অকালে (okale)

ভাঙা হাটে কে ছুটেছিস,

            পসরা লয়ে?

সন্ধ্যা হল, ওই-যে বেলা

            গেল রে বয়ে।

 

যে যার বোঝা মাথার 'পরে

ফিরে এল আপন ঘরে,

একাদশীর খণ্ড শশী

            উঠল পল্লীশিরে।

পারের গ্রামে যারা থাকে

উচ্চকণ্ঠে নৌকা ডাকে,

হাহা করে প্রতিধ্বনি

            নদীর তীরে তীরে।

 

কিসের আশে ঊর্ধ্বশ্বাসে

            এমন সময়ে

ভাঙা হাটে তুই ছুটেছিস

            পসরা লয়ে?

 

সুপ্তি দিল বনের শিরে

            হস্ত বুলায়ে,

কা কা ধ্বনি থেমে গেল

            কাকের কুলায়ে।

 

বেড়ার ধারে পুকুর-পাড়ে

ঝিল্লি ডাকে ঝোপে ঝাড়ে,

বাতাস ধীরে পড়ে এল,

            স্তব্ধ বাঁশের শাখা--

হেরো ঘরের আঙিনাতে

শ্রান্তজনে শয়ন পাতে,

সন্ধ্যাপ্রদীপ আলোক ঢালে

            বিরাম-সুধা-মাখা।

 

সকল চেষ্টা শান্ত যখন

            এমন সময়ে

ভাঙা হাটে কে ছুটেছিস,

            পসরা লয়ে?

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

রাজা ও রানী
Verses
এক যে ছিল রাজা
সেদিন  আমায় দিল সাজা।
          ভোরের রাতে উঠে
আমি    গিয়েছিলুম ছুটে,
          দেখতে ডালিম গাছে
বনের   পিরভু কেমন নাচে।
          ডালে ছিলেম চড়ে,
সেটা    ভেঙেই গেল পড়ে।
          সেদিন হল মানা
আমার  পেয়ারা পেড়ে আনা,
          রথ দেখতে যাওয়া,
আমার  চিঁড়ের পুলি খাওয়া।
          কে দিল সেই সাজা,
জান     কে ছিল সেই রাজা?
          
          এক যে ছিল রানী
আমি    তার কথা সব মানি।
          সাজার খবর পেয়ে
আমায়  দেখল কেবল চেয়ে।
          বললে না তো কিছু,
কেবল  মুখটি করে নিচু
          আপন ঘরে গিয়ে
সেদিন  রইল আগল দিয়ে।
          হল না তার খাওয়া,
কিংবা   রথ দেখতে যাওয়া।
          নিল আমায় কোলে
সাজার  সময় সারা হলে।
          গলা ভাঙা-ভাঙা,
তার    চোখ-দুখানি রাঙা।
          কে ছিল সেই রানী
আমি    জানি জানি জানি।
আরো দেখুন
জয়ধ্বনি
Verses
যাবার সময় হলে জীবনের সব কথা সেরে
শেষবাক্যে জয়ধ্বনি দিয়ে যাব মোর অদৃষ্টেরে।
       বলে যাব, পরমক্ষণের আশীর্বাদ
বারবার আনিয়াছে বিস্ময়ের অপূর্ব আস্বাদ।
          যাহা রুগ্ন, যাহা ভগ্ন, যাহা মগ্ন পঙ্কস্তরতলে
                   আত্মপ্রবঞ্চনাছলে
               তাহারে করি না অস্বীকার।
                   বলি, বারবার
                 পতন হয়েছে যাত্রাপথে
                        ভগ্ন মনোরথে;
                             বারে বারে পাপ
          ললাটে লেপিয়া গেছে কলঙ্কের ছাপ;
          বারবার আত্মপরাভব কত
                    দিয়ে গেছে মেরুদণ্ড করি নত;
          কদর্যের আক্রমণ ফিরে ফিরে
                   দিগন্ত গ্লানিতে দিল ঘিরে।
     মানুষের অসম্মান দুর্বিষহ দুখে
          উঠেছে পুঞ্জিত হয়ে চোখের সম্মুখে,
               ছুটি নি করিতে প্রতিকার--
          চিরলগ্ন আছে প্রাণে ধিক্কার তাহার।
অপূর্ণ শক্তির এই বিকৃতির সহস্র লক্ষণ
          দেখিয়াছি চারি দিকে সারাক্ষণ,
    চিরন্তন মানবের মহিমারে তবু
             উপহাস করি নাই কভু।
      প্রত্যক্ষ দেখেছি যথা
দৃষ্টির সম্মুখে মোর হিমাদ্রিরাজের সমগ্রতা,
গুহাগহ্বরের যত ভাঙাচোরা রেখাগুলো তারে
              পারে নি বিদ্রূপ করিবারে--
     যত-কিছু খণ্ড নিয়ে অখণ্ডেরে দেখেছি তেমনি,
জীবনের শেষবাক্যে আজি তারে দিব জয়ধ্বনি।
আরো দেখুন
6
Verses
IN THE LIGHT of this thriftless day of spring, my poet, sing of those who pass by and do not linger, who laugh as they run and never look back, who blossom in an hour of unreasoning delight, and fade in a moment without regret.
Do not sit down silently, to tell the beads of your past tears and smiles,-do not stop to pick up the dropped petals from the flowers of overnight, do not go to seek things that evade you, to know the meaning that is not plain,-leave the gaps in your life where they are, for the music to come out of their depths.
আরো দেখুন