বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্ণীঃ (banijye bosoti lokkhi)

কোন্‌ বাণিজ্যে নিবাস তোমার

      কহো আমায় ধনী,

তাহা হলে সেই বাণিজ্যের

      করব মহাজনি।

 

দুয়ার জুড়ে কাঙাল বেশে

ছায়ার মতো চরণদেশে

কঠিন তব নূপুর ঘেঁষে

            আর বসে না রইব--

এটা আমি স্থির বুঝেছি

            ভিক্ষা নৈব নৈব।

 

যাবই আমি যাবই, ওগো,

        বাণিজ্যেতে যাবই।

তোমায় যদি না পাই, তবু

        আর কারে তো পাবই।

 

সাজিয়ে নিয়ে জাহাজখানি

       বসিয়ে হাজার দাঁড়ি

কোন্‌ নগরে যাব, দিয়ে

       কোন্‌ সাগরে পাড়ি।

 

কোন্‌ তারকা লক্ষ্য করি,

কূল-কিনারা পরিহরি,

কোন্‌ দিকে যে বাইব তরী

       অকূল কালো নীরে--

মরব না আর ব্যর্থ আশায়

       বালুমরুর তীরে।

 

যাবই আমি যাবই, ওগো,

        বাণিজ্যেতে যাবই।

তোমার যদি না পাই, তবু

       আর কারে তো পাবই।

 

সাগর উঠে তরঙ্গিয়া,

       বাতাস বহে বেগে,

সূর্য যেথায় অস্তে নামে

       ঝিলিক মারে মেঘে ।

 

দক্ষিণে চাই, উত্তরে চাই--

ফেনায় ফেনা, আর কিছু নাই--

যদি কোথাও কূল নাহি পাই

      তল পাব তো তবু ।

ভিটার কোণে হতাশমনে

      রইব না আর কভু ।

 

যাবই আমি যাবই, ওগো,

    বাণিজ্যেতে যাবই।

তোমায় যদি না পাই, তবু

    আর কারে তো পাবই।

 

নীলের কোলে শ্যামল সে দ্বীপ

       প্রবাল দিয়ে ঘেরা,

শৈলচূড়ায় নীড় বেঁধেছে

        সাগর-বিহঙ্গরা।

 

নারিকেলের শাখে শাখে

ঝোড়ো বাতাস কেবল ডাকে,

ঘন বনের ফাঁকে ফাঁকে

        বইছে নগনদী--

সোনার রেণু আনব ভরি

       সেথায় নামি যদি।

 

যাবই আমি যাবই, ওগো,

     বাণিজ্যেতে যাবই।

তোমায় যদি না পাই, তবু

     আর কারে তো পাবই।

 

অকূল-মাঝে ভাসিয়ে তরী

            যাচ্ছি অজানায়

আমি শুধু একলা নেয়ে

            আমার শূন্য নায়।

 

নব নব পবনভরে

যাব দ্বীপে দ্বীপান্তরে,

নেব তরী পূর্ণ করে

            অপূর্ব ধন যত।

ভিখারি তোর ফিরবে যখন

            ফিরবে রাজার মতো।

 

যাবই আমি যাবই, ওগো,

     বাণিজ্যেতে যাবই।

তোমায় যদি না পাই, তবু

     আর কারে তো পাবই।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

মোর হৃদয়ের গোপন বিজন ঘরে
Verses
মোর হৃদয়ের গোপন বিজন ঘরে
একেলা রয়েছ নীরব শয়ন-'পরে--
          প্রিয়তম হে, জাগো জাগো জাগো।
রুদ্ধ দ্বারের বাহিরে দাঁড়ায়ে আমি
আর কতকাল এমনে কাটিবে স্বামী--
          প্রিয়তম হে, জাগো জাগো জাগো।
রজনীর তারা উঠেছে গগন ছেয়ে,
আছে সবে মোর বাতায়ন-পানে চেয়ে--
          প্রিয়তম হে, জাগো জাগো জাগো।
জীবনে আমার সংগীত দাও আনি,
নীরব রেখো না তোমার বীণার বাণী--
          প্রিয়তম হে, জাগো জাগো জাগো।
মিলাব নয়ন তব নয়নের সাথে,
মিলাব এ হাত তব দক্ষিণ হাতে--
          প্রিয়তম হে, জাগো জাগো জাগো।
হৃদয়পাত্র সুধায় পূর্ণ হবে,
তিমির কাঁপিবে গভীর আলোর রবে--
          প্রিয়তম হে, জাগো জাগো জাগো।
আরো দেখুন
33
Verses
জানি আমার পায়ের শব্দ রাত্রে দিনে শুনতে তুমি পাও,
          খুশি হয়ে পথের পানে চাও।
     খুশি তোমার ফুটে ওঠে শরৎ-আকাশে
              অরুণ-আভাসে।
     খুশি তোমার ফাগুনবনে আকুল হয়ে পড়ে
              ফুলের ঝড়ে ঝড়ে।
          আমি যতই চলি তোমার কাছে
              পথটি চিনে চিনে
          তোমার সাগর অধিক করে নাচে
               দিনের পরে দিনে।
জীবন হতে জীবনে মোর পদ্মটি যে ঘোমটা খুলে খুলে
          ফোটে তোমার মানস-সরোবরে--
সূর্যতারা ভিড় ক'রে তাই ঘুরে ঘুরে বেড়ায় কূলে কূলে
              কৌতূহলের ভরে।
          তোমার জগৎ আলোর মঞ্জরী
              পূর্ণ করে তোমার অঞ্জলি।
     তোমার লাজুক স্বর্গ আমার গোপন আকাশে
     একটি করে পাপড়ি খোলে প্রেমের বিকাশে।
আরো দেখুন
আবার আবার কেন রে আমার
Verses
আবার আবার কেন রে আমার
সেই ছেলেবেলা আসে নি ফিরে,
হরষে কেমন আবার তা হলে,
সাঁতারিয়ে ভাসি সাগরের জলে,
খেলিয়ে বেড়াই শিখরী শিরে!
স্বাধীন হৃদয়ে ভালো নাহি লাগে,
ঘোরঘটাময় সমাজধারা,
না, না, আমি রে যাব সেই স্থানে,
ভীষণ ভূধর বিরাজে যেখানে,
তরঙ্গ মাতিছে পাগল পারা!
অয়ি লক্ষ্মী, তুমি লহো লহো ফিরে,
ধন ধান্য তুমি যাদেছ মোরে,
জাঁকালো উপাধি নাহি আমি চাই,
ক্রীতদাসে মম কোনো সুখ নাই,
সেবকের দল যাক-না সোরে!
তুলে দাও মোরে সেই শৈল-'পরে,
গরজি ওঠে যা সাগর-নাদে,
অন্য সাধ নাই, এই মাত্র চাই,
ভ্রমিব সেথায় স্বাধীন হৃদে!
অধিক বয়স হয় নে তো মম,
এখনি বুঝিতে পেরেছি হায়,
এ ধরা নহে তো আমার কারণে,
আর মম সুখ নাহি এ জীবনে,
কবে রে এড়াব এ দেহ দায়!
একদা স্বপনে হেরেছিনু আমি,
সুবিমল এক সুখের স্থান,
কেন রে আমার সে ঘুম ভাঙিল
কেন রে আমার নয়ন মেলিল,
দেখিতে নীরস এ ধরা খান!
এক কালে আমি বেসেছিনু ভালো,
ভালোবাসা-ধন কোথায় এবে,
বাল্যসখা সব কোথায় এখন--
হায় কী বিষাদে ডুবেছে এ মন,
আশারও আলোক গিয়েছে নিবে!
অমোদ-আসরে আমোদ-সাথীরা,
মাতায় ক্ষণেক আমোদ রসে,
কিন্তু এ হৃদয়, আমোদের নয়,
বিরলে কাঁদি যে একেলা বসে!
উঃ কী কঠোর, বিষম কঠোর,
সেই সকলের আমোদ-রব,
শত্রু কিম্বা সখা নহে যারা মনে,
অথচ পদ বা বিভব কারণে,
দাও ফিরে মোরে সেই সখাগুলি,
বয়সে হৃদয়ে সমান যারা,
এখনি যে আমি ত্যেজিব তা হলে,
গভীর নিশীথ-আমোদীর দলে,
হৃদয়ের ধার কি ধারে তারা!
সর্বস্ব রতন, প্রিয়তমা ওরে,
তোরেও সুধাই একটি কথা,
বল দেখি কিসে আর মম সুখ,
হেরিয়েও যবে তোর হাসি-মুখ,
কমে না হৃদয়ে একটি ব্যথা!
যাক তবে সব, দুঃখ নাহি তায়,
শোকের সমাজ নাহিকো চাই,
গভীর বিজনে মনের বিরাগে,
স্বাধীন হৃদয়ে ভালো যাহা লাগে,
সুখে উপভোগ করিব তাই!
মানব-মন্ডলী ছেড়ে যাব যাব,
বিরাগে কেবল, ঘৃণাতে নয়,
অন্ধকারময় নিবিড় কাননে,
থাকিব তবুও নিশ্চিন্ত মনে,
আমারও হৃদয় আঁধারময়!
কেন রে কেন রে হল না আমার,
কপোতের মতো বায়ুর পাখা,
তা হলে ত্যেজিয়ে মানব-সমাজ,
গগনের ছাদ ভেদ করি আজ,
থাকিতাম সুখে জলদে ঢাকা!
আরো দেখুন