৯৮ (murto tora bosontokale)

মূর্ত তোরা বসন্তকাল মানব-লোকে

         সদ্য নবীন মাধুরীকে আনলি চোখে।

পুরোনোকে ঝরিয়ে দেওয়ার মন্ত্র সাধা

         সরিয়ে দিলি জীবন-পথের জীর্ণ বাধা।

ফুল ফোটানোর আনন্দগান এলি শিখে--

         কোথা থেকে ডাক দিয়েছিস মৌমাছিকে।

চঞ্চল ওই প্রাণের ঘায়ে তরুণ তোরা

         উচ্ছলিয়া দিলি ধরার পাগলা-ঝোরা

তাই আজি এই নব বরষ স্নেহভরে

         নবীন আশার বাহন তোদের আশিস্‌ করে।

মানব-গৃহে তোরা প্রাণের প্রথম বাণী

         স্বর্গ হতে কলভাষায় দিলি আনি।

মর্ত্য হতে আবার যেন দিনের শেষে

         স্বর্গ-পানে পূর্ণতর যায় ফিরে সে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

হিন্দুস্থান
Verses
      মোরে হিন্দুস্থান
           বারবার করেছে আহ্বান
     কোন্‌ শিশুকাল হতে পশ্চিমদিগন্ত-পানে
ভারতের ভাগ্য যেথা নৃত্যলীলা করেছে শ্মশানে,
                   কালে কালে
              তাণ্ডবের তালে তালে,
                   দিল্লিতে আগ্রাতে
         মঞ্জীরঝংকার আর দূর শকুনির ধ্বনি-সাথে;
                   কালের মন্থনদণ্ডঘাতে
              উচ্ছলি উঠেছে যেথা পাথরের ফেনস্তূপে
         অদৃষ্টের অট্টহাস্য অভ্রভেদী প্রাসাদের রূপে।
         লক্ষ্মী-অলক্ষ্মীর দুই বিপরীত পথে
                   রথে প্রতিরথে
     ধূলিতে ধূলিতে যেথা পাকে পাকে করেছে রচনা
        জটিল রেখার জালে শুভ-অশুভের আল্‌পনা।
         নব নব ধ্বজা হাতে নব নব সৈনিকবাহিনী
     এক কাহিনীর সূত্র ছিন্ন করি আরেক কাহিনী
         বারংবার গ্রন্থি দিয়ে করেছে যোজন।
     প্রাঙ্গণপ্রাচীর যার অকস্মাৎ করেছে লঙ্ঘন
                   দস্যুদল,
        অর্ধরাত্রে দ্বার ভেঙে জাগিয়েছে আর্ত কোলাহল,
                   করেছে আসন-কাড়াকাড়ি,
         ক্ষুধিতের অন্নথালি নিয়েছে উজাড়ি।
     রাত্রিরে ভুলিল তারা ঐশ্বর্যের মশাল-আলোয়--
         পীড়িত পীড়নকারী দোঁহে মিলি সাদায় কালোয়
                   যেখানে রচিয়াছিল দ্যূতখেলাঘর,
     অবশেষে সেথা আজ একমাত্র বিরাট কবর
                   প্রান্ত হতে প্রান্তে প্রসারিত;
         সেথা জয়ী আর পরাজিত
                   একত্রে করেছে অবসান
              বহু শতাব্দীর যত মান অসম্মান।
     ভগ্নজানু প্রতাপের ছায়া সেথা শীর্ণ যমুনায়
                   প্রেতের আহ্বান বহি চলে যায়,
                            বলে যায়--
         আরো ছায়া ঘনাইছে অস্তদিগন্তের
                             জীর্ণ যুগান্তের।
আরো দেখুন
আট
Verses
মনে মনে দেখলুম
সেই দূর অতীত যুগের নিঃশব্দ সাধনা
যা মুখর ইতিহাসকে নিষিদ্ধ রেখেছে
আপন তপস্যার আসন থেকে।
দেখলেম দুর্গম গিরিব্রজে
কোলাহলী কৌতূহলী দৃষ্টির অন্তরালে
অসূর্যম্পশ্য নিভৃতে
ছবি আঁকছে গুণী
গুহাভিত্তির 'পরে,
যেমন অন্ধকার পটে
সৃষ্টিকার আঁকছেন বিশ্বছবি।
সেই ছবিতে ওরা আপন আনন্দকেই করেছে সত্য,
আপন পরিচয়কে করেছে উপেক্ষা,
দাম চায়নি বাইরের দিকে হাত পেতে,
নামকে দিয়েছে মুছে।
হে অনামা, হে রূপের তাপস,
প্রণাম করি তোমাদের।
নামের মায়াবন্ধন থেকে মুক্তির স্বাদ পেয়েছি
তোমাদের এই যুগান্তরের কীর্তিতে।
নাম-ক্ষালন যে পবিত্র অন্ধকারে ডুব দিয়ে
তোমাদের সাধনাকে করেছিলে নির্মল,
সেই অন্ধকারের মহিমাকে
আমি আজ বন্দনা করি।
তোমাদের নিঃশব্দ বাণী
রয়েছে এই গুহায়,
বলছে--নামের পূজার অর্ঘ্য,
ভাবীকালের খ্যাতি,
সে তো প্রেতের অন্ন;
ভোগশক্তিহীন নিরর্থকের কাছে উৎসর্গ-করা।
তার পিছনে ছুটে
সদ্য বর্তমানের অন্নপূর্ণার
পরিবেষণ এড়িয়ে যেয়ো না, মোহান্ধ।
আজ আমার দ্বারের কাছে
শজনে গাছের পাতা গেল ঝ'রে,
ডালে ডালে দেখা দিয়েছে
কচি পাতার রোমাঞ্চ;
এখন প্রৌঢ় বসন্তের পারের খেয়া
চৈত্রমাসের মধ্যস্রোতে;
মধ্যাহ্নের তপ্ত হাওয়ায়
গাছে গাছে দোলাদুলি;
উড়তি ধুলোয় আকাশের নীলিমাতে
ধূসরের আভাস,
নানা পাখির কলকাকলিতে
বাতাসে আঁকছে শব্দের অস্ফুট আলপনা।
এই নিত্য-বহমান অনিত্যের স্রোতে
আত্মবিস্মৃত চলতি প্রাণের হিল্লোল;
তার কাঁপনে আমার মন ঝলমল করছে
কৃষ্ণচূড়ার পাতার মতো।
অঞ্জলি ভরে এই তো পাচ্ছি
সদ্য মুহূর্তের দান,
এর সত্যে নেই কোনো সংশয়, কোনো বিরোধ।
যখন কোনোদিন গান করেছি রচনা,
সেও তো আপন অন্তরে
এইরকম পাতার হিল্লোল,
হাওয়ার চাঞ্চল্য,
রৌদ্রের ঝলক,
প্রকাশের হর্ষবেদনা।
সেও তো এসেছে বিনা নামের অতিথি,
গর-ঠিকানার পথিক।
তার যেটুকু সত্য
তা সেই মুহূর্তেই পূর্ণ হয়েছে,
তার বেশি আর বাড়বে না একটুও,
নামের পিঠে চড়ে।
বর্তমানের দিগন্তপারে
যে-কাল আমার লক্ষ্যের অতীত
সেখানে অজানা অনাত্মীয় অসংখ্যের মাঝখানে
যখন ঠেলাঠেলি চলবে
লক্ষ লক্ষ নামে নামে,
তখন তারি সঙ্গে দৈবক্রমে চলতে থাকবে
বেদনাহীন চেতনাহীন ছায়ামাত্রসার
আমারো নামটা,
ধিক থাক্‌ সেই কাঙাল কল্পনার মরীচিকায়।
জীবনের অল্প কয়দিনে
বিশ্বব্যাপী নামহীন আনন্দ
দিক আমাকে নিরহংকার মুক্তি।
সেই অন্ধকারকে সাধনা করি
যার মধ্যে স্তব্ধ বসে আছেন
বিশ্বচিত্রের রূপকার, যিনি নামের অতীত,
প্রকাশিত যিনি আনন্দে।
আরো দেখুন
জানি সখা অভাগীরে ভালো তুমি বাস না
Verses
জানি সখা অভাগীরে ভালো তুমি বাস না
ছেড়েছি ছেড়েছি নাথ তব প্রেম-কামনা --
এক ভিক্ষা মাগি হায় -- নিরাশ কোরো না তায়
শেষ ভিক্ষা শেষ আশা -- অন্তিম বাসনা --
এ জন্মের তরে সখা -- আর তো হবে না দেখা
তুমি সুখে থেকো নাথ কী কহিব আর
একবার বোসো হেথা ভালো করে কও কথা
যে নামে ডাকিতে সখা ডাকো একবার --
ওকি সখা কেঁদোনাকো -- দুখিনীর কথা রাখো
আমি গেলে বলো নাথ -- কী ক্ষতি তাহার?
যাই সখা যাই তবে -- ছাড়ি তোমাদের সবে --
          সময় আসিছে কাছে বিদায় বিদায় ট্ট
আরো দেখুন