বল তো এই বারের মতো, প্রভু, তোমার আঙিনাতে তুলি আমার ফসল যত। কিছু বা ফল গেছে ঝরে, কিছু বা ফল আছে ধরে, বছর হয়ে এল গত। রোদের দিনে ছায়ায় বসে বাজায় বাঁশি রাখাল যত। হুকুম তুমি কর যদি চৈত্র-হাওয়ায় পাল তুলে দিই, ওই যে মেতে ওঠে নদী। পার করে নিই ভরা তরী, মাঠের যা কাজ সারা করি ঘরের কাজে হই গো রত। এবার আমার মাথার বোঝা পায়ে তোমার করি নত।
এসো এসো এই বুকে নিবাসে তোমার, যূথভ্রষ্ট বাণবিদ্ধ হরিণী আমার, এইখানে বিরাজিছে সেই চির হাসি, আঁধারিতে পারিবে না তাহা মেঘরাশি। এই হস্ত এ হৃদয় চিরকাল মতো তোমার, তোমারি কাজে রহিবে গো রত! কিসের সে চিরস্থায়ী ভালোবাসা তবে, গৌরবে কলঙ্কে যাহা সমান না রবে? জানি না, জানিতে আমি চাহি না, চাহি না, ও হৃদয়ে এক তিল দোষ আছে কিনা, ভালোবাসি তোমারেই এই শুধু জানি, তাই হলে হল, আর কিছু নাহি মানি। দেবতা সুখের দিনে বলেছ আমায়, বিপদে দেবতা সম রক্ষিব তোমায়, অগ্নিময় পথ দিয়া যাব তব সাথে, রক্ষিব, মরিব কিংবা তোমারি পশ্চাতে।