উপহার (upohar)

মণিমালা হাতে নিয়ে

                 দ্বারে গিয়ে

            এসেছিনু ফিরে

                 নতশিরে।

            ক্ষণতরে বুঝি

       বাহিরে ফিরেছি খুঁজি

                 হায় রে বৃথাই

            বাহিরে যা নাই।

ভীরু মন চেয়েছিল ভুলায়ে জিনিতে,

       হীরা দিয়ে হৃদয় কিনিতে।

            এই পণ মোর,

            সমস্ত জীবন-ভোর

       দিনে দিনে দিব তার হাতে তুলি

স্বর্গের দাক্ষিণ্য হতে আসিবে যে শ্রেষ্ঠ ক্ষণগুলি;

                 কণ্ঠহারে

            গেঁথে দিব তারে

            যে দুর্লভ রাত্রি মম

                 বিকশিবে ইন্দ্রাণীর পারিজাতসম।

                     পায়ে দিব তার

যে-এক মুহূর্ত আনে প্রাণের অনন্ত উপহার।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

দুঃখ যেন জাল পেতেছে
Verses
দুঃখ যেন জাল পেতেছে চারদিকে;
চেয়ে দেখি  যার দিকে
সবাই যেন দুর্‌গ্রহদের মন্ত্রণায়
গুমরে কাঁদে যন্ত্রণায়।
লাগছে মনে এই জীবনের মূল্য নেই,
আজকে দিনের চিত্তদাহের তুল্য নেই।
যেন এ দুখ অন্তহীন,
ঘরছাড়া মন ঘুরবে কেবল পন্থহীন।
এমন সময় অকস্মাৎ
মনের মধ্যে হানল চমক তড়িদ্‌ঘাত,
এক নিমেষেই ভাঙল আমার বন্ধ দ্বার,
ঘুচল হঠাৎ অন্ধকার।
সুদূর কালের দিগন্তলীন বাগবাদিনীর পেলেম সাড়া
শিরায় শিরায় লাগল নাড়া।
যুগান্তরের ভগ্নশেষে
ভিত্তিছায়ায় ছায়ামূর্তি মুক্তকেশে
বাজায় বীণা; পূর্বকালের কী আখ্যানে
উদার সুরের তানের তন্তু গাঁথছে গানে;
দুঃসহ কোন্‌ দারুণ দুখে স্মরণ-গাঁথা
করুণ গাথা;
দুর্দাম কোন্‌ সর্বনাশের ঝঞ্ঝাঘাতের
মৃত্যুমাতাল বজ্রপাতের
গর্জরবে
রক্তরঙিন যে-উৎসবে
রুদ্রদেবের ঘূর্ণিনৃত্যে উঠল মাতি
প্রলয়রাতি,
তাহারি ঘোর শঙ্কাকাঁপন বারে বারে
ঝংকারিয়া কাঁপছে বীণার তারে তারে।
জানিয়ে দিলে আমায়, অয়ি
অতীতকালের হৃদয়পদ্মে নিত্য-আসীন ছায়াময়ী,
আজকে দিনের সকল লজ্জা সকল গ্লানি
পাবে যখন তোমার বাণী,
বর্ষশতের ভাসান-খেলার নৌকা যবে
অদৃশ্যেতে মগ্ন হবে,
মর্মদহন দুঃখশিখা
হবে তখন জ্বলনবিহীন আখ্যায়িকা,
বাজবে তারা অসীম কালের নীরব গীতেশান্ত গভীর মাধুরীতে;
ব্যথার ক্ষত মিলিয়ে যাবে নবীন ঘাসে,
মিলিয়ে যাবে সুদূর যুগের শিশুর উচ্চহাসে।
আরো দেখুন
বিদেশী ফুল
Verses
          হে বিদেশী ফুল, যবে আমি পুছিলাম--
                                      "কী তোমার নাম',
          হাসিয়া দুলালে মাথা, বুঝিলাম তরে
                                      নামেতে কী হবে।
                             আর কিছু নয়,
                   হাসিতে তোমার পরিচয়।
   হে বিদেশী ফুল, যবে তোমারে বুকের কাছে ধরে
                      শুধালেম "বলো বলো মোরে
                                      কোথা তুমি থাকো',
হাসিয়া দুলালে মাথা, কহিলে "জানি না, জানি নাকো'।
                                      বুঝিলাম তবে
                                      শুনিয়া কী হবে
                             থাকো কোন্‌ দেশে।
                   যে তোমারে বোঝে ভালোবেসে
                             তাহার হৃদয়ে তব ঠাঁই,
                                      আর কোথা নাই।
হে বিদেশী ফুল, আমি কানে কানে শুধানু আবার,
                                         "ভাষা কী তোমার।'
                                      হাসিয়া দুলালে শুধু মাথা,
                                      চারি দিকে মর্মরিল পাতা।
                             আমি কহিলাম, "জানি, জানি,
                                                সৌরভের বাণী
                             নীরবে জানায় তব আশা।
নিশ্বাসে ভরেছে মোর সেই তব নিশ্বাসের ভাষা।'
হে বিদেশী ফুল, আমি যেদিন প্রথম এনু ভোরে
                             শুধালেম, "চেন তুমি মোরে?'
হাসিয়া দুলালে মাথা, ভাবিলাম তাহে একরতি
                                      নাহি কারো ক্ষতি।
          কহিলাম, "বোঝ নি কি তোমার পরশে
                   হৃদয় ভরেছে মোর রসে।
          কেউ বা আমারে চেনে এর চেয়ে বেশি,
                   হে ফুল বিদেশী।'
হে বিদেশী ফুল, যবে তোমারে শুধাই "বলো দেখি
                             মোরে ভুলিবে কি',
হাসিয়া দুলাও মাথা; জানি জানি মোরে ক্ষণে ক্ষণে
                             পড়িবে যে মনে।
                             দুই দিন পরে
                      চলে যাব দেশান্তরে,
তখন দূরের টানে স্বপ্নে আমি হব তব চেনা--
                                      মোরে ভুলিবে না।
আরো দেখুন
13
Verses
এই যে এরা আঙিনাতে
            এসেছে জুটি।
মাঠের গোরু গোঠে এনে
              পেয়েছে ছুটি।
দোলে হাওয়া বেণুর শাখে
চিকন পাতার ফাঁকে ফাঁকে
অন্ধকারে সন্ধ্যাতারা
                উঠেছে ফুটি।
ঘরের ছেলে ঘরের মেয়ে
               বসেছে মিলে।
তারি মাঝে তোমার আসন
              তুমি যে নিলে।
আপন চেনা লোকের মতো
নাম দিয়েছে তোমায় কত,
           সে-নাম ধরে ডাকে ওরা
           সন্ধ্যা নামিলে।
মানীর দ্বারে মান ওরা হায়
           পায় না তো কেহ।
ওদের তরে রাজার ঘরে
           বন্ধ যে গেহ।
জীর্ণ আঁচল ধুলায় পাতে,
বসিয়ে তোমায় নৃত্যে মাতে,
কোন্‌ ভরসায় চরণ ধরে
            মলিন ওই দেহ।
রাতের পাখি উঠছে ডাকি
নদীর কিনারে।
কৃষ্ণপক্ষে চাঁদের রেখা
            বনের ওপারে।
গাছে গাছে জোনাক জ্বলে,
পল্লীপথে লোক না চলে,
শূন্য মাঠে শৃগাল হাঁকে
        গভীর আঁধারে।
জ্বলে নেভে কত সূর্য
      নিখিল ভুবনে।
ভাঙে গড়ে কত প্রতাপ
      রাজার ভবনে।
তারি মাঝে আঁধার রাতে
পল্লীঘরের আঙিনাতে
দীনের কণ্ঠে নামটি তোমার
       উঠছে গগনে।
আরো দেখুন