লেখন (7)

স্ফুলিঙ্গ তার পাখায় পেল ক্ষণকালের ছন্দ।

উড়ে গিয়ে ফুরিয়ে গেল সেই তারি আনন্দ॥

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

নারী
Verses
তুমি এ মনের সৃষ্টি, তাই মনোমাঝে
এমন সহজে তব প্রতিমা বিরাজে।
যখন তোমারে হেরি জগতের তীরে
মনে হয় মন হতে এসেছ বাহিরে।
যখন তোমারে দেখি মনোমাঝখানে
মনে হয় জন্ম-জন্ম আছ এ পরানে।
মানসীরূপিণী তুমি, তাই দিশে দিশে
সকল সৌন্দর্যসাথে যাও মিলে মিশে।
চন্দ্রে তব মুখশোভা, মুখে চন্দ্রোদয়,
নিখিলের সাথে তব নিত্য বিনিময়।
মনের অনন্ত তৃষ্ণা মরে বিশ্ব ঘুরি,
মিশায় তোমার সাথে নিখিল মাধুরী।
তার পরে মনগড়া দেবতারে মন
ইহকাল পরকাল করে সমর্পণ।
আরো দেখুন
বিকাশ
Verses
          আজ   বুকের বসন ছিঁড়ে ফেলে
                   দাঁড়িয়েছে এই প্রভাতখানি,
                আকাশেতে সোনার আলোয়
                   ছড়িয়ে গেল তাহার বাণী।
                কুঁড়ির মতো ফেটে গিয়ে
                   ফুলের মতো উঠল কেঁদে
                সুধাকোষের সুগন্ধ তার
                   পারলে না আর রাখতে বেঁধে।
                ওরে মন, খুলে দে মন,
                   যা আছে তোর খুলে দে--
                অন্তরে যা ডুবে আছে
                   আলোক-পানে তুলে দে।
                আনন্দে সব বাধা টুটে
                   সবার সাথে ওঠ্‌ রে ফুটে,
                চোখের 'পরে আলসভরে
                   রাখিস নে আর আঁচল টানি।
          আজ   বুকের বসন ছিঁড়ে ফেলে
                   দাঁড়িয়েছে এই প্রভাতখানি।
আরো দেখুন
এগারো
Verses
ফাল্গুনের রঙিন আবেশ
            যেমন দিনে দিনে মিলিয়ে দেয় বনভূমি
                   নীরস বৈশাখের রিক্ততায়,
তেমনি করেই সরিয়ে ফেলেছ হে প্রমদা, তোমার মদির মায়া    
                  অনাদরে অবহেলায় ।
একদিন আপন হাতে আমার চোখে বিছিয়েছিলে বিহ্বলতা,
                   রক্তে দিয়েছিলে দোল,
                          চিত্তে ভরেছিলে নেশায়,হে আমার সাকী,
পাত্র উজাড় ক'রে
   জাদুরসধারা আজ ঢেলে দিয়েছ ধুলায় ।
আজ উপেক্ষা করেছ আমার স্তুতিকে,
   আমার দুই চক্ষুর বিস্ময়কে ডাক দিতে ভুলে গেলে;
            আজ তোমার সাজের মধ্যে  কোনো আকুতি নেই;
               নেই সেই নীরব সুরের ঝংকার
                  যা আমার নামকে দিয়েছিল রাগিণী ।
শুনেছি একদিন চাঁদের দেহ ঘিরে
              ছিল হাওয়ার আবর্ত ।
    তখন ছিল তার রঙের শিল্প,
              ছিল সুরের মন্ত্র,
                     ছিল সে নিত্য নবীন ।
        দিনে দিনে উদাসী কেন ঘুচিয়ে দিল
                     আপন লীলার প্রবাহ ।
কেন ক্লান্ত হল সে আপনার মাধুর্যকে নিয়ে ।
    আজ শুধু তার মধ্যে আছে
          আলোছায়ার মৈত্রীবিহীন দ্বন্দ্ব --
                    ফোটে না ফুল,
                       বহে না কলমুখরা নির্ঝরিণী ।
সেই বাণীহারা চাঁদ তুমি আজ আমার কাছে ।
        দুঃখ এই যে,এতে দুঃখ নেই তোমার মনে ।
একদিন নিজেকে নূতন নূতন ক'রে সৃষ্টি করেছিলে মায়াবিনী,
   আমারই ভালোলাগার রঙে রঙিয়ে ।
আজ তারই উপর তুমি টেনে দিলে
         যুগান্তের কালো যবনিকা
                         বর্ণহীন,ভাষাহীন ।
ভুলে গেছ যতই দিতে এসেছিলে আপনাকে
       ততই পেয়েছিলে আপনাকে বিচিত্র করে ।
  আজ আমাকে বঞ্চিত করে
  বঞ্চিত হয়েছ আপন সার্থকতায় ।
তোমার মাধুর্যযুগের ভগ্নশেষ
                   রইল আমার মনের স্তরে স্তরে --
সেদিনকার তোরণের স্তুপ,
                   প্রাসাদের ভিত্তি,
গুল্মে-ঢাকা বাগানের পথ ।
আমি বাস করি
  তোমার ভাঙা ঐশ্বর্যের ছড়ানো টুকরোর মধ্যে ।
                   আমি খুঁজে বেড়াই মাটির তলার অন্ধকার,
                       কুড়িয়ে রাখি যা ঠেকে হাতে ।
আর তুমি আছ
আপন কৃপণতার পাণ্ডুর মরুদেশে,
পিপাসিতের জন্যে জল নেই সেখানে,
  পিপাসাকে ছলনা করতে পারে
                নেই এমন মরীচিকারও সম্বল ।
আরো দেখুন