দর্পণ (dorpon)

দর্পণ লইয়া তারে কী প্রশ্ন শুধাও একমনে

হে সুন্দরী, কী সংশয় জাগে তব উদ্‌বিগ্ন নয়নে।

নিজেরে দেখিতে চাও বাহিরে রাখিয়া আপনারে

যেন আর কারো চোখে; আর কারো জীবনের দ্বারে

খুঁজিছ আপন স্থান। প্রেমের অর্ঘ্যের কোনো ত্রুটি

দেখ কি মুখের কোনোখানে। তাই তব আঁখিদুটি

নিজেরে কি করিছে ভর্ৎসনা। সাজায়ে লইয়া সর্বদেহে

স্বর্গের গর্বের ধন, তবে যেতে চাও তার গেহে?

জান না কি হে রমণী, দর্পণে যা দেখিছ তা ছায়া,

পার না রচিতে কভু তাই দিয়ে চিরস্থায়ী মায়া।

তিলোত্তমা অনুপমা সুরেন্দ্রের প্রমোদপ্রাঙ্গণে

কঙ্কণঝংকারে আর নৃত্যলোল নূপুরনিক্বণে

নাচিয়া বাহিরে চলে যায়। লয়ে আত্মনিবেদন

গৌরবে জিনিলা শচী ইন্দ্রলোকে নন্দন-আসন।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

47
Verses
লুকিয়ে আস আঁধার রাতে
            তুমিই আমার বন্ধু
লও যে টেনে কঠিন হাতে
            তুমি আমার আনন্দ।
দুঃখরথের তুমিই রথী
            তুমিই আমার বন্ধু,
তুমি সংকট তুমিই ক্ষতি
            তুমি আমার আনন্দ।
শত্রু আমারে কর গো জয়
            তুমিই আমার বন্ধু,
রুদ্র তুমি হে ভয়ের ভয়
            তুমি আমার আনন্দ।
বজ্র এসো হে বক্ষ চিরে
            তুমিই আমার বন্ধু,
মৃত্যু লও হে বাঁধন ছিঁড়ে
            তুমি আমার আনন্দ!
আরো দেখুন
গুপ্তধন
Verses
আরো কিছুখন নাহয় বসিয়ো পাশে,
                   আরো যদি কিছু কথা থাকে তাই বলো।
শরৎ-আকাশ হেরো ম্লান হয়ে আসে,
                   বাষ্প-আভাসে দিগন্ত ছলোছলো।
জানি তুমি কিছু চেয়েছিলে দেখিবারে,
তাই তো প্রভাতে এসেছিলে মোর দ্বারে,
দিন না ফুরাতে দেখিতে পেলে কি তারে
      হে পথিক, বলো বলো--
সে মোর অগম অন্তর-পারাবারে
      রক্তকমল তরঙ্গে টলোমলো।
দ্বিধাভরে আজও প্রবেশ কর নি ঘরে,
      বাহির-আঙনে করিলে সুরের খেলা,
জানি না কী নিয়ে যাবে-যে দেশান্তরে,
      হে অতিথি, আজি শেষবিদায়ের বেলা।
প্রথম প্রভাতে সব কাজ তব ফেলে
যে গভীর বাণী শুনিবারে কাছে এলে,
কোনোখানে কিছু ইশারা কি তার পেলে
      হে পথিক, বলো বলো--
সে বাণী আপন গোপন প্রদীপ জ্বেলে
      রক্ত-আগুনে প্রাণে মোর জ্বলোজ্বলো।
আরো দেখুন
23
Verses
জ্বালো ওগো, জ্বালো ওগো, সন্ধ্যাদীপ জ্বালো
হৃদয়ের এক প্রান্তে ওইটুকু আলো
স্বহস্তে জাগায়ে রাখো। তাহারি পশ্চাতে
আপনি বসিয়া থাকো আসন্ন এ রাতে
যতনে বাঁধিয়া বেণী সাজি রক্তাম্বরে
আমার বিক্ষিপ্ত চিত্ত কাড়িবার তরে
জীবনের জাল হতে। বুঝিয়াছি আজি
বহুকর্মকীর্তিখ্যাতি আয়োজনরাজি
শুষ্ক বোঝা হয়ে থাকে, সব হয় মিছে
যদি সেই স্তূপাকার উদ্‌যোগের পিছে
না থাকে একটি হাসি; নানা দিক হতে
নানা দর্প নানা চেষ্টা সন্ধ্যার আলোতে
এক গৃহে ফিরে যদি নাহি রাখে স্থির
একটি প্রেমের পায়ে শ্রান্ত নতশির।
আরো দেখুন