৪৭ (aghatsonghat majhe darainu asi)

আঘাতসংঘাত-মাঝে দাঁড়াইনু আসি।

অঙ্গদ কুণ্ডল কণ্ঠী অলংকাররাশি

খুলিয়া ফেলেছি দূরে। দাও হস্তে তুলি

নিজহাতে তোমার অমোঘ শরগুলি,

তোমার অক্ষয় তূণ। অস্ত্রে দীক্ষা দেহো

রণগুরু। তোমার প্রবল পিতৃস্নেহ

ধ্বনিয়া উঠুক আজি কঠিন আদেশে।

করো মোরে সম্মানিত নববীরবেশে,

দুরূহ কর্তব্যভারে, দুঃসহ কঠোর

বেদনায়; পরাইয়া দাও অঙ্গে মোর

ক্ষতচিহ্ন-অলংকার। ধন্য করো দাসে

সফল চেষ্টায় আর নিষ্ফল প্রয়াসে।

ভাবের ললিত ক্রোড়ে না রাখি নিলীন

কর্মক্ষেত্রে করি দাও সক্ষম স্বাধীন।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

একাকী
Verses
চন্দ্রমা আকাশতলে পরম একাকী--
আপন নিঃশব্দ গানে আপনারি শূন্য দিল ঢাকি।
          অয়ি একাকিনী,
অলিন্দে নিশীথরাত্রে শুনিছ সে জ্যোৎস্নার রাগিণী
              চেয়ে শূন্যপানে,
যে রাগিণী অসীমের উৎস হতে আনে
     অনাদি বিরহরস, তাই দিয়ে ভরিয়া আঁধার
কোন্‌ বিশ্ববেদনার মহেশ্বরে দেয় উপহার।
              তারি সাথে মিলায়েছ তব দৃষ্টিখানি,
                   চোখে অনিবর্চনীয় বাণী,
          মিলায়েছ যেন তব জন্মান্তর হতে নিয়ে আসা
                        দীর্ঘনিশ্বাসের ভাষা।
          মিলায়েছ, সুগম্ভীর দুঃখের মাঝারে
যে মুক্তি রয়েছে লীন বন্ধহীন শান্ত অন্ধকারে।
অরণ্যে  অরণ্যে আজি সাগরে সাগরে,
     জনশূন্য তুষারশিখরে
কোন্‌ মহাশ্বেতা, কোন্‌ তপস্বিনী বিছাল অঞ্চল,
              স্তব্ধ অচঞ্চল,
অনন্তেরে সম্বোধিয়া কহিল সে ঊর্ধ্বে তুলি আঁখি,
              তুমিও একাকী।
আরো দেখুন
কলুষিত
Verses
শ্যামল প্রাণের উৎস হতে
                      অবারিত পুণ্যস্রোতে
                         ধৌত হয় এ বিশ্বধরণী
                             দিবসরজনী।
          হে নগরী, আপনারে বঞ্চিত করেছ সেই স্নানে,
               রচিয়াছ আবরণ কঠিন পাষাণে।
                    আছ নিত্য মলিন অশুচি,
               তোমার ললাট হতে গেছে ঘুচি
                    প্রকৃতির স্বহস্তে লিখা
                   আশীর্বাদটিকা।
                         উষা দিব্যদীপ্তিহারা
               তোমার দিগন্তে এসে। রজনীর তারা
          তোমার আকাশদুষ্ট জাতিচ্যুত, নষ্ট মন্ত্র তার,
                   বিক্ষুব্ধ নিদ্রার
          আলোড়নে ধ্যান তার অস্বচ্ছ আবিল,
                   হারালো সে মিল
          পূজাগন্ধী নন্দনের পারিজাত-সাথে
                   শান্তিহীন রাতে।
                             হেথা সুন্দরের কোলে
                         স্বর্গের বীণার সুর ভ্রষ্ট হল বলে
                   উদ্ধত হয়েছে ঊর্ধ্বে বীভৎসের কোলাহল,
                          কৃত্রিমের কারাগারে বন্দীদল
                                   গর্বভরে
                              শৃঙ্খলের পূজা করে।
                          দ্বেষ ঈর্ষা কুৎসার কলুষে
          আলোহীন অন্তরের গুহাতলে হেথা রাগে পুষে
                          ইতরের অহংকার--
                             গোপন দংশন তার;
                          অশ্লীল তাহার ক্লিন্ন ভাষা
                             সৌজন্যসংযমনাশা।
                          দুর্গন্ধ পঙ্কের দিয়ে দাগা
                   মুখোশের অন্তরালে করে শ্লাঘা;
                          সুরঙ্গ খনন করে,
          ব্যাপি দেয় নিন্দা ক্ষতি প্রতিবেশীদের ঘরে ঘরে;
                       এই নিয়ে হাটে বাটে বাঁকা কটাক্ষের
                             ব্যঙ্গভঙ্গি, চতুর বাক্যের
                                  কুটিল উল্লাস,
                                      ক্রূর পরিহাস।
                             এর চেয়ে আরণ্যক তীব্র হিংসা সেও
                                      শতগুণে শ্রেয়।
                                     ছদ্মবেশ-অপগত
                            শক্তির সরল তেজে সমুদ্যত দাবাগ্নির মতো      
                                      প্রচণ্ড নির্ঘোষ;
                                    নির্মল তাহার রোষ,
                                      তার নির্দয়তা
                             বীরত্বের মাহাত্ম্যে উন্নতা।
                                   প্রাণশক্তি তার মাঝে
                                         অক্ষুণ্ন বিরাজে।
স্বাস্থ্যহীন বীর্যহীন যে হীনতা ধ্বংসের বাহন
                   গর্তখোদা ক্রিমিগণ
                      তারি অনুচর,
              অতি ক্ষুদ্র তাই তারা অতি ভয়ংকর;
                  অগোচরে আনে মহামারী,
                   শনির কলির দত্ত সর্বনাশ তারি।
          মন মোর কেঁদে আজ উঠে জাগি
                   প্রবল মৃত্যুর লাগি।
রুদ্র, জটাবন্ধ হতে করো মুক্ত বিরাট প্লাবন,
          নীচতার ক্লেদপঙ্ক করো রক্ষা ভীষণ! পাবন!
                   তাণ্ডবনৃত্যের ভরে
দুর্বলের যে গ্লানিরে চূর্ণ করো যুগে যুগান্তরে,
       কাপুরুষ নির্জীবের সে নির্লজ্জ অপমানগুলি
              বিলুপ্ত করিয়া দিক উৎক্ষিপ্ত তোমার পদধূলি।
আরো দেখুন
19
Verses
তব জীবনের গ্রন্থখানিতে
       প্রতিদিন হোক্‌ লিখা,
মধুর ছন্দে গভীর বাণীতে
       ভরে দিক্‌ লেখনিকা।
আরো দেখুন