অস্ফুট ও পরিস্ফুট (osfuto o porisfuto)

ঘটিজল বলে, ওগো মহাপারাবার,

আমি স্বচ্ছ সমুজ্জ্বল, তুমি অন্ধকার।

ক্ষুদ্র সত্য বলে, মোর পরিষ্কার কথা,

মহাসত্য তোমার মহান্‌ নীরবতা।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

230
Verses
LET HIM only see the thorns who has eyes to see the rose.
আরো দেখুন
অপরাধী
Verses
তুমি বল তিনু প্রশ্রয় পায় আমার কাছে--
           তাই রাগ কর তুমি।
        ওকে ভালোবাসি,
           তাই ওকে দুষ্টু ব'লে দেখি,
               দোষী ব'লে দেখি নে--
                   রাগও করি ওর 'পরে
                       ভালোও লাগে ওকে
               এ কথাটা মিছে নয় হয়তো।
এক-একজন মানুষ অমন থাকে
         সে লোক নেহাত মন্দ নয়,
             সেইজন্যেই সহজে তার মন্দটাই পড়ে ধরা।
                 সে হতভাগা রঙে মন্দ, কিন্তু মন্দ নয় রসে;
                     তার দোষ স্তূপে বেশি,
                         ভারে বেশি নয়--
                     তাই দেখতে যতটা লাগে
                            গায়ে লাগে না তত।
                     মনটা ওর হালকা ছিপ্‌ছিপে নৌকো,
                            হূহু করে চলে যায় ভেসে;
                     ভালোই বল আর মন্দই বল
                                জমতে দেয় না বেশিক্ষণ--
                     এ পারের বোঝা ও পারে চালান করে দেয়
                                দেখতে দেখতে;
                         ওকে কিছুই চাপ দেয় না,
                                তেমনি ও দেয় না চাপ।
স্বভাব ওর আসর-জমানো,
         কথা কয় বিস্তর,
      তাই বিস্তর মিছে বলতে হয়--
             নইলে ফাঁক পড়ে কথার ঠাস-বুনোনিতে।
                 মিছেটা নয় ওর মনে,
                     সে ওর ভাষায়।
             ওর ব্যাকরণটা যার জানা
                     তবু বুঝতে হয় না দেরি।
             ওকে তুমি বল নিন্দুক-- তা সত্য।
         সত্যকে বাড়িয়ে তুলে বাঁকিয়ে দিয়ে ও নিন্দে বানায়--
      যার নিন্দে করে তার মন্দ হবে ব'লে নয়,
যারা নিন্দে শোনে তাদের ভালো লাগবে ব'লে।
         তারা আছে সমস্ত সংসার জুড়ে।
             তারা নিন্দের নীহারিকা,
                 ও হল নিন্দের তারা,
             ওর জ্যোতি তাদেরই কাছ থেকে পাওয়া।
      আসল কথা ওর বুদ্ধি আছে, নেই বিবেচনা।
             তাই ওর অপরাধ নিয়ে হাসি চলে।
যারা ভালোমন্দ বিবেচনা করে সূক্ষ্ম তৌলের মাপে
                 তাদের দেখে হাসি যায় বন্ধ হয়ে;
             তাদের সঙ্গটা ওজনে হয় ভারী,
                     সয় না বেশিক্ষণ;
             দৈবে তাদের ত্রুটি যদি হয় অসাবধানে
                         হাঁপ ছেড়ে বাঁচে লোকে।
বুঝিয়ে বলি কাকে বলে অবিবেচনা--
    মাখন লক্ষ্মীছাড়াটা সংস্কৃতর ক্লাসে
           চৌকিতে লাগিয়ে রেখেছিল ভুসো;
ছাপ লেগেছিল পণ্ডিতমশায়ের জামার পিঠে;
           সে হেসেছিল, সবাই হেসেছিল
               পণ্ডিতমশায় ছাড়া।
হেডমাস্টার দিলেন ছেলেটাকে একেবারে তাড়িয়ে;
           তিনি অত্যন্ত গম্ভীর, তিনি অত্যন্ত বিবেচক।
                   তাঁর ভাব-গতিক দেখে হাসি বন্ধ হয়ে যায়।
      তিনু অপকার করে কিছু না ভেবে,
             উপকার করে অনায়াসে,
                     কোনোটাই মনে রাখে না।
ও ধার নেয়, খেয়াল নেই শোধ করবার;
                     যারা ধার নেয় ওর কাছে
             পাওনার তলব নেই তাদের দরজায়।
      মোটের উপর ওরই লোকসান হয় বেশি।
তোমাকে আমি বলি, ওকে গাল দিয়ো যা খুশি,
         আবার হেসো মনে মনে--
                 নইলে ভুল হবে।
      আমি ওকে দেখি কাছের থেকে, মানুষ ব'লে,
                 ভালো মন্দ পেরিয়ে।
তুমি দেখ দূরে ব'সে, বিশেষণের কাঠগড়ায় ওকে খাড়া রেখে।
         আমি ওকে লাঞ্ছনা দিই তোমার চেয়ে বেশি--
                     ক্ষমা করি তোমার চেয়ে বড়ো ক'রে।
                         সাজা দিই, নির্বাসন দিই নে।
         ও আমার কাছেই রয়ে গেল,
                         রাগ কোরো না তাই নিয়ে।
আরো দেখুন
সন্ধ্যা
Verses
  
অয়ি সন্ধ্যে,
    অনন্ত আকাশতলে বসি একাকিনী,
          কেশ এলাইয়া
    মৃদু মৃদু ও কী কথা   কহিস আপন মনে
          গান গেয়ে গেয়ে,
        নিখিলের মুখপানে চেয়ে।
    প্রতিদিন শুনিয়াছি, আজও তোর কথা
          নারিনু বুঝিতে।
    প্রতিদিন শুনিয়াছি,  আজও তোর গান
          নারিনু শিখিতে।
        চোখে লাগে ঘুমঘোর,  
        প্রাণ শুধু ভাবে হয় ভোর।
      হৃদয়ের অতিদূর দূর দূরান্তরে
      মিলাইয়া কণ্ঠস্বর তোর কন্ঠস্বরে
          উদাসী প্রবাসী যেন
      তোর সাথে তোরি গান করে।
    
    অয়ি সন্ধ্যা, তোরি যেন স্বদেশের প্রতিবেশী
       তোরি যেন আপনার ভাই
    প্রাণের প্রবাসে মোর দিশা হারাইয়া
          বেড়ায় সদাই।
          শোনে যেন স্বদেশের গান,
          দূর হতে কার পায় সাড়া
          খুলে দেয় প্রাণ।
          যেন কী পুরোনো স্মৃতি
          জাগিয়া উঠে রে ওই গানে।
          ওই তারকার মাঝে  যেন তার গৃহ ছিল,
          হাসিত কাঁদিত ওইখানে।
          আর বার ফিরে যেতে চায়
          পথ তবু খুঁজি না পায়।
    কত-না পুরানো কথা, কত-না হারানো গান,
           কত না প্রাণের দীর্ঘশ্বাস,  
   শরমের  আধো হাসি,      সোহাগের আধো বাণী,
          প্রণয়ের আধো মৃদু ভাষ,
          সন্ধ্যা, তোর ওই অন্ধকারে
          হারাইয়া গেছে একেবারে।
          পূর্ণ করি অন্ধকার তোর
          তারা সবে ভাসিয়া বেড়ায়
          যুগান্তের প্রশান্ত হৃদয়ে
          ভাঙাচোরা জগতের প্রায়।
    যবে এই নদীতীরে        বসি তোর পদতলে
          তারা সবে দলে দলে আসে  
          প্রাণেরে ঘেরিয়া চারি পাশে;
    হয়তো একটি হাসি       একটি আধেক হাসি
          সমুখেতে ভাসিয়া বেড়ায়,
          কভু ফোটে কভু বা মিলায়।
    আজি আসিয়াছি সন্ধ্যা, বসি তোর অন্ধকারে
             মুদিয়া নয়ন
    সাধ গেছে গাহিবারে--মৃদু  স্বরে শুনাবারে
             দু-চারিটি গান।
    যেথায় পুরোনো গান      যেথায় হারানো হাসি
             যেথা আছে বিস্মৃত স্বপন
    সেইখানে সযতনে        রেখে দিস গানগুলি,
             রচে দিস সমাধিশয়ন।
             জানি সন্ধ্যা, জানি তোর স্নেহ,
             গোপনে ঢাকিবি তার দেহ
    বসিয়া সমাধি-'পরে      নিষ্ঠুরকৌতুকভরে
             দেখিস হাসে না যেন কেহ।
             ধীরে শুধু ঝরিবে শিশির,
             মৃদু শ্বাস ফেলিবে সমীর।
             স্তব্ধতা কপোলে হাত দিয়ে
             একা সেথা রহিবে বসিয়া,  
             মাঝে মাঝে দু-একটি তারা
             সেথা আসি পড়িবে খসিয়া।
আরো দেখুন