৮১ (ekadhare tumii akash tumi nir)

একাধারে তুমিই আকাশ, তুমি নীড়।

হে সুন্দর, নীড়ে তব প্রেম সুনিবিড়

প্রতি ক্ষণে নানা বর্ণে নানা গন্ধে গীতে

মুগ্ধ প্রাণ বেষ্টন করেছে চারি ভিতে।

সেথা ঊষা ডান হাতে ধরি স্বর্ণথালা

নিয়ে আসে একখানি মাধুর্যের মালা

নীরবে পরায়ে দিতে ধরার ললাটে;

সন্ধ্যা আসে নম্রমুখে ধেনুশূন্য মাঠে

চিহ্নহীন পথ দিয়ে লয়ে স্বর্ণঝারি

পশ্চিমসমুদ্র হতে ভরি শান্তিবারি।

তুমি যেথা আমাদের আত্মার আকাশ,

অপার সঞ্চারক্ষেত্র, সেথা শুভ্র ভাস;

দিন নাই, রাত নাই, নাই জনপ্রাণী,

বর্ণ নাই, গন্ধ নাই--নাই নাই বাণী।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

কবির বয়স
Verses
ওরে কবি, সন্ধ্যা হয়ে এল,
            কেশে তোমার ধরেছে যে পাক।
বসে বসে ঊর্ধ্বপানে চেয়ে        
            শুনতেছ কি পরকালের ডাক?
কবি কহে,"সন্ধ্যা হল বটে,
            শুনছি বসে লয়ে শ্রান্ত দেহ,
এ পারে ওই পল্লী হতে যদি
            আজো হঠাৎ ডাকে আমায় কেহ।
যদি হোথায় বকুলবনচ্ছায়ে
            মিলন ঘটে তরুণ-তরুণীতে,
দুটি আঁখির 'পরে দুইটি আঁখি
            মিলিতে চায় দুরন্ত সংগীতে--
                  কে তাহাদের মনের কথা লয়ে
                              বীণার তারে তুলবে প্রতিধ্বনি,
                  আমি যদি ভবের কূলে বসে
                              পরকালের ভালো মন্দই গনি।
"সন্ধ্যাতারা উঠে অস্তে গেল,
            চিতা নিবে এল নদীর ধারে,
কৃষ্ণপক্ষে হলুদবর্ণ চাঁদ
            দেখা দিল বনের একটি পারে,
শৃগালসভা ডাকে ঊর্ধ্বরবে
            পোড়ো বাড়ির শূন্য আঙিনাতে--
এমন কালে কোনো গৃহত্যাগী
            হেথায় যদি জাগতে আসে রাতে,
জোড়-হস্তে ঊর্ধ্বে তুলি মাথা
            চেয়ে দেখে সপ্ত ঋষির পানে,
প্রাণের কূলে আঘাত করে ধীরে
            সুপ্তিসাগর শব্দবিহীন গানে--
ত্রিভুবনের গোপন কথাখানি  
            কে জাগিয়ে তুলবে তাহার মনে
আমি যদি আমার মুক্তি নিয়ে
            যুক্তি করি আপন গৃহকোণে?
"কেশে আমার পাক ধরেছে বটে,
            তাহার পানে নজর এত কেন?
পাড়ায় যত ছেলে এবং বুড়ো
            সবার আমি একবয়সী জেনো।
ওষ্ঠে কারো সরল সাদা হাসি
            কারো হাসি আঁখির কোণে কোণে
কারো অশ্রু উছলে পড়ে যায়
           কারো অশ্রু শুকায় মনে মনে,
কেউ বা থাকে ঘরের কোণে দোঁহে
           জগৎ মাঝে কেউ বা হাঁকায় রথ,
কেউ বা মরে একলা ঘরের শোকে
          জনারণ্যে কেউ বা হারায় পথ।
              সবাই মোরে করেন ডাকাডাকি,
                   কখন শুনি পরকালের ডাক?
              সবার আমি সমান-বয়সী যে
                   চুলে আমার যত ধরুক পাক।'
আরো দেখুন
91
Verses
বাসনারে খর্ব করি দাও হে প্রাণেশ।
সে শুধু সংগ্রাম করে লয়ে এক লেশ
বৃহতের সাথে। পণ রাখিয়া নিখিল
জিনিয়া নিতে সে চাহে শুধু এক তিল।
বাসনার ক্ষুদ্র রাজ্য করি একাকার
দাও মোরে সন্তোষের মহা অধিকার।
অযাচিত যে সম্পদ অজস্র আকারে
ঊষার আলোক হতে নিশার আঁধারে
জলে স্থলে রচিয়াছে অনন্ত বিভব--
সেই সর্বলভ্য সুখ অমূল্য দুর্লভ
সব চেয়ে। সে মহা সহজ সুখখানি
পূর্ণশতদলসম কে দিবে গো আনি
জলস্থল-আকাশের মাঝখান হতে,
ভাসাইয়া আপনারে সহজের স্রোতে!
আরো দেখুন
বিরহ
Verses
     আমি     নিশি নিশি কত রচিব শয়ন
                   আকুলনয়ন রে!
     কত      নিতি নিতি বনে করিব যতনে
                   কুসুমচয়ন রে!
     কত      শারদ যামিনী হইবে বিফল,
                   বসন্ত যাবে চলিয়া!
     কত      উদিবে তপন আশার স্বপন,
                   প্রভাতে যাইবে ছলিয়া!
     এই      যৌবন কত রাখিব বাঁধিয়া,
                   মরিব কাঁদিয়া রে!
     সেই     চরণ পাইলে মরণ মাগিব
                   সাধিয়া সাধিয়া রে।
     আমি     কার পথ চাহি এ জনম বাহি,
                   কার দরশন যাচি রে!
     যেন     আসিবে বলিয়া কে গেছে চলিয়া,
                   তাই আমি বসে আছি রে।
     তাই     মালাটি  গাঁথিয়া পরেছি মাথায়
                   নীলবাসে তনু ঢাকিয়া,
     তাই     বিজন আলয়ে প্রদীপ জ্বালায়ে
                   একেলা রয়েছি জাগিয়া।
     ওগো    তাই কত নিশি চাঁদ ওঠে হাসি,
                   তাই কেঁদে যায় প্রভাতে।
     ওগো    তাই ফুলবনে মধু সমীরণে
                   ফুটে ফুল কত শোভাতে!
     ওই      বাঁশিস্বর তার আসে বার বার,
                   সেই  শুধু কেন আসে না!
     এই      হৃদয়-আসন শূন্য যে থাকে,
                   কেঁদে মরে শুধু বাসনা।
     মিছে    পরশিয়া কায় বায়ু বহে যায়,
                   বহে যমুনার লহরী,
     কেন     কুহু কুহু পিক কুহরিয়া ওঠে--
                   যামিনী যে ওঠে শিহরি।
     ওগো    যদি নিশিশেষে আসে হেসে হেসে
                   মোর হাসি আর রবে কি!
     এই      জাগরণে ক্ষীণ বদন মলিন
                   আমারে হেরিয়া কবে কী!
     আমি     সারা রজনীর গাঁথা ফুলমালা
                   প্রভাতে চরণে ঝরিব,
     ওগো    আছে সুশীতল যমুনার জল--
                   দেখে তারে আমি মরিব।
আরো দেখুন