অবশেষে (obosheshe)

বাহির-পথে বিবাগী হিয়া

                             কিসের খোঁজে গেলি,

                   আয় রে ফিরে আয়।

পুরানো ঘরে দুয়ার দিয়া

                             ছেঁড়া আসন মেলি

                   বসিবি নিরালায়।

সারাটা বেলা সাগর-ধারে

                             কুড়ালি যত নুড়ি,

নানারঙের শামুক-ভারে

                             বোঝাই হল ঝুড়ি,

লবণ-পারাবারের পারে

                             প্রখর তাপে পুড়ি

                   মরিলি পিপাসায়;

ঢেউয়ের দোল তুলিল রোল

                             অকূলতল জুড়ি,

কহিল বাণী কী জানি কী ভাষায়।

                             আয় রে ফিরে আয়।

বিরাম হল আরামহীন

                             যদি রে তোর ঘরে,

                   না যদি রয় সাথি,

সন্ধ্যা যদি তন্দ্রালীন

                             মৌন অনাদরে,

                   না যদি জ্বালে বাতি;

তবু তো আছে আঁধার কোণে

                             ধ্যানের ধনগুলি,

একেলা বসি আপনমনে

                             মুছিবি তার ধূলি,

গাঁথিবি তারে রতনহারে

                             বুকেতে নিবি তুলি

                   মধুর বেদনায়।

কাননবীথি ফুলের রীতি

                             নাহয় গেছে ভুলি,

তারকা আছে গগন-কিনারায়।

                             আয় রে ফিরে আয়।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

32
Verses
নির্জন শয়ন-মাঝে কালি রাত্রিবেলা
ভাবিতেছিলাম আমি বসিয়া একেলা
গতজীবনের কত কথা; হেন ক্ষণে
শুনিলাম তুমি কহিতেছ মোর মনে--
"ওরে মত্ত ওরে মুগ্ধ, ওরে আত্মভোলা,
রেখেছিলি আপনার সব দ্বার খোলা;
চঞ্চল এ সংসারের যত ছায়ালোক,
যত ভুল, যত ধূলি, যত দুঃখশোক,
যত ভালোমন্দ, যত গীতগন্ধ লয়ে
বিশ্ব পশেছিল তোর অবাধ আলয়ে।
সেই সাথে তোর মুক্ত বাতায়নে আমি
অজ্ঞাতে অসংখ্য বার এসেছিনু নামি।
দ্বার রুধি জপিতিস মোর নাম
কোন্‌ পথ দিয়ে তোর চিত্তে পশিতাম!'
আরো দেখুন
10
Verses
THE TREE GAZES in love at its own beautiful shadow
which yet it never can grasp.
আরো দেখুন
গান-সমাপন
Verses
    জনমিয়া এ সংসারে       কিছুই শিখি নি আর,
                  শুধু গাই গান।
    স্নেহময়ী মার কাছে       শৈশবে শিখিয়াছিনু।
                 দু-একটি তান।
                 শুধু জানি তাই,
            দিবানিশি তাই শুধু গাই।
    শতছিদ্রময় এই             হৃদয়-বাঁশিটি লয়ে।
                 বাজাই সতত--
    দূঃখের কঠোর স্বর        রাগিনী হইয়া যায়,
                 মৃদূল নিশ্বাসে পরিণত।
    আঁধার জলদ যেন          ইন্দ্রধনু হয়ে যায়।
                 ভুলে যাই সকল যাতনা।
                 ভালো যদি না লাগে সে গান
                 ভালো সখা, তাও গাহিব না।
    এমন পণ্ডিত কত          রয়েছেন শত শত
                 এ সংসারতলে,
    আকাশের দৈতাবালা      উন্মাদিনী চপলারে
        বেঁধে রাখে দাসত্বের লোহার শিকলে।
    আকাশ ধরিয়া হাতে       নক্ষত্র-অক্ষর দেখি
                 গ্রন্থ পাঠ করিছেন তাঁরা,
    জ্ঞানের বন্ধন যত           ছিন্ন করে দিতেছেন
            ভাঙি ফেলি অতীতের কারা।
            আমি তার কিছুই করি না,
            আমি তার কিছুই জানি না।
            এমন মহান্‌ এ সংসারে
            জ্ঞানরত্নরাশির মাঝারে
            আমি দীন শুধু গান গাই,
            তোমাদের মুখপানে চাই।
            ভালো যদি না লাগে সে গান
            ভালো সখা, তাও গাহিব না।
বড়ো ভয় হয়, পাছে     কেহই না দেখে তারে
            যে জন কিছুই শেখে নাই।
            ওগো সখা, ভয়ে ভয়ে তাই
            যাহা জানি সেই গান গাই,
            তোমাদের মুখপানে চাই।
    শ্রান্ত দেহ হীনবল,               নয়নে পড়িছে জল,
                 রক্ত ঝরে চরণে আমার,
    নিশ্বাস বহিছে বেগে,             হৃদয়-বাঁশিটি মম
                 বাজে না বাজে না বুঝি আর।
    দিন গেল, সন্ধ্যা গেল,    কেহ দেখিলে না চেয়ে।
                 যত গান গাই।
                 বুঝি কারো অবসর নাই।
                 বুঝি কারো ভালো নাহি লাগে--
                 ভালো সখা, আর গাহিব না।
আরো দেখুন