মায়া (maya)

       চিত্তকোণে ছন্দে তব

            বাণীরূপে

       সংগোপনে আসন লব

            চুপে চুপে।

সেইখানেতেই আমার অভিসার,

       যেথায় অন্ধকার

ঘনিয়ে আছে চেতন-বনের

       ছায়াতলে,

যেথায় শুধু ক্ষীণ জোনাকির

       আলো জ্বলে।

সেথায় নিয়ে যাব আমার

       দীপশিখা,

গাঁথব আলো-আঁধার দিয়ে

       মরীচিকা।

মাথা থেকে খোঁপার মালা খুলে

       পরিয়ে দেব চুলে--

গন্ধ দিবে সিন্ধুপারের

       কুঞ্জবীথির,

আনবে ছবি কোন্‌ বিদেশের

       কী বিস্মৃতির।

পরশ মম লাগবে তোমার

       কেশে বেশে,

অঙ্গে তোমার রূপ নিয়ে গান

       উঠবে ভেসে।

ভৈরবীতে উচ্ছল গান্ধার,

       বসন্তবাহার,

পূরবী কি ভীমপলাশি

       রক্তে দোলে--

রাগরাগিণী দুঃখে সুখে

       যায়-যে গ'লে।

হাওয়ায় ছায়ায় আলোয় গানে

       আমরা দোঁহে

আপন মনে রচব ভুবন

       ভাবের মোহে।

রূপের রেখায় মিলবে রসের রেখা,

       মায়ার চিত্রলেখা--

বস্তু হতে সেই মায়া তো

       সত্যতর,

তুমি আমায় আপনি র'চে

       আপন কর।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

168
Verses
বায়ু চাহে মুক্তি দিতে,
      বন্দী করে গাছ--
দুই বিরুদ্ধের যোগে
      মঞ্জরীর নাচ।
আরো দেখুন
অভয়
Verses
আজি বর্ষশেষ-দিনে, গুরুমহাশয়,
কারে দেখাইছ বসে অন্তিমের ভয়?
অনন্ত আশ্বাস আজি জাগিছে আকাশে,
অনন্ত জীবনধারা বহিছে বাতাসে,
জগৎ উঠেছে হেসে জাগরণসুখে,
ভয় শুধু লেগে আছে তব শুষ্ক মুখে।
দেবতা রাক্ষস নহে মেলি মৃত্যুগ্রাস--
প্রবঞ্চনা করি তুমি দেখাইছ ত্রাস।
বরঞ্চ ঈশ্বরে ভুলি স্বল্প তাহে ক্ষতি--
ভয়, ঘোর অবিশ্বাস ঈশ্বরের প্রতি।
তিনি নিজে মৃত্যুকথা ভুলায়ে ভুলায়ে
রেখেছেন আমাদের সংসারকুলায়ে।
তুমি কে কর্কশ কণ্ঠ তুলিছ ভয়ের?
আনন্দই উপাসনা আনন্দময়ের।
আরো দেখুন
১৭৬
Verses
১৭৬
ধুলায় মারিলে লাথি ঢোকে চোখে মুখে।
জল ঢালো, বালাই নিমেষে যাবে চুকে॥  
আরো দেখুন