লেখন (22)

২২

২২

       মেঘ সে বাষ্পগিরি,

       গিরি সে বাষ্পমেঘ,

কালের স্বপ্নে যুগে যুগে ফিরি ফিরি

       এ কিসের ভাবাবেগ॥  

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

41
Verses
THEY CALL YOU mad. Wait for tomorrow and keep silent.
They throw dust upon your head. Wait for tomorrow. They will
bring their wreath.
They sit apart in their high seat. Wait for tomorrow. They will come down and bend their head.
আরো দেখুন
কোপাই
Verses
পদ্মা কোথায় চলেছে দূর আকাশের তলায়,
        মনে মনে দেখি তাকে।
এক পারে বালুর চর,
        নির্ভীক কেননা নিঃস্ব, নিরাসক্ত--
অন্য পারে বাঁশবন, আমবন,
        পুরোনো বট, পোড়ো ভিটে,
    অনেক দিনের গুঁড়ি-মোটা কাঁঠালগাছ--
        পুকুরের ধারে সর্ষেখেত,
           পথের ধারে বেতের জঙ্গল,
দেড়শো বছর আগেকার নীলকুঠির ভাঙা ভিত,
    তার বাগানে দীর্ঘ ঝাউগাছে দিনরাত মর্মরধ্বনি।
ওইখানে রাজবংশীদের পাড়া,
    ফাটল-ধরা খেতে ওদের ছাগল চরে,
        হাটের কাছে টিনের-ছাদ-ওয়ালা গঞ্জ--
           সমস্ত গ্রাম নির্মম নদীর ভয়ে কম্পান্বিত।
               পুরাণে প্রসিদ্ধ এই নদীর নাম,
                   মন্দাকিনীর প্রবাহ ওর নাড়ীতে।
    ও স্বতন্ত্র। লোকালয়ের পাশ দিয়ে চলে যায়--
               তাদের সহ্য করে, স্বীকার করে না।
        বিশুদ্ধ তার আভিজাতিক ছন্দে
এক দিকে নির্জন পর্বতের স্মৃতি, আর-এক দিকে নিঃসঙ্গ সমুদ্রের আহ্বান।
    একদিন ছিলেম ওরই চরের ঘাটে,
      নিভৃতে, সবার হতে বহুদূরে।
           ভোরের শুকতারাকে দেখে জেগেছি,
        ঘুমিয়েছি রাতে সপ্তর্ষির দৃষ্টির সম্মুখে
               নৌকার ছাদের উপর।
    আমার একলা দিন-রাতের নানা ভাবনার ধারে ধারে
        চলে গেছে ওর উদাসীন ধারা--
    পথিক যেমন চলে যায়
           গৃহস্থের সুখদুঃখের পাশ দিয়ে, অথচ দূর দিয়ে।
তার পরে যৌবনের শেষে এসেছি
        তরুবিরল এই মাঠের প্রান্তে।
ছায়াবৃত সাঁওতাল-পাড়ার পুঞ্জিত সবুজ দেখা যায় অদূরে।
    এখানে আমার প্রতিবেশিনী কোপাই-নদী।
        প্রাচীন গোত্রের গরিমা নেই তার।
অনার্য তার নামখানি
        কত কালের সাঁওতাল নারীর হাস্যমুখর
           কলভাষার সঙ্গে জড়িত।
               গ্রামের সঙ্গে তার গলাগলি,
           স্থলের সঙ্গে জলের নেই বিরোধ।
        তার এ পারের সঙ্গে ও পারের কথা চলে সহজে।
    শণের খেতে ফুল ধরেছে একেবারে তার গায়ে গায়ে,
           জেগে উঠেছে কচি কচি ধানের চারা।
রাস্তা যেখানে থেমেছে তীরে এসে
        সেখানে ও পথিককে দেয় পথ ছেড়ে
           কলকল স্ফটিকস্বচ্ছ স্রোতের উপর দিয়ে।
অদূরে তালগাছ উঠেছে মাঠের মধ্যে,
               তীরে আম জাম আমলকীর ঘেঁষাঘেঁষি।
ওর ভাষা গৃহস্থপাড়ার ভাষা--
           তাকে সাধুভাষা বলে না।
        জল স্থল বাঁধা পড়েছে ওর ছন্দে,
    রেষারেষি নেই তরলে শ্যামলে।
        ছিপ্‌ছিপে ওর দেহটি
           বেঁকে বেঁকে চলে ছায়ায় আলোয়
               হাততালি দিয়ে সহজ নাচে।
    বর্ষায় ওর অঙ্গে অঙ্গে লাগে মাত্‌লামি
           মহুয়া-মাতাল গাঁয়ের মেয়ের মতো--
               ভাঙে না, ডোবায় না,
        ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে আবর্তের ঘাঘরা
           দুই তীরকে ঠেলা দিয়ে দিয়ে
               উচ্চ হেসে ধেয়ে চলে।
শরতের শেষে স্বচ্ছ হয়ে আসে জল,
           ক্ষীণ হয় তার ধারা,
        তলার বালি চোখে পড়ে,
    তখন শীর্ণ সমারোহের পাণ্ডুরতা
           তাকে তো লজ্জা দিতে পারে না।
তার ধন নয় উদ্ধত, তার দৈন্য নয় মলিন;
               এ দুইয়েই তার শোভা--
যেমন নটী যখন অলংকারের ঝংকার দিয়ে নাচে,
    আর যখন সে নীরবে বসে থাকে ক্লান্ত হয়ে,
        চোখের চাহনিতে আলস্য,
    একটুখানি হাসির আভাস ঠোঁটের কোণে।
কোপাই আজ কবির ছন্দকে আপন সাথি করে নিলে,
    সেই ছন্দের আপস হয়ে গেল ভাষার স্থলে জলে,
        যেখানে ভাষার গান আর যেখানে ভাষার গৃহস্থালি।
তার ভাঙা তালে হেঁটে চলে যাবে ধনুক হাতে সাঁওতাল ছেলে;
           পার হয়ে যাবে গোরুর গাড়ি
               আঁটি আঁটি খড় বোঝাই করে;
        হাটে যাবে কুমোর
           বাঁকে করে হাঁড়ি নিয়ে;
    পিছন পিছন যাবে গাঁয়ের কুকুরটা;
           আর, মাসিক তিন টাকা মাইনের গুরু
                   ছেঁড়া ছাতি মাথায়।
আরো দেখুন
সাধ
Verses
অরুণময়ী তরুণী উষা
        জাগায়ে দিল গান।
পুরব মেঘে কনকমুখী
বারেক শুধু মারিল উঁকি,
অমনি যেন জগৎ ছেয়ে
        বিকশি উঠে প্রাণ।
কাহার হাসি বহিয়া এনে
        করিলি সুধা দান।
ফুলেরা সব চাহিয়া আছে
আকাশ-পানে মগন-মনা,
মুখেতে মৃদু বিমল হাসি
নয়নে দুটি শিশির-কণা।
আকাশ-পারে কে যেন বসে,
তাহারে যেন দেখিতে পায়,
বাতাসে দুলে বাহুটি তুলে
মায়ের কোলে ঝাঁপিতে যায়।
কী যেন দেখে, কী যেন শোনে,
কে যেন ডাকে, কে যেন গায়
ফুলের সুখ, ফুলের হাসি
দেখিবি তোরা আয় রে আয়।
আ মরি মরি অমনি যদি
ফুলের মতো চাহিতে পারি।
বিমল প্রাণে বিমল সুখে
বিমল প্রাতে বিমল মুখে
ফুলের মতো অমনি যদি
বিমল হাসি হাসিতে পারি।
দুলিছে, মরি, হরষ-স্রোতে,
অসীম স্নেহে আকাশ হতে
কে যেন তারে খেতেছে চুমো,
কোলেতে তারি পড়িছে লুটে।
কে যেন তারি নামটি ধ'রে
ডাকিছে তারে সোহাগ করে
শুনিতে পেয়ে ঘুমের ঘোরে
মুখটি ফুটে হাসিটি ফোটে,
শিশুর প্রাণে সুখের মতো
সুবাসটুকু জাগিয়া ওঠে।
আকাশ পানে চাহিয়া থাকে,
না জানি তাহে কী সুখ পায়।
বলিতে যেন শেখে নি কিছু
কী যেন তবু বলিতে চায়।
আঁধার কোণে থাকিস তোরা,
জানিস কি রে কত সে সুখ,
আকাশ-পানে চাহিলে পরে
আকাশ-পানে তুলিলে মুখ।
সুদূর দূর, সুনীল নীল,
সুদূরে পাখি উড়িয়া যায়।
সুনীল দূরে ফুটিছে তারা,
সুদূর হতে আসিছে বায়।
প্রভাত-করে করি রে স্নান
        ঘুমাই ফুলবাসে,
পাখির গান লাগে রে যেন
দেহের চারি পাশে।
বাতাস যেন প্রাণের সখা,
প্রবাসে ছিল, নতুন দেখা,
ছুটিয়া আসে বুকের কাছে
        বারতা শুধাইতে।
চাহিয়া আছে আমার মুখে,
কিরণময় আমারি সুখে
আকাশ যেন আমারি তরে
        রয়েছে বুক পেতে।
মনেতে করি আমারি যেন
        আকাশ-ভরা প্রাণ,
আমারি প্রাণ হাসিতে ছেয়ে
জাগিছে উষা তরুণ মেয়ে,
করুণ আঁখি করিছে প্রাণে
        অরুণ- সুধা দান।
আমারি বুকে প্রভাতবেলা
ফুলেরা মিলি করিছে খেলা,
হেলিছে কত, দুলিছে কত,
        পুলকে ভরা মন,
আমারি তোরা বালিকা মেয়ে
        আমারি স্নেহধন।
আমারি মুখে চাহিয়া তোর
        আঁখিটি ফুটিফুটি।
আমারি বুকে আলয় পেয়ে
        হাসিয়া কুটিকুটি।
কেন রে বাছা, কেন রে হেন
        আকুল কিলিবিলি,
কী কথা যেন জানাতে চাস
        সবাই মিলি মিলি।
হেথায় আমি রহিব বসে
        আজি সকালবেলা
নীরব হয়ে দেখিব  চেয়ে
        ভাইবোনের খেলা।
বুকের কাছে পড়িবি ঢলে
        চাহিবি ফিরে ফিরে,
পরশি দেহে  কোমলদল
স্নেহেতে চোখে আসিবে জল,
শিশির-সম তোদের 'পরে
        ঝরিবে ধীরে ধীরে।
হৃদয় মোর আকাশ-মাঝে
তারার মতো উঠিতে চায়,
আপন সুখে ফুলের মতো
আকাশ-পানে ফুটিতে চায়।
নিবিড় রাতে আকাশে উঠে
চারি দিকে সে চাহিতে চায়,
তারার মাঝে হারায়ে গিয়ে
আপন মনে গাহিতে চায়।
মেঘের মতো হারায়ে দিশা
আকাশ-মাঝে ভাসিতে চায়--
কোথায় যাবে কিনারা নাই,
দিবসনিশি চলেছে তাই
বাতাস এসে লাগিছে গায়ে
জোছনা এসে পড়িছে পায়ে,
উড়িয়া কাছে গাহিছে পাখি,
মুদিয়া যেন এসেছে আঁখি,
আকাশ-মাঝে মাথাটি থুয়ে
আরামে যেন ভাসিয়া যায়,
হৃদয় মোর মেঘের মতো
আকাশ-মাঝে ভাসিতে চায়।
ধরার পানে মেলিয়া আঁখি
উষার মতো হাসিতে চায়।
জগৎ-মাঝে ফেলিতে পা
চরণ যেন উঠিছে না,
শরমে যেন হাসিছে মৃদু হাস,
হাসিটি যেন নামিল ভুঁয়ে,
জাগায়ে দিল ফুলেরে ছুঁয়ে,
মালতীবধূ হাসিয়া তারে
        করিল পরিহাস।
মেঘেতে হাসি জড়ায়ে যায়,
বাতাসে হাসি- গড়ায়ে যায়,
উষার হাসি--ফুলের হাসি
কানন-মাঝে ছড়ায়ে যায়।
হৃদয় মোর আকাশে উঠে
উষার মতো হাসিতে চায়।
আরো দেখুন