১০৮ (akashe dui hate prem bilay o ke)

আকাশে           দুই হাতে প্রেম বিলায় ও কে?

সে সুধা            গড়িয়ে গেল লোকে লোকে।

গাছেরা             ভরে নিল সবুজ পাতায়,

ধরণী               ধরে নিল আপন মাথায়।

ফুলেরা            সকল গায়ে নিল মেখে।

পাখিরা             পাখায় তারে নিল এঁকে।

ছেলেরা            কুড়িয়ে নিল মায়ের বুকে,

মায়েরা             দেখে নিল ছেলের মুখে।

সে যে ওই          দুঃখশিখায় উঠল জ্বলে,

সে যে ওই          অশ্রুধারায় পড়ল গলে!

সে যে ওই          বিদীর্ণ বীর-হৃদয় হতে

বহিল               মরণ-রূপী জীবনস্রোতে।

সে যে ওই          ভাঙাগড়ার তালে তালে

নেচে যায়           দেশে দেশে কালে কালে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

316
Verses
LET ME live truly, my Lord, so that death to me become true.
আরো দেখুন
98
Verses
মূর্ত তোরা বসন্তকাল মানব-লোকে
         সদ্য নবীন মাধুরীকে আনলি চোখে।
পুরোনোকে ঝরিয়ে দেওয়ার মন্ত্র সাধা
         সরিয়ে দিলি জীবন-পথের জীর্ণ বাধা।
ফুল ফোটানোর আনন্দগান এলি শিখে--
         কোথা থেকে ডাক দিয়েছিস মৌমাছিকে।
চঞ্চল ওই প্রাণের ঘায়ে তরুণ তোরা
         উচ্ছলিয়া দিলি ধরার পাগলা-ঝোরা
তাই আজি এই নব বরষ স্নেহভরে
         নবীন আশার বাহন তোদের আশিস্‌ করে।
মানব-গৃহে তোরা প্রাণের প্রথম বাণী
         স্বর্গ হতে কলভাষায় দিলি আনি।
মর্ত্য হতে আবার যেন দিনের শেষে
         স্বর্গ-পানে পূর্ণতর যায় ফিরে সে।
আরো দেখুন
যৌবনবিদায়
Verses
            ওগো যৌবনতরী,
এবার বোঝাই সাঙ্গ করে দিলেম বিদায় করি।
     কতই খেয়া, কতই খেয়াল,
            কতই-না দাঁড়-বাওয়া--
     তোমার পালে লেগেছিল  
            কত দখিন হাওয়া!
     কত ঢেউয়ের টল্‌মলানি
            কত স্রোতের টান--
     পূর্ণিমাতে সাগর হতে
            কত পাগল বান!
     এ পার হতে ও পার ছেয়ে
            ঘন মেঘের সারি,
     শ্রাবণ-দিনে ভরা গাঙে
            দু-কূল-হারা পাড়ি।
     অনেক খেলা, অনেক মেলা
            সকলি শেষ ক'রে
     চল্লিশেরই ঘাটের থেকে
            বিদায় দিনু তোরে।
            ওগো তরুণ তরী,
যৌবনেরই শেষ কটি গান দিনু বোঝাই করি।
     সে-সব দিনের কান্না হাসি,
            সত্য মিথ্যা ফাঁকি,
     নিঃশেষিয়ে যাস রে নিয়ে
            রাখিস নে আর বাকি।
     নোঙর দিয়ে বাঁধিস নে আর
            চাহিস নে আর পাছে--
     ফিরে ফিরে ঘুরিস নে আর
            ঘাটের কাছে কাছে।
     এখন হতে ভাঁটার স্রোতে
            ছিন্ন পালটি তুলে
     ভেসে যা রে স্বপ্ন-সমান
            অস্তাচলের কূলে।
     সেথায় সোনা-মেঘের ঘাটে
            নামিয়ে দিয়ো শেষে
     বহুদিনের বোঝা তোমার
             চিরনিদ্রার দেশে।
            ওরে আমার তরী,
পারে যাবার উঠল হাওয়া, ছোট্‌ রে ত্বরা করি।
     যেদিন খেয়া ধরেছিলেম
            ছায়াবটের ধারে,
     ভোরের সুরে ডেকেছিলেম
            "কে যাবি আয় পারে'।
     ভেবেছিলেম ঘাটে ঘাটে
            করতে আনাগোনা
     এমন চরণ পড়বে নায়ে
            নৌকো হবে সোনা।
     এতবারের পারাপারে,
            এত লোকের ভিড়ে,
     সোনা-করা দুটি চরণ
            দেয় নি পরশ কি রে?
     যদি চরণ পড়ে থাকে
            কোনো একটি বারে
     যা রে সোনার জন্ম নিয়ে
            সোনার মৃত্যু-পারে।
আরো দেখুন