লেখন (154)

১৫৪

১৫৪

গিরির দুরাশা উড়িবারে

ঘুরে মরে মেঘের আকারে॥

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

দ্বারে
Verses
    একা তুমি নিঃসঙ্গ প্রভাতে,
অতীতের দ্বার রুদ্ধ তোমার পশ্চাতে।
        সেথা হল অবসান
        বসন্তের সব দান,
উৎসবের সব বাতি নিবে গেল রাতে।
    সেতারের তার হল চুপ,
শুষ্কমালা, ভষ্মশেষ দগ্ধ গন্ধধূপ।
        কবরীর ফুলগুলি
        ধূলিতে হইল ধূলি,
লজ্জিত সকল সজ্জা বিরস বিরূপ।
    সম্মুখে উদাস বর্ণহীন
ক্ষীণছন্দ মন্দগতি তব রাত্রিদিন।
        সম্মুখে আকাশ খোলা,
        নিস্তব্ধ, সকল-ভোলা--
মত্ততার কলরব শান্তিতে বিলীন।
    আভরণহারা তব বেশ,
কজ্জলবিহীন আঁখি, রুক্ষ তব কেশ।
        শরতের শেষ মেঘে
        দীপ্তি জ্বলে রৌদ্র লেগে,
সেইমতো শোকশুভ্র স্মৃতি-অবশেষ।
    তবু কেন হয় যেন বোধ
অদৃষ্ট পশ্চাৎ হতে করে পথরোধ।
        ছুটি হল যার কাছে
        কিছু তার প্রাপ্য আছে,
নিঃশেষে কি হয় নাই সব পরিশোধ।
    সূক্ষ্মতম সেই আচ্ছাদন,
ভাষাহারা অশ্রুহারা অজ্ঞাত কাঁদন।
        দুর্লঙ্ঘ্য-যে সেই মানা
        স্পষ্ট যারে নেই জানা,
সবচেয়ে সুকঠিন অবন্ধ বাঁধন।
    যদি বা ঘুচিল ঘুমঘোর,
অসাড় পাখায় তবু লাগে নাই জোর।
        যদি বা দূরের ডাকে
        মন সাড়া দিতে থাকে,
তবুও বারণে বাঁধে নিকটের ডোর।
    মুক্তিবন্ধনের সীমানায়
এমনি সংশয়ে তব দিন চলে যায়।
        পিছে রুদ্ধ হল দ্বার,
        মায়া রচে ছায়া তার,
কবে সে মিলাবে আছ সেই প্রতীক্ষায়।
আরো দেখুন
ধ্বনি
Verses
                     জন্মেছিনু সূক্ষ্ম তারে বাঁধা মন নিয়া,
                     চারি দিক হতে শব্দ উঠিত ধ্বনিয়া
                                    নানা কম্পে নানা সুরে
                            নাড়ীর জটিল জালে ঘুরে ঘুরে।
                     বালকের মনের অতলে দিত আনি
                            পাণ্ডুনীল আকাশের বাণী
                                    চিলের সুতীক্ষ্ণ সুরে
                                          নির্জন দুপুরে,
                     রৌদ্রের প্লাবনে যবে চারি ধার
                            সময়েরে করে দিত একাকার
                                    নিষ্কর্ম তন্দ্রার তলে।
                     ওপাড়ার কুকুরের সুদূর কলকোলাহলে
           মনেরে জাগাত মোর অনির্দিষ্ট ভাবনার পারে
                                    অস্পষ্ট সংসারে।
                     ফেরিওলাদের ডাক সূক্ষ্ম হয়ে কোথা যেত চলি,
                                    যে-সকল অলিগলি
                                                জানি নি কখনো
                                          তারা যেন কোনো
                                      বোগদাদের বসোরার
                                          পরদেশী পসরার
                            স্বপ্ন এনে দিত বহি।
                                    রহি রহি
                    রাস্তা হতে শোনা যেত সহিসের ডাক ঊর্ধ্বস্বরে,
                                    অন্তরে অন্তরে
                            দিত সে ঘোষণা কোন্‌ অস্পষ্ট বার্তার,
                                    অসম্পন্ন উধাও যাত্রার।
                            একঝাঁক পাতিহাঁস
                                    টলোমলো গতি নিয়ে উচ্চকলভাষ
                                          পুকুরে পড়িত ভেসে।
                     বটগাছ হতে বাঁকা রৌদ্ররশ্মি এসে
                            তাদের সাঁতার-কাটা জলে
                                    সবুজ ছায়ার তলে
                     চিকন সাপের মতো পাশে পাশে মিলি
                     খেলাত আলোর কিলিবিলি।
                                    বেলা হলে
           হলদে গামছা কাঁধে হাত দোলাইয়া যেত চলে
                            কোন্‌খানে কে যে।
                     ইস্কুলে উঠিত ঘণ্টা বেজে।
                            সে ঘণ্টার ধ্বনি
           নিরর্থ আহ্বানঘাতে কাঁপাইত আমার ধমনী।
                     রৌদ্রক্লান্ত ছুটির প্রহরে
                 আলস্যে-শিথিল শান্তি ঘরে ঘরে;
                            দক্ষিণে গঙ্গার ঘাট থেকে
                                    গম্ভীরমন্দ্রিত হাঁক হেঁকে
                            বাষ্পশ্বাসী সমুদ্র-খেয়ার ডিঙা
                                    বাজাইত শিঙা,
                            রৌদ্রের প্রান্তর বহি
                     ছুটে যেত দিগন্তে শব্দের অশ্বারোহী।
                            বাতায়নকোণে
                                    নির্বাসনে
                     যবে দিন যেত বয়ে
           না-চেনা ভুবন হতে ভাষাহীন নানা ধ্বনি লয়ে
                  প্রহরে প্রহরে দূত ফিরে ফিরে
                     আমারে ফেলিত ঘিরে।
           জনপূর্ণ জীবনের যে আবেগ পৃথ্বীনাট্যশালে
                                    তালে ও বেতালে
                                          করিত চরণপাত,
                                                কভু অকস্মাৎ
                                    কভু মৃদুবেগে ধীরে
                            ধ্বনিরূপে মোর শিরে
           স্পর্শ দিয়ে চেতনারে জাগাইত ধোঁয়ালি চিন্তায়,
                     নিয়ে যেত সৃষ্টির আদিম ভূমিকায়।
           চোখে দেখা এ বিশ্বের গভীর সুদূরে
                                    রূপের অদৃশ্য অন্তঃপুরে
                     ছন্দের মন্দিরে বসি রেখা-জাদুকর কাল
           আকাশে আকাশে নিত্য প্রসারে বস্তুর ইন্দ্রজাল।
                            যুক্তি নয়, বুদ্ধি নয়,
                     শুধু যেথা কত কী যে হয়--
           কেন হয় কিসে হয় সে প্রশ্নের কোনো
                         নাহি মেলে উত্তর কখনো।
           যেথা আদিপিতামহী পড়ে বিশ্ব-পাঁচালির ছড়া
                       ইঙ্গিতের অনুপ্রাসে গড়া--
           কেবল ধ্বনির ঘাতে বক্ষস্পন্দে দোলন দুলায়ে
                            মনেরে ভুলায়ে
                     নিয়ে যায় অস্তিত্বের ইন্দ্রজাল যেই কেন্দ্রস্থলে,
               বোধের প্রত্যুষে যেথা বুদ্ধির প্রদীপ নাহি জ্বলে।
আরো দেখুন
টাকা সিকি আধুলিতে
Verses
     টাকা সিকি আধুলিতে
     ছিল তার হাত জোড়া;
যে-সাহসে কিনেছিল
     পান্তোয়া সাত ঝোড়া।
     ফুঁকে দিয়ে কড়াকড়ি
     শেষে হেসে গড়াগড়ি;
ফেলে দিতে হল সব--
     আলুভাতে পাত-জোড়া।
আরো দেখুন