ক্ষণেক দেখা (khonek dekha)

চলেছিলে পাড়ার পথে

     কলস লয়ে কাঁখে,

একটুখানি ফিরে কেন

     দেখলে ঘোমটা-ফাঁকে?

     ওইটুকু যে চাওয়া

      দিল একটু হাওয়া

কোথা তোমার ও পার থেকে

       আমার এ পার-'পরে।

অতি দূরের দেখাদেখি

        অতি ক্ষণেক-তরে।

 

আমি শুধু দেখেছিলেম

        তোমার দুটি আঁখি--

ঘোমটা-ফাঁদা আঁধার-মাঝে

         ত্রস্ত দুটি পাখি।

         তুমি এক নিমিখে

         চেয়ে আমার দিকে

পথের একটি পথিকেরে

          দেখলে কতখানি

একটুমাত্র কৌতূহলে

          একটি দৃষ্টি হানি?

 

যেমন ঢাকা ছিলে তুমি

          তেমনি রইলে ঢাকা,

তোমার কাছে যেমন ছিনু

          তেমনি রইনু ফাঁকা!

          তবে কিসের তরে

          থামলে লীলাভরে

যেতে যেতে পাড়ার পথে

           কলস লয়ে কাঁখে?

একটুখানি ফিরে কেন

           দেখলে ঘোমটা-ফাঁকে?

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

বিচ্ছেদ
Verses
প্রতিকূল বায়ুভরে, ঊর্মিময় সিন্ধু-'পরে
                              তরীখানি যেতেছিল ধীরি,
কম্পমান কেতু তার, চেয়েছিল কতবার
          সে দ্বীপের পানে ফিরি ফিরি।
যারে আহা ভালোবাসি, তারে যবে ছেড়ে আসি
          যত যাই দূর দেশে চলি,
সেইদিক পানে হায়, হৃদয় ফিরিয়া চায়
          যেখানে এসেছি তারে ফেলি।
বিদেশেতে দেখি যদি, উপত্যকা, দ্বীপ, নদী,
          অতিশয় মনোহর ঠাঁই,
সুরভি কুসুমে যার, শোভিত সকল ধার
          শুধু হৃদয়ের ধন নাই,
বড়ো সাধ হয় প্রাণে, থাকিতাম এইখানে,
          হেথা যদি কাটিত জীবন,
রয়েছে যে দূরবাসে, সে যদি থাকিত পাশে
          কী যে সুখ হইত তখন।
পূর্বদিক সন্ধ্যাকালে, গ্রাসে অন্ধকার জালে
          ভীত পান্থ চায় ফিরে ফিরে,
দেখিতে সে শেষজ্যোতি, সুষ্ঠুতর হয়ে অতি
          এখনো যা জ্বলিতেছে ধীরে,
তেমনি সুখের কাল, গ্রাসে গো আঁধার-জাল
          অদৃষ্টের সায়াহ্নে যখন,
ফিরে চাই বারে বারে, শেষবার দেখিবারে
          সুখের সে মুমূর্ষু কিরণ।
আরো দেখুন
মরণমাতা
Verses
   মরণমাতা, এই যে কচি প্রাণ,
          বুকের এ যে দুলাল তব, তোমারই এ যে দান।
                   ধুলায় যবে নয়ন আঁধা,
                   জড়ের স্তূপে বিপুল বাধা,
তখন দেখি তোমারই কোলে নবীন শোভমান।
        নবদিনের জাগরণের ধন,
গোপনে তারে লালন করে তিমির-আবরণ।
          পরদাঢাকা তোমার রথে
          বহিয়া আনো প্রকাশপথে
নূতন আশা, নূতন ভাষা, নূতন আয়োজন।
        চলে যে যায় চাহে না আর পিছু,
তোমারই হাতে সঁপিয়া যায় যা ছিল তার কিছু।
          তাহাই লয়ে মন্ত্র পড়ি
          নূতন যুগ তোলো যে গড়ি--
নূতন ভালোমন্দ কত, নূতন উঁচুনিচু।
        রোধিয়া পথ আমি না রব থামি;
প্রাণের স্রোত অবাধে চলে তোমারই অনুগামী।
                   নিখিলধারা সে স্রোত বাহি
          ভাঙিয়া সীমা চলিতে চাহি,
অচলরূপে রব না বাঁধা অবিচলিত আমি।
        সহজে আমি মানিব অবসান,
ভাবী শিশুর জনমমাঝে নিজেরে দিব দান।
          আজি রাতের যে-ফুলগুলি
          জীবনে মম উঠিল দুলি
ঝরুক তারা কালি প্রাতের ফুলেরে দিতে প্রাণ।
আরো দেখুন
12
Verses
শ্যাম, মুখে তব মধুর অধরমে
হাস বিকশিত কায়
কোন স্বপন অব দেখত মাধব,
কহবে কোন হমায়!
নীদ-মেঘ'পর স্বপনবিজলিসম
রাধা বিলসত হাসি।
শ্যাম, শ্যাম মম, কৈসে শোধব
তুঁহুক প্রেমঋণরাশি।
বিহঙ্গ, কাহ তু বোলন লাগলি?
শ্যাম ঘুমায় হমারা,
রহ রহ চন্দ্রম, ঢাল ঢাল তব
শীতল জোছনধারা।
তারকমালিনী সুন্দর যামিনী
অবহুঁ ন যাও রে ভাগি,
নিরদয় রবি, অব কাহ তু আওলি
জ্বাললি বিরহক আগি।
ভানু কহত অব -- অব রবি অতি নিষ্ঠুর
নলিন-মিলন অভিলাষে
কত নরনারীক মিলন টুটাওত
ডারত বিরহহুতাশে।
আরো দেখুন