লেখন (55)

৫৫

৫৫

চাহিয়া প্রভাতরবির নয়নে

       গোলাপ উঠিল ফুটে।

"রাখিব তোমায় চিরকাল মনে'

       বলিয়া পড়িল টুটে॥  

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

হনুচরিত
Verses
হনু বলে, তুলব আমি গন্ধমাদন,
       অসাধ্য যা তাই জগতে করব সাধন।
           এই ব'লে তার প্রকাণ্ড কায় উঠল ফুলে।
মাথাটা তার কোথায় গিয়ে ঠেকল মেঘে,
       শালের গুঁড়ি ভাঙল পায়ের ধাক্কা লেগে,
           দশটা পাহাড় ঢাকল তাহার দশ আঙুলে।
পড়ল বিপুল দেহের ছায়া যে দিক বাগে
       দুপুর-বেলায় সেথায় যেন সন্ধ্যা লাগে,
           গোরু যত মাঠ ছেড়ে সব গোষ্ঠে ছোটে।
সেই দিকেতে সূর্যহারা আকাশ-তলে
       দিন না যেতেই অন্ধকারের তারা জ্বলে,
           শেয়ালগুলো হুক্কাহুয়া চেঁচিয়ে ওঠে।
লেজ বেড়ে যায় হু হু ক'রে এঁকে বেঁকে,
       লেজের মধ্যে বন্যা নামল কোথা থেকে,
           নগর পল্লী তলায় তাহার চাপা পড়ে।
হঠাৎ কখন্‌ মস্ত মোটা লেজের বাধায়
       নদীর স্রোতের মধ্যখানে বাঁধ বেঁধে যায়,
           উপড়ে পড়ে দেবদারুবন লেজের ঝড়ে।
লেজের পাকে পাহাড়টাকে দিল মোড়া,
       ঝেঁকে ঝেঁকে উঠল কেঁপে আগাগোড়া,
           দুড়্‌দাড়িয়ে পাথর পড়ে খ'সে খ'সে।
গিরির চূড়া এক পাশেতে পড়ল ঝুঁকি,
       অরণ্যে হয় গাছে গাছে ঠোকাঠুকি,
           আগুন লাগে শাখায় শাখায় ঘ'ষে ঘ'ষে।
পক্ষী সবে আর্তরবে বেড়ায় উড়ে,
       বাঘ-ভালুকের ছুটোছুটি পাহাড় জুড়ে,
           ঝর্নাধারা ছড়িয়ে গেল ঝর্‌ঝরিয়ে।
উপুড় হয়ে গন্ধমাদন পড়ল লুটে,
       বসুন্ধরার পাষাণ-বাঁধন যায় রে টুটে।
           ভীষণ শব্দে দিগ্‌দিগন্ত থর্‌থরিয়ে
ঘূর্ণিধুলা নৃত্য করে অম্বরেতে,
       ঝঞ্ঝাহাওয়া হুংকারিয়া বেড়ায় মেতে,
           ধূসর রাত্রি লাগল যেন দিগ্‌বিদিকে।
গন্ধমাদন উড়ল হনুর পৃষ্ঠে চেপে,
       লাগল হনুর লেজের ঝাপট আকাশ ব্যেপে--
           অন্ধকারে দন্ত তাহার ঝিকিমিকে।
আরো দেখুন
26
Verses
এ কথা সে কথা মনে আসে,
বর্ষাশেষে শরতের মেঘ যেন ফিরিছে বাতাসে।
কাজের বাঁধনহারা শূন্যে করে মিছে আনাগোনা;
কখনো রুপালি আঁকে, কখনো ফুটায়ে তোলে সোনা।
অদ্ভুত মূর্তি সে রচে দিগন্তের কোণে,
রেখার বদল করে পুনঃ পুনঃ যেন অন্যমনে।
বাষ্পের সে শিল্পকাজ যেন আনন্দের অবহেলা--
কোনোখানে দায় নেই, তাই তার অর্থহীন খেলা।
জাগার দায়িত্ব আছে, কাজ নিয়ে তাই ওঠাপড়া।
ঘুমের তো দায় নেই, এলোমেলো স্বপ্ন তাই গড়া।
মনের স্বপ্নের ধাত চাপা থাকে কাজের শাসনে,
বসিতে পায় না ছুটি স্বরাজ-আসনে।
যেমনি সে পায় ছাড়া খেয়ালে খেয়ালে করে ভিড়,
স্বপ্ন দিয়ে রচে যেন উড়ুক্ষু পাখির কোন্‌ নীড়।
আপনার মাঝে তাই পেতেছি প্রমাণ--
স্বপ্নের এ পাগলামি বিশ্বের আদিম উপাদান।
তাহারে দমনে রাখে, ধ্রুব করে সৃষ্টির প্রণালী
কর্তৃত্ব প্রচণ্ড বলশালী।
শিল্পের নৈপুণ্য এই উদ্দামেরে শৃঙ্খলিত করা,
অধরাকে ধরা।
আরো দেখুন
পরিণয়
Verses
সুরমা ও সুরেন্দ্রনাথ কর-এর বিবাহ উপলক্ষে
ছিল চিত্রকল্পনায়, এতকাল ছিল গানে গানে,
সেই অপরূপ এল রূপ ধরি তোমাদের প্রাণে।
      আনন্দের দিব্যমূর্তি সে-যে,
             দীপ্ত বীরতেজে
      উত্তরিয়া বিঘ্ন যত দূর করি ভীতি
তোমাদের প্রাঙ্গণেতে হাঁক দিল, "এসেছি অতিথি।'
জ্বালো গো মঙ্গলদীপ করো অর্ঘ্য দান
             তনু মনপ্রাণ।
ও যে সুরভবনের রমার কমলবনবাসী,
মর্ত্যে নেমে বাজাইল সাহানায় নন্দনের বাঁশি।
             ধরার ধূলির 'পরে
             মিশাইল কী আদরে
                       পারিজাতরেণু।
মানবগৃহের দৈন্যে অমরাবতীর কল্পধেনু
              অলক্ষ্য অমৃতরস দান করে
                        অন্তরে অন্তরে।
এল প্রেম চিরন্তন, দিল দোঁহে আনি
              রবিকরদীপ্ত আশীর্বাণী।
আরো দেখুন