২৬ (e kotha se kotha mone ase)

এ কথা সে কথা মনে আসে,

বর্ষাশেষে শরতের মেঘ যেন ফিরিছে বাতাসে।

কাজের বাঁধনহারা শূন্যে করে মিছে আনাগোনা;

কখনো রুপালি আঁকে, কখনো ফুটায়ে তোলে সোনা।

অদ্ভুত মূর্তি সে রচে দিগন্তের কোণে,

রেখার বদল করে পুনঃ পুনঃ যেন অন্যমনে।

বাষ্পের সে শিল্পকাজ যেন আনন্দের অবহেলা--

কোনোখানে দায় নেই, তাই তার অর্থহীন খেলা।

জাগার দায়িত্ব আছে, কাজ নিয়ে তাই ওঠাপড়া।

ঘুমের তো দায় নেই, এলোমেলো স্বপ্ন তাই গড়া।

মনের স্বপ্নের ধাত চাপা থাকে কাজের শাসনে,

বসিতে পায় না ছুটি স্বরাজ-আসনে।

যেমনি সে পায় ছাড়া খেয়ালে খেয়ালে করে ভিড়,

স্বপ্ন দিয়ে রচে যেন উড়ুক্ষু পাখির কোন্‌ নীড়।

আপনার মাঝে তাই পেতেছি প্রমাণ--

স্বপ্নের এ পাগলামি বিশ্বের আদিম উপাদান।

তাহারে দমনে রাখে, ধ্রুব করে সৃষ্টির প্রণালী

কর্তৃত্ব প্রচণ্ড বলশালী।

শিল্পের নৈপুণ্য এই উদ্দামেরে শৃঙ্খলিত করা,

অধরাকে ধরা।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

বাঁশিওআলা
Verses
            "ওগো বাঁশিওআলা,
                 বাজাও তোমার বাঁশি,
                       শুনি আমার নূতন নাম"
             -- এই বলে তোমাকে প্রথম চিঠি লিখেছি,
                       মনে আছে তো?
আমি তোমার বাংলাদেশের মেয়ে।
        সৃষ্টিকর্তা পুরো সময় দেন নি
            আমাকে মানুষ করে গড়তে--
                  রেখেছেন আধাআধি করে।
        অন্তরে বাহিরে মিল হয় নি
            সেকালে আর আজকের কালে,
                 মিল হয় নি ব্যথায় আর বুদ্ধিতে,
                       মিল হয় নি শক্তিতে আর ইচ্ছায়।
আমাকে তুলে দেন নি এ যুগের পারানি নৌকোয়,
       চলা আটক করে ফেলে রেখেছেন
            কালস্রোতের ও পারে বালুডাঙায়।
                 সেখান থেকে দেখি
            প্রখর আলোয় ঝাপসা দূরের জগৎ --
       বিনা কারণে কাঙাল মন অধীর হয়ে ওঠে,
            দুই হাত বাড়িয়ে দিই,
                 নাগাল পাই নে কিছুই কোনো দিকে।
বেলা তো কাটে না,
        বসে থাকি জোয়ার-জলের দিকে চেয়ে--
            ভেসে যায় মুক্তি-পারের খেয়া,
                 ভেসে যায় ধনপতির ডিঙা,
                       ভেসে যায় চল্‌তি বেলার আলোছায়া।
এমন সময় বাজে তোমার বাঁশি
         ভরা জীবনের সুরে।
      মরা দিনের নাড়ীর মধ্যে
    দব্‌দবিয়ে ফিরে আসে প্রাণের বেগ।
      কী বাজাও তুমি,
জানি নে সে সুর জাগায় কার মনে কী ব্যথা।
      বুঝি বাজাও পঞ্চমরাগে
দক্ষিণ হাওয়ার নবযৌবনের ভাটিয়ারি।
      শুনতে শুনতে নিজেকে মনে হয় --
            যে ছিল পাহাড়তলির ঝির্‌ঝিরে নদী,
                 তার বুকে হঠাৎ উঠেছে ঘনিয়ে
                       শ্রাবণের বাদলরাত্রি।
সকালে উঠে দেখা যায় পাড়ি গেছে ভেসে,
      একগুঁয়ে পাথরগুলোকে ঠেলা দিচ্ছে
            অসহ্য স্রোতের ঘূর্ণি-মাতন।
আমার রক্তে নিয়ে আসে তোমার সুর--
   ঝড়ের ডাক, বন্যার ডাক, আগুনের ডাক,
      পাঁজরের উপরে আছাড়-খাওয়া
            মরণ-সাগরের ডাক,
      ঘরের শিকল-নাড়া উদাসী হাওয়ার ডাক।
         যেন হাঁক দিয়ে আসে
            অপূর্ণের সংকীর্ণ খাদে
                 পূর্ণ স্রোতের ডাকাতি,
            ছিনিয়ে নেবে, ভাসিয়ে দেবে বুঝি।
         অঙ্গে অঙ্গে পাক দিয়ে ওঠে
                   কালবৈশাখীর ঘূর্ণি-মার-খাওয়া
                        অরণ্যের বকুনি।
    ডানা দেয় নি বিধাতা,
তোমার গান দিয়েছে আমার স্বপ্নে
      ঝোড়ো আকাশে উড়ো প্রাণের পাগলামি।
              ঘরে কাজ করি শান্ত হয়ে;
                 সবাই বলে "ভালো'।
      তারা দেখে আমার ইচ্ছার নেই জোর,
            সাড়া নেই লোভের,
      ঝাপট লাগে মাথার উপর,
          ধুলোয় লুটোই মাথা।
দুরন্ত ঠেলায় নিষেধের পাহারা কাত করে ফেলি
            নেই এমন বুকের পাটা;
      কঠিন করে জানি নে ভালোবাসতে,
                 কাঁদতে শুধু জানি,
         জানি এলিয়ে পড়তে পারে।
বাঁশিওআলা,
      বেজে ওঠে তোমার বাঁশি --
            ডাক পড়ে অমর্তলোকে;
                   সেখানে আপন গরিমায়|
                       উপরে উঠেছে আমার মাথা।
                    সেখানে কুয়াশার পর্দা-ছেঁড়া
                       তরুণ-সূর্য আমার জীবন।
                 সেখানে আগুনের ডানা মেলে দেয়
                     আমার বারণ-না-মানা আগ্রহ,
                 উড়ে চলে অজানা শূন্যপথে
               প্রথম-ক্ষুধায়-অস্থির গরুড়ের মতো।
                       জেগে ওঠে বিদ্রোহিণী;
                 তীক্ষ্ণ চোখের আড়ে জানায় ঘৃণা
                       চার দিকের ভীরুর ভিড়কে,
               কৃশ কুটিলের কাপুরুষতাকে।
বাঁশিওআলা,
            হয়তো আমাকে দেখতে চেয়েছ তুমি।
                 জানি নে ঠিক জায়গাটি কোথায়,
                      ঠিক সময় কখন,
                        চিনবে কেমন করে।
      দোসর-হারা আষাঢ়ের ঝিল্লিঝনক রাত্রে
               সেই নারী তো ছায়ারূপে
      গেছে তোমার অভিসারে চোখ-এড়ানো পথে।
          সেই অজানাকে কত বসন্তে
                পরিয়েছ ছন্দের মালা,
          শুকোবে না তার ফুল।
               তোমার ডাক শুনে একদিন
                 ঘরপোষা নির্জীব মেয়ে
                      অন্ধকার কোণ থেকে
            বেরিয়ে এল ঘোমটা-খসা নারী।
      যেন সে হঠাৎ-গাওয়া নতুন ছন্দ বাল্মীকির,
            চমক লাগালো তোমাকেই।
      সে নামবে না গানের আসন থেকে;
            সে লিখবে তোমাকে চিঠি
      রাগিণীর আবছায়ায় বসে।
     তুমি জানবে না তার ঠিকানা।
                    ওগো বাঁশিওআলা,
             সে থাক্‌ তোমার বাঁশির সুরের দূরত্বে।
আরো দেখুন
25
Verses
এমনি করে ঘুরিব দূরে বাহিরে
আর তো গতি নাহি রে মোর নাহি রে।
        যে-পথে তব রথের রেখা ধরিয়া
        আপনা হতে কুসুম উঠে ভরিয়া,
চন্দ্র ছুটে সূর্য ছুটে
সে পথতলে পড়িব লুটে,
      সবার পানে রহিব শুধু চাহি রে।
      এমনি করে ঘুরিব দূরে বাহিরে।
      তোমার ছায়া পড়ে যে সরোবরে গো
      কমল সেথা ধরে না, নাহি ধরে গো।
জলের ঢেউ তরল তানে
সে ছায়া লয়ে মাতিল গানে
      ঘিরিয়া তারে ফিরিব তরী বাহি রে।
            যে বাঁশিখানি বাজিছে তব ভবনে
            সহসা তাহা শুনিব মধু-পবনে।
তাকায়ে রব দ্বারের পানে,
সে তানখানি লইয়া কানে
      বাজায়ে বীণা বেড়াব গান গাহি রে।
      এমনি করে ঘুরিব দূরে বাহিরে।
আরো দেখুন
70
Verses
বচন নাহি তো মুখে,
           তবু মুখখানি
হৃদয়ের কানে বলে
           নয়নের বাণী।
আরো দেখুন