শেষ উপহার (shesh upohar)

আমি রাত্রি, তুমি ফুল। যতক্ষণ ছিলে কুঁড়ি

জাগিয়া চাহিয়া ছিনু আঁধার আকাশ জুড়ি

সমস্ত নক্ষত্র নিয়ে, তোমারে লুকায়ে বুকে।

যখন ফুটিলে তুমি সুন্দর তরুণ মুখে

তখনি প্রভাত এল, ফুরালো আমার কাল;

আলোকে ভাঙিয়া গেল রজনীর অন্তরাল।

এখন বিশ্বের তুমি; গুন্‌ গুন্‌ মধুকর

চারি দিকে তুলিয়াছে বিস্ময়ব্যাকুল স্বর;

গাহে পাখি, বহে বায়ু; প্রমোদহিল্লোলধারা

নবস্ফুট জীবনেরে করিতেছে দিশাহারা।

এত আলো, এত সুখ, এত গান, এত প্রাণ

ছিল না আমার কাছে, আমি করেছিনু দান

শুধু নিদ্রা, শুধু শান্তি, সযতন নীরবতা,

শুধু চেয়ে-থাকা আঁখি, শুধু মনে মনে কথা।

আর কি দিই নি কিছু? প্রলুব্ধ প্রভাত যবে

চাহিল তোমার পানে, শত পাখি শত রবে

ডাকিল তোমার নাম, তখন পড়িল ঝ'রে

আমার নয়ন হতে তোমার নয়ন-'পরে

একটি শিশিরকণা। চলে গেনু পরপার।

সেই বিষাদের বিন্দু, বিদায়ের উপহার

প্রখর প্রমোদ হতে রাখিবে শীতল ক'রে

তোমার তরুণ মুখ; রজনীর অশ্রু-'পরে

পড়ি প্রভাতের হাসি দিবে শোভা অনুপম,

বিকচ সৌন্দর্য তব করিবে সুন্দরতম।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

প্রতিনিধি
Verses
অ্যাক্‌ওয়ার্থ্‌ সাহেব কয়েকটি মারাঠি গাথার যে ইংরাজি অনুবাদগ্রন্থ প্রকাশ করিয়াছেন তাহারই ভূমিকা হইতে বর্ণিত ঘটনা গৃহীত। শিবাজির গেরুয়া পতাকা "ভগোয়া ঝেণ্ডা' নামে খ্যাত।
বসিয়া প্রভাতকালে                সেতারার দুর্গভালে
          শিবাজি হেরিলা এক দিন--
রামদাস গুরু তাঁর                 ভিক্ষা মাগি দ্বার দ্বার
          ফিরিছেন যেন অন্নহীন।
ভাবিলা, এ কী এ কাণ্ড!          গুরুজির ভিক্ষাভাণ্ড--
          ঘরে যাঁর নাই দৈন্যলেশ!
সব যাঁর হস্তগত,                   রাজ্যেশ্বর পদানত,
          তাঁরো নাই বাসনার শেষ!
এ কেবল দিনে রাত্রে              জল ঢেলে ফুটা পাত্রে
          বৃথা চেষ্টা তৃষ্ণা মিটাবারে।
কহিলা, "দেখিতে হবে           কতখানি দিলে তবে
          ভিক্ষাঝুলি ভরে একেবারে।'
তখনি লেখনী আনি                কী লিখি দিলা কী জানি,
          বালাজিরে কহিলা ডাকায়ে,
"গুরু যবে ভিক্ষা-আশে            আসিবেন দুর্গ-পাশে
          এই লিপি দিয়ো তাঁর পায়ে।'
গুরু চলেছেন গেয়ে,               সম্মুখে চলেছে ধেয়ে
          কত পান্থ কত অশ্বরথ!--
"হে ভবেশ, হে শংকর,             সবারে দিয়েছ ঘর,
          আমারে দিয়েছ শুধু পথ।
অন্নপূর্ণা মা আমার                 লয়েছে বিশ্বের ভার,
          সুখে আছে সর্ব চরাচর--
মোরে তুমি, হে ভিখারি,          মার কাছ হতে কাড়ি
          করেছ আপন অনুচর।'
সমাপন করি গান                  সারিয়া মধ্যাহ্নস্নান
          দুর্গদ্বারে আসিয়া যখন--
বালাজি নমিয়া তাঁরে              দাঁড়াইল এক ধারে
          পদমূলে রাখিয়া লিখন।
গুরু কৌতূহলভরে                 তুলিয়া লইলা করে,
          পড়িয়া দেখিলা পত্রখানি--
বন্দি তাঁর পাদপদ্ম                 শিবাজি সঁপিছে অদ্য
          তাঁরে নিজরাজ্য-রাজধানী।
পরদিনে রামদাস                  গেলেন রাজার পাশ,
          কহিলেন, "পুত্র, কহো শুনি,
রাজ্য যদি মোরে দেবে            কী কাজে লাগিবে এবে--
          কোন্‌ গুণ আছে তব গুণী?'
"তোমারি দাসত্বে প্রাণ             আনন্দে করিব দান'
          শিবাজি কহিলা নমি তাঁরে।
গুরু কহে, "এই ঝুলি              লহ তবে স্কন্ধে তুলি,
          চলো আজি ভিক্ষা করিবারে।'
শিবাজি গুরুর সাথে               ভিক্ষাপাত্র লয়ে হাতে
          ফিরিলে পুরদ্বারে-দ্বারে।
নৃপে হেরি ছেলেমেয়ে            ভয়ে ঘরে যায় ধেয়ে,
          ডেকে আনে পিতারে মাতারে।
অতুল ঐশ্বর্যে রত,                তাঁর ভিখারির ব্রত!
          এ যে দেখি জলে ভাসে শিলা!
ভিক্ষা দেয় লজ্জাভরে,          হস্ত কাঁপে থরেথরে,
          ভাবে ইহা মহতের লীলা।
দুর্গে দ্বিপ্রহর বাজে,                ক্ষান্ত দিয়া কর্মকাজে
          বিশ্রাম করিছে পুরবাসী।
একতারে দিয়ে তান               রামদাস গাহে গান
          আনন্দে নয়নজলে ভাসি,
"ওহে ত্রিভুবনপতি,                বুঝি না তোমার মতি,
          কিছুই অভাব তব নাহি--
হৃদয়ে হৃদয়ে তবু                  ভিক্ষা মাগি ফির, প্রভু,
          সবার সর্বস্বধন চাহি।'
অবশেষে দিবসান্তে                নগরের এক প্রান্তে
          নদীকূলে সন্ধ্যাস্নান সারি--
ভিক্ষা-অন্ন রাঁধি সুখে             গুরু কিছু দিলা মুখে,
          প্রসাদ পাইল শিষ্য তাঁরি।
রাজা তবে কহে হাসি,           "নৃপতির গর্ব নাশি
          করিয়াছ পথের ভিক্ষুক--
প্রস্তুত রয়েছে দাস,                আরো কিবা অভিলাষ--
          গুরু-কাছে লব গুরু দুখ।'
গুরু কহে, "তবে শোন্‌,করিলি কঠিন পণ,
          অনুরূপ নিতে হবে ভার--
এই আমি দিনু কয়ে               মোর নামে মোর হয়ে
          রাজ্য তুমি লহ পুনর্বার।
তোমারে করিল বিধি              ভিক্ষুকের প্রতিনিধি,
          রাজ্যেশ্বর দীন উদাসীন।
পালিবে যে রাজধর্ম                জেনো তাহা মোর কর্ম,
          রাজ্য লয়ে রবে রাজ্যহীন।'
"বৎস, তবে এই লহো            মোর আশীর্বাদসহ
          আমার গেরুয়া গাত্রবাস--
বৈরাগীর উত্তরীয়                  পতাকা করিয়া নিয়ো'
          কহিলেন গুরু রামদাস।
নৃপশিষ্য নতশিরে                 বসি রহে নদীতীরে,
          চিন্তারাশি ঘনায়ে ললাটে।
থামিল রাখালবেণু,                গোঠে ফিরে গেল ধেনু,
          পরপারে সূর্য গেল পাটে।
পূরবীতে ধরি তান                 একমনে রচি গান
          গাহিতে লাগিলা রামদাস,
"আমারে রাজার সাজে   বসায়ে সংসারমাঝে
          কে তুমি আড়ালে কর বাস!
হে রাজা, রেখেছি আনি তোমারি পাদুকাখানি,
          আমি থাকি পাদপীঠতলে--
সন্ধ্যা হয়ে এল ওই,              আর কত বসে রই!
          তব রাজ্যে তুমি এসো চলে।'
আরো দেখুন
34
Verses
LET ONLY THAT little be left of me whereby I may name thee my all.
Let only that little be left of my will whereby I may feel thee on every side, and come to thee in everything, and offer to thee my love every moment.
Let only that little be left of me whereby I may never hide thee.
Let only that little of my fetters be left whereby I am bound with thy will, and thy purpose is carried out in my life-and that is the fetter of thy love.
আরো দেখুন
নাম তার সন্তোষ
Verses
নাম তার সন্তোষ,
   জঠরে অগ্নিদোষ,
হাওয়া খেতে গেল সে পচম্বা।
নাকছাবি দিয়ে নাকে
   বাঘনাপাড়ায় থাকে
     বউ তার বেঁটে জগদম্বা।
ডাক্তার গ্রেগ্‌সন
   দিল ইনজেক্‌শন--
দেহ হল সাত ফুট লম্বা।
এত বাড়াবাড়ি দেখে
     সন্তোষ কহে হেঁকে,
'অপমান সহিব কথম্‌ বা।
     শুন ডাক্তার ভায়া,
       উঁচু করো মোর পায়া,
     স্ত্রীর কাছে কেন রব কম বা।
     খড়ম জোড়ায় ঘষে
       ওষুধ লাগাও কষে'--
     শুনে ডাক্তার হতভম্বা।
আরো দেখুন