লেখন (109)

১০৯

১০৯

মায়াজাল দিয়া কুয়াশা জড়ায়

প্রভাতেরে চারি ধারে,

অন্ধ করিয়া বন্দী করে যে তারে॥    

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

অধীরা
Verses
চির-অধীরার বিরহ-আবেগ
          দূরদিগন্তপথে
ঝঞ্ঝার ধ্বজা উড়ায়ে ছুটিল
          মত্ত মেঘের রথে।
দ্বার ভাঙিবার অভিযান তার,
          বারবার কর হানে,
বারবার হাঁকে "চাই আমি চাই',
          ছোটে অলক্ষ্য-পানে।
     হুহু হুংকার ঝর্ঝর বর্ষণ,
সঘন শূন্যে বিদ্যুৎঘাতে
     তীব্র কী হর্ষণ।
          দুর্দাম প্রেম কি এ--
প্রস্তর ভেঙে খোঁজে উত্তর
          গর্জিত ভাষা দিয়ে।
মানে না শাস্ত্র, জানে না শঙ্কা,
          নাই দুর্বল মোহ--
প্রভুশাপ-'পরে হানে অভিশাপ
          দুর্বার বিদ্রোহ।
করুণ ধৈর্যে গনে না দিবস,
          সহে না পলেক গৌণ,
তাপসের তপ করে না মান্য,
          ভাঙে সে মুনির মৌন।
মৃত্যুরে দেয় টিটকারি তার হাস্যে,
মঞ্জীরে বাজে যে-ছন্দ তার লাস্যে
          নহে মন্দাক্রান্তা--
প্রদীপ লুকায়ে শঙ্কিত পায়ে
          চলে না কোমলকান্তা।
নিষ্ঠুর তার চরণতাড়নে
          বিঘ্ন পড়িছে খসে,
বিধাতারে হানে ভর্ৎসনাবাণী
          বজ্রের নির্ঘোষে।
নিলাজ ক্ষুধায় অগ্নি বরষে
          নিঃসংকোচ আঁখি,
ঝড়ের বাতাসে অবগুণ্ঠন
          উড্ডীন থাকি থাকি।
মুক্ত বেণীতে, স্রস্ত আঁচলে,
          উচ্ছৃঙ্খল সাজে
     দেখা দেয় ওর মাঝে
অনাদি কালের বেদনার উদ্‌বোধন--
সৃষ্টিযুগের  প্রথম রাতের রোদন--
যে-নবসৃষ্টি অসীম কালের
          সিংহদুয়ারে থামি
হেঁকেছিল তার প্রথম মন্ত্রে
          "এই আসিয়াছি আমি'।
আরো দেখুন
8
Verses
মিলন সম্পূর্ণ আজি হল তোমা-সনে
এ বিচ্ছেদবেদনার নিবিড় বন্ধনে।
এসেছ একান্ত কাছে, ছাড়ি দেশকাল
হৃদয়ে মিশায়ে গেছ ভাঙি অন্তরাল।
তোমারি নয়নে আজ হেরিতেছি সব,
তোমারি বেদনা বিশ্বে করি অনুভব।
তোমার অদৃশ্য হাত হেরি মোর কাজে,
তোমারি কামনা মোর কামনার মাঝে।
দুজনের কথা দোঁহে শেষ করি লব
সে রাত্রে ঘটে নি হেন অবকাশ তব।
বাণীহীন বিদায়ের সেই বেদনায়
চারি দিকে চাহিয়াছি ব্যর্থ বাসনায়।
আজি এ হৃদয়ে সর্ব-ভাবনার নীচে
তোমপূর্ণ আমার বাণী একত্রে মিলিছে।
আরো দেখুন
1
Verses
ভোরের পাখি ডাকে কোথায়
      ভোরের পাখি ডাকে।
ভোর না হতে ভোরের খবর
      কেমন করে রাখে।
এখনো যে আঁধার নিশি
জড়িয়ে আছে সকল দিশি
কালীবরন পুচ্ছ ডোরের
      হাজার লক্ষ পাকে।
ঘুমিয়ে-পড়া বনের কোণে
      পাখি কোথায় ডাকে।
ওগো তুমি ভোরের পাখি,
      ভোরের ছোটো পাখি,
কোন্‌ অরুণের আভাস পেয়ে
      মেল' তোমার আঁখি।
কোমল তোমার পাখার 'পরে
সোনার রেখা স্তরে স্তরে,
বাঁধা আছে ডানায় তোমার
      উষার রাঙা রাখি।
ওগো তুমি ভোরের পাখি,
      ভোরের ছোটো পাখি।
রয়েছে বট, শতেক জটা
      ঝুলছে মাটি ব্যেপে,
পাতার উপর পাতার ঘটা
      উঠছে ফুলে ফেঁপে।
তাহারি কোন্‌ কোণের শাখে
নিদ্রাহারা ঝিঁঝির ডাকে
বাঁকিয়ে গ্রীবা ঘুমিয়েছিলে
      পাখাতে মুখ ঝেঁপে,
যেখানে বট দাঁড়িয়ে একা
      জটায় মাটি ব্যেপে।
ওগো ভোরের সরল পাখি,
      কহো আমায় কহো--
ছায়ায় ঢাকা দ্বিগুণ রাতে
      ঘুমিয়ে যখন রহ,
হঠাৎ তোমার কুলায়-'পরে
কেমন ক'রে প্রবেশ করে
আকাশ হতে আঁধার-পথে
      আলোর বার্তাবহ।
ওগো ভোরের সরল পাখি
      কহো আমায় কহো!
কোমল তোমার বুকের তলে
      রক্ত নেচে উঠে,
উড়বে ব'লে পুলক জাগে
      তোমার পক্ষপুটে।
চক্ষু মেলি পুবের পানে
নিদ্রা-ভাঙা নবীন গানে
অকুণ্ঠিত কণ্ঠ তোমার
      উৎস-সমান ছুটে।
কোমল তোমার বুকের তলে
      রক্ত নেচে উঠে।
এত আঁধার-মাঝে তোমার
      এতই অসংশয়!
বিশ্বজনে কেহই তোরে
      করে না প্রত্যয়।
তুমি ডাক,"দাঁড়াও পথে,
সূর্য আসেন স্বর্ণরথে--
রাত্রি নয়, রাত্রি নয়,
      রাত্রি নয় নয়।'
এত আঁধার-মাঝে তোমার
      এতই অসংশয়!
আনন্দেতে জাগো আজি
      আনন্দেতে জাগো।
ভোরের পাখি ডাকে যে ওই
      তন্দ্রা এখন না গো।
প্রথম আলো পড়ুক মাথায়,
নিদ্রা-ভাঙা আঁখির পাতায়,
জ্যোতির্ময়ী উদয়-দেবীর
      আশীর্বচন মাগো।
ভোরের পাখি গাহিছে ওই,
      আনন্দেতে জাগো।
আরো দেখুন