অভয় (obhay)

আজি বর্ষশেষ-দিনে, গুরুমহাশয়,

কারে দেখাইছ বসে অন্তিমের ভয়?

অনন্ত আশ্বাস আজি জাগিছে আকাশে,

অনন্ত জীবনধারা বহিছে বাতাসে,

জগৎ উঠেছে হেসে জাগরণসুখে,

ভয় শুধু লেগে আছে তব শুষ্ক মুখে।

দেবতা রাক্ষস নহে মেলি মৃত্যুগ্রাস--

প্রবঞ্চনা করি তুমি দেখাইছ ত্রাস।

বরঞ্চ ঈশ্বরে ভুলি স্বল্প তাহে ক্ষতি--

ভয়, ঘোর অবিশ্বাস ঈশ্বরের প্রতি।

তিনি নিজে মৃত্যুকথা ভুলায়ে ভুলায়ে

রেখেছেন আমাদের সংসারকুলায়ে।

তুমি কে কর্কশ কণ্ঠ তুলিছ ভয়ের?

আনন্দই উপাসনা আনন্দময়ের।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

11
Verses
কলরবমুখরিত খ্যাতির প্রাঙ্গণে যে আসন
পাতা হয়েছিল কবে, সেথা হতে উঠে এসো কবি,
পূজা সাঙ্গ করি দাও চাটুলুব্ধ জনতাদেবীরে
বচনের অর্ঘ্য বিরচিয়া। দিনের সহস্র কণ্ঠ
ক্ষীণ হয়ে এল; যে প্রহরগুলি ধ্বনিপণ্যবাহী
নোঙর ফেলেছে তারা সন্ধ্যার নির্জন ঘাটে এসে।
আকাশের আঙিনায় শান্ত যেথা পাখির কাকলি
সুরসভা হতে সেথা নৃত্যপরা অপ্সরকন্যার
বাষ্পে-বোনা চেলাঞ্চল উড়ে পড়ে, দেহ ছড়াইয়া
স্বর্ণোজ্জ্বল বর্ণরশ্মিচ্ছটা। চরম ঐশ্বর্য নিয়ে
অস্তলগনের, শূন্য পূর্ণ করি এল চিত্রভানু,
দিল মোরে করস্পর্শ, প্রসারিল দীপ্ত শিল্পকলা
অন্তরের দেহলিতে, গভীর অদৃশ্যলোক হতে
ইশারা ফুটিয়া পড়ে তুলির রেখায়। আজন্মের
বিচ্ছিন্ন ভাবনা যত, স্রোতের সেঁউলি-সম যারা
নিরর্থক ফিরেছিল অনিশ্চিত হাওয়ায় হাওয়ায়,
রূপ নিয়ে দেখা দেবে ভাঁটার নদীর প্রান্ততীরে
অনাদৃত মঞ্জরীর অজানিত আগাছার মতো--
কেহ শুধাবে না নাম, অধিকারগর্ব নিয়ে তার
ঈর্ষা রহিবে না কারো,অনামিক স্মৃতিচিহ্ন তারা
খ্যাতিশূন্য অগোচরে রবে যেন অস্পষ্ট বিস্মৃতি।
আরো দেখুন
ছুটির দিনে
Verses
ওই দেখো মা, আকাশ ছেয়ে
          মিলিয়ে এল আলো,
আজকে আমার ছুটোছুটি
          লাগল না আর ভালো।
ঘণ্টা বেজে গেল কখন,
          অনেক হল বেলা।
তোমায় মনে পড়ে গেল,
          ফেলে এলেম খেলা।
আজকে আমার ছুটি, আমার
          শনিবারের ছুটি।
কাজ যা আছে সব রেখে আয়
          মা তোর পায়ে লুটি।
দ্বারের কাছে এইখানে বোস,
          এই হেথা চোকাঠ --
বল্‌ আমারে কোথায় আছে
          তেপান্তরের মাঠ।
ওই দেখো মা, বর্ষা এল
          ঘনঘটায় ঘিরে,
বিজুলি ধায় এঁকেবেঁকে
          আকাশ চিরে চিরে।
দেব্‌তা যখন ডেকে ওঠে
            থর্‌থরিয়ে কেঁপে
ভয় করতেই ভালোবাসি
            তোমায় বুকে চেপে।
ঝুপ্‌ঝুপিয়ে বৃষ্টি যখন
            বাঁশের বনে পড়ে
কথা শুনতে ভালোবাসি
            বসে কোণের ঘরে।
ওই দেখো মা, জানলা দিয়ে
            আসে জলের ছাট --
বল্‌ গো আমায় কোথায় আছে
            তেপান্তরের মাঠ।
কোন্‌ সাগরের তীরে মা গো,
            কোন্‌ পাহাড়ের পারে,
কোন্‌ রাজাদের দেশে মা গো,
            কোন্‌ নদীটির ধারে।
কোনোখানে আল বাঁধা তার
            নাই ডাইনে বাঁয়ে?
পথ দিয়ে তার সন্ধেবেলায়
            পৌঁছে না কেউ গাঁয়ে?
সারা দিন কি ধূ ধূ করে
            শুকনো ঘাসের জমি?
একটি গাছে থাকে শুধু
            ব্যাঙ্গমা-বেঙ্গমী?
সেখান দিয়ে কাঠকুড়ুনি
            যায় না নিয়ে কাঠ?
বল্‌ গো আমায় কোথায় আছে
            তেপান্তরের মাঠ।
এমনিতরো মেঘ করেছে
          সারা আকাশ ব্যেপে,
রাজপুত্তুর যাচ্ছে মাঠে
          একলা ঘোড়ায় চেপে।
গজমোতির মালাটি তার
          বুকের 'পরে নাচে--
রাজকন্যা কোথায় আছে
          খোঁজ পেলে কার কাছে।
মেঘে যখন ঝিলিক মারে
          আকাশের এক কোণে
দুয়োরানী-মায়ের কথা
          পড়ে না তার মনে?
দুখিনা মা গোয়াল-ঘরে
          দিচ্ছে এখন ঝাঁট,
রাজপুত্তুর চলে যে কোন্‌
          তেপান্তরের মাঠ।
ওই দেখো মা, গাঁয়ের পথে
          লোক নেইকো মোটে,
রাখাল-ছেলে সকাল করে
          ফিরেছে আজ গোঠে।
আজকে দেখো রাত হয়েছে
          দিস না যেতে যেতে,
কৃষাণেরা বসে আছে
          দাওয়ায় মাদুর পেতে।
আজকে আমি নুকিয়েছি মা,
          পুঁথিপত্তর যত--
পড়ার কথা আজ বোলো না।
          যখন বাবার মতো।
বড়ো হব তখন আমি
             পড়ব প্রথম পাঠ --
  আজ বলো মা, কোথায় আছে
            তেপান্তরের মাঠ।
আরো দেখুন
রানী, তোর ঠোঁট দুটি মিঠি
Verses
রানী, তোর ঠোঁট দুটি মিঠি
রানী, তোর মধুখানা দিঠি
রানী, তুই মণি তুই ধন,
তোর কথা ভাবি সারাক্ষণ।
দীর্ঘ সন্ধ্যা কাটে কী করিয়া?
সাধ যায় তোর কাছে গিয়া
চুপিচাপি বসি এক ভিতে
ছোটোছোটো সেই ঘরটিতে।
ছোটো হাতখানি হাতে করে
অধরেতে রেখে দিই ধরে।
ভিজাই ফেলিয়া আঁখিজল
ছোট সে কোমল করতল।
আরো দেখুন