মুক্তিপাশ (muktipash)

ওগো,  নিশীথে কখন এসেছিলে তুমি

                 কখন যে গেছ বিহানে

    তাহা         কে জানে।

    আমি   চরণশবদ পাই নি শুনিতে

                 ছিলেম কিসের ধেয়ানে

    তাহা         কে জানে।

            রুদ্ধ আছিল আমার এ গেহ,

            কতকাল আসে-যায় নাই কেহ,

            তাই মনে মনে ভাবিতেছিলেম

                   এখনো রয়েছে যামিনী--

            যেমন বন্ধ আছিল সকলি

                  বুঝি-বা রয়েছে তেমনি।

                  হে মোর গোপনবিহারী,

            ঘুমায়ে ছিলেম যখন, তুমি কি

                  গিয়েছিলে মোরে নেহারি।

 

    আজ    নয়ন মেলিয়া একি হেরিলাম

               বাধা নাই, কোনো বাধা নাই--

    আমি       বাঁধা নাই।

    ওগো    যে আঁধার ছিল শয়ন ঘেরিয়া

               আধা নাই, তার আধা নাই--

    আমি       বাঁধা নাই।

            তখনি উঠিয়া গেলেম ছুটিয়া,

            দেখিনু কে মোর আগল টুটিয়া

            ঘরে ঘরে যত দুয়ার-জানালা

                  সকলি দিয়েছে খুলিয়া--

            আকাশ-বাতাস ঘরে আসে মোর

                  বিজয়পতাকা তুলিয়া

               হে বিজয়ী বীর অজানা,

       কখন যে তুমি জয় করে যাও

               কে পায় তার ঠিকানা!

 

    আমি   ঘরে বাঁধা ছিনু, এবার আমারে

                 আকাশে রাখিলে ধরিয়া

    দৃঢ়              করিয়া।

    সব       বাঁধা খুলে দিয়ে মুক্তিবাঁধনে

                 বাঁধিলে আমারে হরিয়া

    দৃঢ়              করিয়া।

           রুদ্ধদুয়ার ঘরে কতবার

           খুঁজেছিল মন পথ পালাবার,

           এবার তোমার আশাপথ চাহি

                 বসে রব খোলা দুয়ারে--

           তোমারে ধরিতে হইবে বলিয়া

                 ধরিয়া রাখিব আমারে।

                 হে মোর পরানবঁধু হে,

           কখন যে তুমি দিয়ে চলে যাও

                 পরানে পরশমধু হে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

76
Verses
TIMIDLY I cowered in the shadow of safety, but now, when the surge of joy carries my heart upon its crest, my heart clings to the cruel rock of its trouble.
I sat alone in a corner of my house thinking it too narrow for any guest, but now when its door is flung open by an unbidden joy I find there is room for thee and for all the world.
I walked upon tiptoe, careful of my person, perfumed, and adorned-but now when a glad whirlwind has overthrown me in the dust I laugh and roll on the earth at thy feet like a child.
আরো দেখুন
7
Verses
HOW OFTEN, great Earth, have I felt my being yearn to flow over you, sharing in the happiness of each green blade that raises its signal banner in answer to the beckoning blue of the sky!
        I feel as if I had belonged to you ages before I was born. That is why, in the days when the autumn light shimmers on the mellowing ears of rice, I seem to remember a past when my mind was everywhere, and even to hear voices as of playfellows echoing from the remote and deeply veiled past,
        When, in the evening, the cattle return to their folds, raising dust from the meadow paths, as the moon rises higher than the smoke ascending from the village huts, I feel sad as for some great separation that happened in the first morning of existence.
আরো দেখুন
পত্রোত্তর
Verses
           ডাক্তার শ্রীসুরেন্দ্রনাথ দাসগুপ্তকে লিখিত
বন্ধু,
          চিরপ্রশ্নের বেদীসম্মুখে চিরনির্বাক রহে
                   বিরাট নিরুত্তর,
          তাহারি পরশ পায় যবে মন নম্রললাটে বহে
                   আপন শ্রেষ্ঠ বর।
                             খনে খনে তারি বহিরঙ্গণদ্বারে
                             পুলকে দাঁড়াই, কত কী যে হয়  বলা;
                             শুধু মনে জানি বাজিল না বীণাতারে
                             পরমের সুরে চরমের গীতিকলা।
চকিত আলোকে কখনো সহসা দেখা দেয় সুন্দর,
                   দেয় না তবুও ধরা--
মাটির দুয়ার ক্ষণেক খুলিয়া আপন গোপন ঘর
          দেখায় বসুন্ধরা।
                   আলোকধামের আভাস সেথায় আছে
                   মর্তের বুকে অমৃত পাত্রে ঢাকা;
                   ফাগুন সেথায় মন্ত্র লাগায় গাছে,
                   অরূপের রূপ পল্লবে পড়ে আঁকা।
তারি আহ্বানে সাড়া দেয় প্রাণ, জাগে বিস্মিত সুর,
          নিজ অর্থ না জানে;
ধুলিময় বাধা-বন্ধ এড়ায়ে চলে যাই বহুদূর
          আপনারি গানে গানে।
                   "দেখেছি দেখেছি' এই কথা বলিবারে
                   সুর বেধে যায়, কথা না জোগায় মুখে;
                   ধন্য যে আমি, সে কথা জানাই কারে--
                   পরশাতীতের হরষ জাগে যে বুকে।
দুঃখ পেয়েছি, দৈন্য ঘিরেছে, অশ্লীল দিনে রাতে
          দেখেছি কুশ্রীতারে,
মানুষের প্রাণে বিষ মিশায়েছে মানুষ আপন হাতে,
          ঘটেছে তা বারে বারে।
                   তবু তো বধির করে নি শ্রবণ কভু,
                   বেসুর ছাপায়ে কে দিয়েছে সুর আনি;
                   পুরুষকলুষ ঝঞ্ঝায় শুনি তবু
                   চিরদিবসের শান্ত শিবের বাণী।
যাহা জানিবার কোনোকালে তার জেনেছি যে কোনোকিছু
          কে তাহা বলিতে পারে--
সকল পাওয়ার মাঝে না-পাওয়ার চলিয়াছি পিছু পিছু
          অচেনার অভিসারে।
                   অবুও চিত্ত অহেতু আনন্দেতে
                   বিশ্বনৃত্যলীলায় উঠেছে মেতে;
                   সেই ছন্দেই মুক্তি আমার পাব,
                   মৃত্যুর পথে মৃত্যু এড়ায়ে যাব।
ওই শুনি আমি চলেছে আকাশে বাঁধন-ছেঁড়ার রবে
          নিখিল আত্মহারা;
ওই দেখি আমি অন্তবিহীন সত্তার উৎসবে
          ছুটেছে প্রাণের ধারা।
                   সে ধারার বেগ লেগেছে আমার মনে
                   এ ধরণী হতে বিদায় নেবার ক্ষণে;
                   নিবায়ে ফেলিব ঘরের কোণের বাতি,
                   যাব অলক্ষ্যে সূর্যতারার সাথি।
কী আছে জানি না দিন-অবসানে মৃত্যুর অবশেষে;
                   এ প্রাণের কোনো ছায়া
শেষ আলো দিয়ে ফেলিবে কি রঙ অন্তরবির দেশে,
                   রচিবে কি কোনো মায়া।
                             জীবনেরে যাহা জেনেছি অনেক তাই;
                             সীমা থাকে থাক্‌, তবু তার সীমা নাই।
                             নিবিড় তাহার সত্য আমার প্রাণে
                             নিখিল ভুবন ব্যাপিয়া নিজেরে জানে।
আরো দেখুন