৯০ (pondit kumir ke)

পণ্ডিত কুমিরকে

     ডেকে বলে, 'নক্র,

প্রখর তোমার দাঁত,

            মেজাজটা বক্র।

আমি বলি নখ তব

            করো তুমি কর্তন,

হিংস্র স্বভাব তবে

            হবে পরিবর্তন

আমিষ ছাড়িয়া যদি

         শুধু খাও তক্র।'

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

জগদীশচন্দ্র বসু
Verses
বিজ্ঞানলক্ষ্মীর প্রিয় পশ্চিম মন্দিরে
           দূর সিন্ধুতীরে
হে বন্ধু, গিয়েছ তুমি; জয়মাল্যখানি
          সেথা হতে আনি
দীনহীনা জননীর লজ্জানত শিরে
          পরাইছ ধীরে।
বিদেশের মহোজ্জ্বল-মহিমা-মণ্ডিত
          পণ্ডিতসভায়
বহু সাধুবাদধ্বনি নানা কণ্ঠরবে
          শুনেছ গৌরবে।
সে ধ্বনি গম্ভীরমন্দ্রে ছায় চারি ধার
          হয়ে সিন্ধু পার।
আজি মাতা পাঠাইছে--অশ্রুসিক্ত বাণী
          আশীর্বাদখানি
জগৎ-সভার কাছে অখ্যাত অজ্ঞাত
          কবিকণ্ঠে ভ্রাতঃ।
সে বাণী পশিবে শুধু তোমারি অন্তরে
          ক্ষীণ মাতৃস্বরে।
আরো দেখুন
রাজমিস্ত্রী
Verses
বয়স আমার হবে তিরিশ,
          দেখতে আমায় ছোটো,
আমি নই, মা, তোমার শিরিশ,
          আমি হচ্ছি নোটো।
আমি যে রোজ সকাল হলে
যাই শহরের দিকে চলে
          তমিজ মিঞার গোরুর গাড়ি চড়ে।
সকাল থেকে সারা দুপর
ইঁট সাজিয়ে ইঁটের উপর
          খেয়ালমতো দেয়াল তুলি গড়ে।
ভাবছ তুমি নিয়ে ঢেলা
ঘর-গড়া সে আমার খেলা,
          কক্‌খনো না সত্যিকার সে কোঠা।
ছোটো বাড়ি নয় তো মোটে,
তিনতলা পর্যন্ত ওঠে,
          থামগুলো তার এমনি মোটা মোটা।
কিন্তু যদি শুধাও আমায়
ঐখানেতেই কেন থামায়?
          দোষ কী ছিল ষাট-সত্তর তলা?
ইঁট সুরকি জুড়ে জুড়ে
একেবারে আকাশ ফুঁড়ে
          হয় না কেন কেবল গেঁথে চলা?
গাঁথতে গাঁথতে কোথায় শেষে
ছাত কেন না তারায় মেশে?
          আমিও তাই ভাবি নিজে নিজে।
কোথাও গিয়ে কেন থামি
যখন শুধাও, তখন আমি
          জানি নে তো তার উত্তর কী যে।
যখন খুশি ছাতের মাথায়
          উঠছি ভারা বেয়ে।
সত্যি কথা বলি, তাতে
          মজা খেলার চেয়ে।
সমস্ত দিন ছাত-পিটুনী
গান গেয়ে ছাত পিটোয় শুনি,
          অনেক নিচে চলছে গাড়িঘোড়া।
বাসনওআলা থালা বাজায়;
সুর করে ঐ হাঁক দিয়ে যায়
          আতাওআলা নিয়ে ফলের ঝোড়া।
সাড়ে চারটে বেজে ওঠে,
ছেলেরা সব বাসায় ছোটে
          হো হো করে উড়িয়ে দিয়ে ধুলো।
রোদ্দুর যেই আসে পড়ে
পুবের মুখে কোথায় ওড়ে
          দলে দলে ডাক দিয়ে কাকগুলো।
আমি তখন দিনের শেষে
ভারার থেকে নেমে এসে
          আবার ফিরে আসি আপন গাঁয়ে।
জান তো, মা, আমার পাড়া
যেখানে ওই খুঁটি গাড়া
          পুকুরপাড়ে গাজনতলার বাঁয়ে।
তোরা যদি শুধাস মোরে
খড়ের চালায় রই কী করে?
          কোঠা যখন গড়তে পারি নিজে;
আমার ঘর যে কেন তবে
সব-চেয়ে না বড়ো হবে?
          জানি নে তো তার উত্তর কী যে!
আরো দেখুন
পলাতকা
Verses
          ঐ যেখানে শিরীষ গাছে
          ঝুরু-ঝুরু কচি পাতার নাচে
               ঘাসের 'পরে ছায়াখানি কাঁপায় থরথর
                   ঝরা ফুলের গন্ধে ভরভর--
          ঐখানে মোর পোষা হরিণ চরত আপন মনে
               হেনা-বেড়ার কোণে
          শীতের রোদে সারা সকালবেলা।
               তারি সঙ্গে করত খেলা
                   পাহাড়-থেকে-আনা
          ঘন রাঙা রোঁয়ায় ঢাকা একটি কুকুরছানা।
               যেন তারা দুই বিদেশের দুটি ছেলে
মিলেছে এক পাঠশালাতে, একসাথে তাই বেড়ায় হেসে খেলে।
          হাটের দিনে পথের কত লোকে
     বেড়ার কাছে দাঁড়িয়ে যেত, দেখত অবাক-চোখে।
          ফাগুন মাসে জাগল পাগল দখিন হাওয়া,
শিউরে ওঠে আকাশ যেন কোন্‌ প্রেমিকের রঙিন-চিঠি-পাওয়া
               শালের বনে ফুলের মাতন হল শুরু,
          পাতায় পাতায় ঘাসে ঘাসে লাগল কাঁপন দুরুদুরু।
     হরিণ যে কার উদাস-করা বাণী
               হঠাৎ কখন শুনতে পেলে আমরা তা কি জানি।
                   তাই যে কালো চোখের কোণে
                        চাউনি তাহার উতল হল অকারণে;
                             তাই সে থেকে থেকে
                                  হঠাৎ আপন ছায়া দেখে
                                      চমকে দাঁড়ায় বেঁকে।
                   একদা এক বিকালবেলায়
আমলকীবন অধীর যখন ঝিকিমিকি আলোর খেলায়,
          তপ্ত হাওয়া ব্যথিয়ে ওঠে আমের বোলের বাসে,
মাঠের পরে মাঠ হয়ে পার ছুটল হরিণ নিরুদ্দেশের আশে।
          সম্মুখে তার জীবনমরণ সকল একাকার,
               অজানিতের ভয় কিছু নেই আর।
                   ভেবেছিলেম আঁধার হলে পরে
                              ফিরবে ঘরে
                   চেনা হাতের আদর পাবার তরে।
                        কুকুরছানা বারে বারে এসে
                             কাছে ঘেঁষে ঘেঁষে    
                   কেঁদে-কেঁদে চোখের চাওয়ায় শুধায় জনে জনে,
"কোথায় গেল, কোথায় গেল, কেন তারে না দেখি অঙ্গনে।"      
          আহার ত্যেজে বেড়ায় সে যে, এল না তার সাথি।
                   আঁধার হল, জ্বলল ঘরে বাতি;
          উঠল তারা; মাঠে-মাঠে নামল নীরব রাতি।
আতুর চোখের প্রশ্ন নিয়ে ফেরে কুকুর বাইরে ঘরে,
                   "নাই সে কেন, যায় কেন সে কাহার তরে।"
          কেন যে তা সে-ই কি জানে। গেছে সে যার ডাকে
                   কোনো কালে দেখে নাই যে তাকে
আকাশ হতে, আলোক হতে, নতুন পাতার কাঁচা সবুজ হতে
          দিশাহারা দখিন হাওয়ার স্রোতে
     রক্তে তাহার কেমন এলোমেলো
          কিসের খবর এল।
বুকে যে তার বাজল বাঁশি বহুযুগের ফাগুন-দিনের সুরে--
          কোথায় অনেক দূরে
     রয়েছে তার আপন চেয়ে আরো আপন জন।
          তারেই অন্বেষণ।
     জন্ম হতে আছে যেন মর্মে তারি লেগে,
          আছে যেন ছুটে চলার বেগে,
     আছে যেন চল-চপল চোখের কোণে জেগে।
          কোনো কালে চেনে নাই সে যারে
সেই তো তাহার চেনাশোনার খেলাধুলা ঘোচায় একেবারে।
     আঁধার তারে ডাক দিয়েছে কেঁদে,
          আলোক তারে রাখল না আর বেঁধে।
আরো দেখুন