়া না পাই ও যে কী মূল্য করেছে আবিষ্কার
আপন সহজ বোধে মানবস্বরূপে;
ভাষাহীন দৃষ্টির করুণ ব্যাকুলতা
বোঝে যাহা বোঝাতে পারে না,
আমারে বুঝায়ে দেয়-- সৃষ্টি-মাঝে মানবের সত্য পরিচয়।
আরো দেখুন
রেলেটিভিটি
Verses
      তুলনায় সমালোচনাতে
                     জিভে আর দাঁতে
      লেগে গেল বিচারের দ্বন্দ্ব,
                     কে ভালো কে মন্দ।
              বিচারক বলে হেসে,
      দাঁতজোড়া কী সর্বনেশে
                     যবে হয় দেঁতো।
      কিন্তু, সে সুধাময় লোকবিশেষে তো
                     হাসিরশ্মিতে,
      যাহারে আদরে ডাকি "অয়ি সুস্মিতে'
                     পাণিনির শুদ্ধ নিয়মে।
      জিহ্বায় রস খুব জমে,
              অথচ তাহার সংস্রবে
                     দেহখানা যবে
              আগাগোড়া উঠে জ্বলি
                     রস নয়, বিষ তারে বলি।
      স্বভাবে কঠিন কেহ, মেজাজে নরম--
              বাহিরে শীতল কেহ, ভিতরে গরম।
      প্রকাশ্যে এক রূপ যার।
                     ঘোমটায় আর।
      তুলনায় দাঁত আর জিভ
                     সবই রেলেটিভ।
              হয়তো দেখিবে, সংসারে
      দাঁতালো যা মিঠে লাগে তারে,
              আর যেটা ললিত রসালো
                     লাগে নাকো ভালো।
              সৃষ্টিতে পাগলামি এই--
                     একান্ত কিছু হেথা নেই।
      ভালো বা খারাপ লাগা
                     পদে পদে উলোটা-পালোটা--
      কভু সাদা কালো হয়,
                     কখনো বা সাদাই কালোটা,
      মন দিয়ে ভাবো যদ্যপি
                     জানিবে এ খাঁটি ফিলজফি।
আরো দেখুন