৫২ (tumi amar apon)

                       তুমি আমার আপন, তুমি আছ আমার কাছে,

                           এই কথাটি বলতে দাও হে বলতে দাও।

                       তোমার মাঝে মোর জীবনের সব আনন্দ আছে,

                         এই কথাটি বলতে দাও হে বলতে দাও।

 

       আমায়             দাও সুধাময় সুর,

       আমার             বাণী করো সুমধুর;

       আমার             প্রিয়তম তুমি, এই কথাটি

                                  বলতে দাও হে বলতে দাও।

 

                           এই          নিখিল আকাশ ধরা

                           এই যে      তোমায় দিয়ে ভরা,

                           আমার      হৃদয় হতে এই কথাটি

                                         বলতে দাও হে বলতে দাও।

 

          দুখি      জেনেই কাছে আস,

          ছোটো   বলেই ভালোবাস,

          আমার   ছোটো মুখে এই কথাটি

                    বলতে দাও হে বলতে দাও।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

মৌলানা জিয়াউদ্দীন
Verses
কখনো কখনো কোনো অবসরে
          নিকটে দাঁড়াতে এসে;
"এই যে' বলেই তাকাতেম মুখে,
          "বোসো' বলিতাম হেসে।
দু-চারটে হত সামান্য কথা,
          ঘরের প্রশ্ন কিছু,
গভীর হৃদয় নীরবে রহিত
          হাসিতামাশার পিছু।
কত সে গভীর প্রেম সুনিবিড়,
          অকথিত কত বাণী,
চিরকাল-তরে গিয়েছ যখন
          আজিকে সে কথা জানি।
প্রতি দিবসের তুচ্ছ খেয়ালে
          সামান্য যাওয়া-আসা,
সেটুকু হারালে কতখানি যায়
          খুঁজে নাহি পাই ভাষা।
তব জীবনের বহু সাধনার
          যে পণ্যভারে ভরি
মধ্যদিনের বাতাসে ভাসালে
          তোমার নবীন তরী,
যেমনি তা হোক মনে জানি তার          
          এতটা মূল্য নাই
যার বিনিময়ে পাবে তব স্মৃতি
          আপন নিত্য ঠাঁই--
সেই কথা স্মরি বার বার আজ
          লাগে ধিক্‌কার প্রাণে--
অজানা জনের পরম মূল্য
          নাই কি গো কোনোখানে।
এ অবহেলার বেদনা বোঝাতে
          কোথা হতে খুঁজে আনি
ছুরির আঘাত যেমন সহজ
          তেমন সহজ বাণী।
কারো কবিত্ব, কারো বীরত্ব,
          কারো অর্থের খ্যাতি--
কেহ-বা প্রজার সুহৃদ্‌ সহায়,
          কেহ-বা রাজার জ্ঞাতি--
তুমি আপনার বন্ধুজনেরে
          মাধুর্যে দিতে সাড়া,
ফুরাতে ফুরাতে রবে তবু তাহা
          সকল খ্যাতির বাড়া।
ভরা আষাঢ়ের যে মালতীগুলি
          আনন্দমহিমায়
আপনার দান নিঃশেষ করি
          ধুলায় মিলায়ে যায়--
আকাশে আকাশে বাতাসে তাহারা
          আমাদের চারি পাশে
তোমার বিরহ ছড়ায়ে চলেছে
          সৌরভনিশ্বাসে।
আরো দেখুন
বঙ্গলক্ষ্মী
Verses
তোমার মাঠের মাঝে, তব নদীতীরে,
তব আম্রবনে-ঘেরা সহস্র কুটিরে,
দোহনমুখর গোষ্ঠে, ছায়াবটমূলে,
গঙ্গার পাষাণঘাটে দ্বাদশ দেউলে,
হে নিত্যকল্যাণী লক্ষ্মী, হে বঙ্গজননী,
আপন অজস্র কাজ করিছ আপনি
অহর্নিশি হাস্যমুখে।
               এ বিশ্বসমাজে
তোমার পুত্রের হাত নাহি কোনো কাজে
নাহি জান সে বারতা, তুমি শুধু, মা গো,
নিদ্রিত শিয়রে তার নিশিদিন জাগ
মলয় বীজন করি। রয়েছ, মা, ভুলি
তোমার শ্রীঅঙ্গ হতে একে একে খুলি
সৌভাগ্যভূষণ তব, হাতের কঙ্কণ,
তোমার ললাটশোভা সীমন্তরতন,
তোমার গৌরব, তারা বাঁধা রাখিয়াছে
বহুদূর বিদেশের বণিকের কাছে।
নিত্যকর্মে রত শুধু, অয়ি মাতৃভূমি,
প্রত্যুষে পূজার ফুল ফুটাইছ তুমি,
মধ্যাহ্নে পল্লবাঞ্চল প্রসারিয়া ধরি
রৌদ্র নিবারিছ, যবে আসে বিভাবরী
চারি দিক হতে তব যত নদনদী
ঘুম পাড়াবার গান গাহে নিরবধি
ঘেরি ক্লান্ত গ্রামগুলি শত বাহুপাশে।
শরৎ-মধ্যাহ্নে আজি স্বল্প অবকাশে
ক্ষণেক বিরাম দিয়া পুণ্য গৃহকাজে
হিল্লোলিত হৈমন্তিক মঞ্জরীর মাঝে
কপোতকূজনাকুল নিস্তব্ধ প্রহরে
বসিয়া রয়েছ মাতঃ, প্রফুল্ল অধরে
বাক্যহীন প্রসন্নতা; স্নিগ্ধ আঁখিদ্বয়
ধৈর্যশান্ত দৃষ্টিপাতে চতুর্দিক্‌ময়
ক্ষমাপূর্ণ আশীর্বাদ করে বিকিরণ।
হেরি সেই স্নেহপ্লুত আত্মবিস্মরণ,
মধুর মঙ্গলচ্ছবি মৌন অবিচল,
নতশির কবিচক্ষে ভরি আসে জল।
আরো দেখুন
শনির দশা
Verses
       আধবুড়ো ঐ মানুষটি মোর   নয় চেনা--
       একলা বসে ভাবছে কিংবা    ভাবছে না,
              মুখ দেখে ওর সেই কথাটাই ভাবছি,
              মনে মনে আমি যে ওর মনের মধ্যে নাবছি।
       বুঝিবা ওর মেঝোমেয়ে পাতা ছয়েক ব'কে
       মাথার দিব্যি দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল ওকে।
              উমারানীর বিষম স্নেহের শাসন,
         জানিয়েছিল, চতুর্থীতে খোকার অন্নপ্রাসন--
              জিদ ধরেছে, হোক-না যেমন ক'রেই
         আসতে হবে শুক্রবার কি শনিবারের ভোরেই।
                   আবেদনের পত্র একটি লিখে
              পাঠিয়েছিল বুড়ো তাদের কর্তাবাবুটিকে।
                   বাবু বললে, "হয় কখনো তা কি,
         মাসকাবারের ঝুড়িঝুড়ি হিসাব লেখা বাকি,
              সাহেব শুনলে আগুন হবে চটে,
                   ছুটি নেবার সময় এ নয় মোটে।'
                মেয়ের দুঃখ ভেবে
         বুড়ো বারেক ভেবেছিল কাজে জবাব দেবে।
         সুবুদ্ধি তার কইল কানে রাগ গেল যেই থামি,
         আসন্ন পেন্‌সনের আশা ছাড়াটা পাগলামি।
         নিজেকে সে বললে, "ওরে, এবার না হয় কিনিস
         ছোটোছেলের মনের মতো একটা-কোনো জিনিস।'
         যেটার কথাই ভেবে দেখে দামের কথায় শেষে
                     বাধায় ঠেকে এসে।
       কেইবা জানবে দামটা যে তার কত,
    বাইরে থেকে ঠিক দেখাবে খাঁটি রুপোর মতো।
    এমনি করে সংশয়ে তার কেবলই মন ঠেলে,
    হাঁ-না নিয়ে ভাব্‌নাস্রোতে জোয়ার-ভাঁটা খেলে।
       রোজ সে দেখে টাইম্‌টেবিলখানা,
    ক'দিন থেকে ইস্‌টিশনে প্রত্যহ দেয় হানা।
       সামনে দিয়ে যায় আসে রোজ মেল,
            গাড়িটা তার প্রত্যহ হয় ফেল।
         চিন্তিত ওর মুখের ভাবটা দেখে
    এমনি একটা ছবি মনে নিয়েছিলেম এঁকে।
                   কৌতূহলে শেষে
    একটুখানি উসখুসিয়ে একটুখানি কেশে,
            শুধাই তারে ব'সে তাহার কাছে,
"কী ভাবতেছেন, বাড়িতে কি মন্দ খবর আছে।"
       বললে বুড়ে, "কিচ্ছুই নয়, মশায়,
            আসল কথা, আছি শনির দশায়।
    তাই ভাবছি কী করা যায় এবার
ঘৌড়দৌড়ে দশটি টাকা বাজি ফেলে দেবার।
    আপনি বলুন, কিনব টিকিট আজ কি।"
         আমি বললেম, "কাজ কী।"
       রাগে বুড়োর গরম হল মাথা;
    বললে, "থামো, ঢের দেখেছি পরামর্শদাতা!
কেনার সময় রইবে না আর আজিকার এই দিন বই!
কিনব আমি, কিনব আমি, যে ক'রে হোক কিনবই।"
আরো দেখুন