১ (bhorer pakhi dake kothay)

ভোরের পাখি ডাকে কোথায়

      ভোরের পাখি ডাকে।

ভোর না হতে ভোরের খবর

      কেমন করে রাখে।

এখনো যে আঁধার নিশি

জড়িয়ে আছে সকল দিশি

কালীবরন পুচ্ছ ডোরের

      হাজার লক্ষ পাকে।

ঘুমিয়ে-পড়া বনের কোণে

      পাখি কোথায় ডাকে।

 

ওগো তুমি ভোরের পাখি,

      ভোরের ছোটো পাখি,

কোন্‌ অরুণের আভাস পেয়ে

      মেল' তোমার আঁখি।

কোমল তোমার পাখার 'পরে

সোনার রেখা স্তরে স্তরে,

বাঁধা আছে ডানায় তোমার

      উষার রাঙা রাখি।

ওগো তুমি ভোরের পাখি,

      ভোরের ছোটো পাখি।

 

রয়েছে বট, শতেক জটা

      ঝুলছে মাটি ব্যেপে,

পাতার উপর পাতার ঘটা

      উঠছে ফুলে ফেঁপে।

তাহারি কোন্‌ কোণের শাখে

নিদ্রাহারা ঝিঁঝির ডাকে

বাঁকিয়ে গ্রীবা ঘুমিয়েছিলে

      পাখাতে মুখ ঝেঁপে,

যেখানে বট দাঁড়িয়ে একা

      জটায় মাটি ব্যেপে।

 

ওগো ভোরের সরল পাখি,

      কহো আমায় কহো--

ছায়ায় ঢাকা দ্বিগুণ রাতে

      ঘুমিয়ে যখন রহ,

হঠাৎ তোমার কুলায়-'পরে

কেমন ক'রে প্রবেশ করে

আকাশ হতে আঁধার-পথে

      আলোর বার্তাবহ।

ওগো ভোরের সরল পাখি

      কহো আমায় কহো!

 

কোমল তোমার বুকের তলে

      রক্ত নেচে উঠে,

উড়বে ব'লে পুলক জাগে

      তোমার পক্ষপুটে।

চক্ষু মেলি পুবের পানে

নিদ্রা-ভাঙা নবীন গানে

অকুণ্ঠিত কণ্ঠ তোমার

      উৎস-সমান ছুটে।

কোমল তোমার বুকের তলে

      রক্ত নেচে উঠে।

 

এত আঁধার-মাঝে তোমার

      এতই অসংশয়!

বিশ্বজনে কেহই তোরে

      করে না প্রত্যয়।

তুমি ডাক,"দাঁড়াও পথে,

সূর্য আসেন স্বর্ণরথে--

রাত্রি নয়, রাত্রি নয়,

      রাত্রি নয় নয়।'

এত আঁধার-মাঝে তোমার

      এতই অসংশয়!

 

আনন্দেতে জাগো আজি

      আনন্দেতে জাগো।

ভোরের পাখি ডাকে যে ওই

      তন্দ্রা এখন না গো।

প্রথম আলো পড়ুক মাথায়,

নিদ্রা-ভাঙা আঁখির পাতায়,

জ্যোতির্ময়ী উদয়-দেবীর

      আশীর্বচন মাগো।

ভোরের পাখি গাহিছে ওই,

      আনন্দেতে জাগো।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

ফাঁক
Verses
    আমার বয়সে
         মনকে বলবার সময় এল--
                 কাজ নিয়ে কোরো না বাড়াবাড়ি
                         ধীরে সুস্থে চলো,
                 যথোচিত পরিমাণে ভুলতে করো শুরু
             যাতে ফাঁক পড়ে সময়ের মাঝে মাঝে।
         বয়স যখন অল্প ছিল
কর্তব্যের বেড়ায় ফাঁক ছিল যেখানে সেখানে।
         তখন যেমন-খুশির ব্রজধামে
             ছিল বালগোপালের লীলা।
                     মথুরার পালা এল মাঝে,
                            কর্তব্যের রাজাসনে।
আজ আমার মন ফিরেছে
         সেই কাজ-ভোলার অসাবধানে।
কী কী আছে দিনের দাবি
         পাছে সেটা যাই এড়িয়ে
      বন্ধু তার ফর্দ রেখে যায় টেবিলে।
         ফর্দটাও দেখতে ভুলি,
             টেবিলে এসেও বসা হয় না--
                 এম্‌নিতরো ঢিলে অবস্থা।
গরম পড়েছে ফর্দে এটা না ধরলেও
         মনে আনতে বাধে না।
      পাখা কোথায়,
             কোথায় দার্জিলিঙের টাইম-টেবিলটা,
--এমনতরো হাঁপিয়ে ওঠবার ইশারা ছিল
         থার্মোমিটারে।
                 তবু ছিলেম স্থির হয়ে।
             বেলা দুপুর,
      আকাশ ঝাঁ ঝাঁ করছে,
             ধূ ধূ করছে মাঠ,
         তপ্ত বালু উড়ে যায় হূহু করে--
             খেয়াল হয় না।
      বনমালী ভাবে দরজা বন্ধ করাটা
             ভদ্রঘরের কায়দা--
         দিই তাকে এক ধমক।
      পশ্চিমের সাশির ভিতর দিয়ে
         রোদ ছড়িয়ে পড়ে পায়ের কাছে।
             বেলা যখন চারটে
      বেহারা এসে খবর নেয়, চিট্‌ঠি?
         হাত উলটিয়ে বলি, নাঃ।
      ক্ষণকালের জন্য খটকা লাগে
                 চিঠি লেখা উচিত ছিল--
      ক্ষণকালটা যায় পেরিয়ে,
ডাকের সময় যায় তার পিছন পিছন।
      এ দিকে বাগানে পথের ধারে
                 টগর গন্ধরাজের পুঁজি ফুরোয় না,
      এরা ঘাটে-জটলা-করা বউদের মতো
         পরস্পর হাসাহাসি ঠেলাঠেলিতে
                 মাতিয়ে তুলেছে কুঞ্জ আমার।
কোকিল ডেকে ডেকে সারা--
         ইচ্ছে করে তাকে বুঝিয়ে বলি,
             অত একান্ত জেদ কোরো না
                 বনান্তরের উদাসীনকে মনে রাখবার জন্যে।
মাঝে মাঝে ভুলো, মাঝে মাঝে ফাঁক বিছিয়ে রেখো জীবনে;
                 মনে রাখার মানহানি কোরো না
                     তাকে দুঃসহ ক'রে।
             মনে আনবার অনেক দিন-ক্ষণ আমারো আছে,
                     অনেক কথা, অনেক দুঃখ।
তার ফাঁকের ভিতর দিয়েই
             নতুন বসন্তের হাওয়া আসে
      রজনীগন্ধার গন্ধে বিষণ্ন হয়ে;
         তারি ফাঁকের মধ্যে দিয়ে
             কাঁঠালতলার ঘন ছায়া
                 তপ্ত মাঠের ধারে
         দূরের বাঁশি বাজায়
                 অশ্রুত মূলতানে।
      তারি ফাঁকে ফাঁকে দেখি--
ছেলেটা ইস্কুল পালিয়ে খেলা করছে
             হাঁসের বাচ্ছা বুকে চেপে ধ'রে
                     পুকুরের ধারে
         ঘাটের উপর একলা ব'সে
                 সমস্ত বিকেল বেলাটা।
তারি ফাঁকের ভিতর দিয়ে দেখতে পাই
         লিখছে চিঠি নূতন বধূ,
             ফেলছে ছিঁড়ে, লিখছে আবার।
      একটুখানি হাসি দেখা দেয় আমার মুখে,
             আবার একটুখানি নিশ্বাসও পড়ে।
আরো দেখুন
শুকতারা
Verses
       সুন্দরী তুমি শুকতারা
            সুদূর শৈলশিখরান্তে,
       শর্বরী যবে হবে সারা
            দর্শন দিয়ো দিক্‌ভ্রান্তে।
       ধরা যেথা অম্বরে মেশে
            আমি আধো-জাগ্রত চন্দ্র,
       আঁধারের বক্ষের 'পরে
            আধেক আলোকরেখা রন্ধ্র।
       আমার আসন রাখে পেতে
            নিদ্রাগহন মহাশূন্য,
       তন্ত্রী বাজাই স্বপনেতে
            তন্দ্রা ঈষৎ করি ক্ষুণ্ন।
       মন্দ চরণে চলি পারে,
            যাত্রা হয়েছে মোর সাঙ্গ।
       সুর থেমে আসে বারে বারে,
            ক্লান্তিতে আমি অবশাঙ্গ।
       সুন্দরী ওগো শুকতারা,
            রাত্রি না যেতে এসো তূর্ণ।
       স্বপ্নে যে বাণী হল হারা
            জাগরণে করো তারে পূর্ণ।
       নিশীথের তল হতে তুলি
            লহো তারে প্রভাতের জন্য।
       আঁধারে নিজেরে ছিল ভুলি,
            আলোকে তাহারে করো ধন্য।
       যেখানে সুপ্তি হল লীনা,
            যেথা বিশ্বের মহামন্দ্র,
       অর্পিনু সেথা মোর বাণী
            আমি আধো-জাগ্রত চন্দ্র।
আরো দেখুন
70
Verses
WHERE is the fountain that throws up these flowers in a ceaseless outbreak of ecstasy?
আরো দেখুন