মানবহৃদয়ের বাসনা (manab hridayer basona)

নিশীথে রয়েছি জেগে; দেখি অনিমেখে,

লক্ষ হৃদয়ের সাধ শূন্যে উড়ে যায়।

কত দিক হতে তারা ধায় কত দিকে।

কত-না অদৃশ্যকায়া ছায়া-আলিঙ্গন

বিশ্বময় কারে চাহে, করে হায় হায়।

কত স্মৃতি খুঁজিতেছে শ্মশানশয়ন--

অন্ধকারে হেরো শত তৃষিত নয়ন

ছায়াময় পাখি হয়ে কার পানে ধায়।

ক্ষীণশ্বাস মুমূর্ষুর অতৃপ্ত বাসনা

ধরণীর কূলে কূলে ঘুরিয়া বেড়ায়।

উদ্দেশে ঝরিছে কত অশ্রুবারিকণা,

চরণ খুঁজিয়া তারা মরিবারে চায়।

কে শুনিছে শত কোটি হৃদয়ের ডাক!

নিশীথিনী স্তব্ধ হয়ে রয়েছে অবাক।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

পূর্ণিমায়
Verses
  যাই যাই ডুবে যাই--
  আরো আরো ডুবে যাই,
বিহ্বল অবশ অচেতন।
  কোন্‌ খানে, কোন্‌ দূরে,
  নিশীথের কোন্‌ মাঝে,
কোথা হয়ে যাই নিমগন।
  হে ধরণী, পদতলে
  দিয়ো না দিয়ো না বাধা,
দাও মোরে দাও ছেড়ে দাও--
  অনন্ত দিবস-নিশি
  এমনি ডুবিতে থাকি,
তোমরা সুদূরে চলে যাও।
  এ কী রে উদার জ্যোৎস্না
  এ কী রে গভীর নিশি
দিশে দিশে স্তব্ধতা বিস্তারি!
  আঁখি দুটি মুদে আমি
  কোথা আছি কোথা গেছি
কিছু যেন বুঝিতে না পারি।
  দেখি দেখি আরো দেখি,
  অসীম উদার শূন্যে
আরো দূরে আরো দূরে যাই--
  দেখি আজ এ অনন্তে
  আপনা হারায়ে ফেলে
আর যেন খুঁজিয়া না পাই।
  তোমরা চাহিয়া থাকো
  জোছনা অমৃত-পানে
বিহ্বল বিলীন তারাগুলি।
অপার দিগন্ত ওগো,
  থাক এ মাথার 'পরে
দুই দিকে দুই পাখা তুলি।
  গান নাই, কথা নাই,
  শব্দ নাই, স্পর্শ নাই,
নাই ঘুম, নাই জাগরণ।
  কোথা কিছু নাহি জাগে,
  সর্বাঙ্গে জোছনা লাগে,
সর্বাঙ্গ পুলকে অচেতন।
  অসীমে সুনীলে শূন্যে
  বিশ্ব কোথা ভেসে গেছে
তারে যেন দেখা নাহি যায়--
  নিশীথের মাঝে শুধু
  মহান্‌ একাকী আমি
অতলেতে ডুবি রে কোথায়।
  গাও বিশ্ব গাও তুমি
  সুদূর অদৃশ্য হতে
গাও তব নাবিকের গান--
  শত লক্ষ যাত্রী লয়ে
  কোথায় যেতেছ তুমি
তাই ভাবি মুদিয়া নয়ান।
  অনন্ত রজনী শুধু
  ডুবে যাই নিভে যাই
মরে যাই অসীম মধুরে--
  বিন্দু হতে বিন্দু হয়ে
  মিশায়ে মিলায়ে যাই
অনন্তের সুদূর সুদূরে।
আরো দেখুন
14
Verses
অমলধারা ঝরনা যেমন
      স্বচ্ছ তোমার প্রাণ,
পথে তোমার জাগিয়ে তুলুক
      আনন্দময় গান।
সম্মুখেতে চলবে যত
      পূর্ণ হবে নদীর মতো,
দুই কূলেতে দেবে ভ'রে
      সফলতার দান।
আরো দেখুন
যোগিয়া
Verses
     বহুদিন পরে আজি মেঘ গেছে চলে,
     রবির কিরণসুধা আকাশে উথলে।
স্নিগ্ধ শ্যাম পত্রপুটে              আলোক ঝলকি উঠে
          পুলক নাচিছে গাছে গাছে।
নবীন যৌবন যেন                  প্রেমের মিলনে কাঁপে,
          আনন্দ বিদ্যুৎ-আলো নাচে।
জুঁই সরোবরতীরে                 নিশ্বাস ফেলিয়া ধীরে
          ঝরিয়া পড়িতে চায় ভুঁয়ে,
অতি মৃদু হাসি তার,              বরষার বৃষ্টিধার
          গন্ধটুকু নিয়ে গেছে ধুয়ে।
আজিকে আপন প্রাণে             না জানি বা কোন্‌খানে
          যোগিয়া রাগিণী গায় কে রে।
ধীরে ধীরে সুর তার               মিলাইছে চারি ধার,
          আচ্ছন্ন করিছে প্রভাতেরে।
গাছপালা চারি ভিতে               সংগীতের মাধুরীতে
          মগ্ন হয়ে ধরে স্বপ্নছবি।
এ প্রভাত মনে হয়                 আরেক প্রভাতময়,
          রবি যেন আর কোনো রবি।
ভাবিতেছি মনে মনে               কোথা কোন্‌ উপবনে
          কী ভাবে সে গান গাইছে না জানি,
চোখে তার অশ্রুরেখা   একটু দেছে কি দেখা,
          ছড়ায়েছে চরণ দুখানি।
তার কি পায়ের কাছে    বাঁশিটি পড়িয়া আছে--
          আলোছায়া পড়েছে কপোলে।
মলিন মালাটি তুলি                ছিঁড়ি ছিঁড়ি পাতাগুলি
          ভাসাইছে সরসীর জলে।
বিষাদ-কাহিনী তার               সাধ যায় শুনিবার
          কোন্‌খানে তাহার ভবন।
তাহার আঁখির কাছে               যার মুখ জেগে আছে
          তাহারে বা দেখিতে কেমন।
এ কী রে আকুল ভাষা!          প্রাণের নিরাশ আশা
          পল্লবের মর্মরে মিশালো।
না জানি কাহারে চায়    তার দেখা নাহি পায়
          ম্লান তাই প্রভাতের আলো।
এমন কত-না প্রাতে               চাহিয়া আকাশপাতে
          কত লোক ফেলেছে নিশ্বাস,
সে-সব প্রভাত গেছে,              তারা তার সাথে গেছে
          লয়ে গেছে হৃদয়-হুতাশ!
এমন কত না আশা                কত ম্লান ভালোবাসা
          প্রতিদিন পড়িছে ঝরিয়া,
তাদের হৃদয়-ব্যথা                তাদের মরণ-গাথা
          কে গাইছে একত্র করিয়া,
পরস্পর পরস্পরে                 ডাকিতেছে নাম ধরে,
          কেহ তাহা শুনিতে না পায়।
কাছে আসে, বসে পাশে,তবুও কথা না ভাষে,
          অশ্রুজলে ফিরে ফিরে যায়।
চায় তবু নাহি পায়,                 অবশেষে নাহি চায়,
          অবশেষে নাহি গায় গান,
ধীরে ধীরে শূন্য হিয়া              বনের ছায়ায় গিয়া
          মুছে আসে সজল নয়ান।
আরো দেখুন