১৪৬ (tomar doya jodi)

       তোমার দয়া যদি

              চাহিতে নাও জানি

       তবুও দয়া করে

              চরণে নিয়ো টানি।

                           আমি যা গড়ে তুলে

                           আরামে থাকি ভুলে

                               সুখের উপাসনা

                                  করি গো ফলে ফুলে--

                           সে ধুলা-খেলাঘরে

                           রেখো না ঘৃণাভরে,

                                  জাগায়ো দয়া করে

                                      বহ্নি-শেল হানি।

 

       সত্য মুদে আছে

              দ্বিধার মাঝখানে,

       তাহারে তুমি ছাড়া

              ফুটাতে কে বা জানে।

                           মৃত্যু ভেদ করি'

                           অমৃত পড়ে ঝরি',

                               অতল দীনতার

                                  শূন্য উঠে ভরি'

                           পতন-ব্যথা মাঝে

                           চেতনা আসি বাজে,

                                  বিরোধ কোলাহলে

                                      গভীর তব বাণী।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

মাটির ডাক
Verses
                                   ১
          শালবনের ওই আঁচল ব্যেপে
          যেদিন হাওয়া উঠত খেপে
            ফাগুন-বেলার বিপুল ব্যাকুলতায়,
          যেদিন দিকে দিগন্তরে
          লাগত পুলক কী মন্তরে
            কচি পাতার প্রথম কলকথায়,
          সেদিন মনে হত কেন
          ওই ভাষারই বাণী যেন
            লুকিয়ে আছে হৃদয়কুঞ্জছায়ে;
          তাই অমনি নবীন রাগে
          কিশলয়ের সাড়া লাগে
            শিউরে-ওঠা আমার সারা গায়ে।
          আবার যেদিন আশ্বিনেতে
          নদীর ধারে ফসল-খেতে
            সূর্য-ওঠার রাঙা-রঙিন বেলায়
          নীল আকাশের কূলে কূলে
          সবুজ সাগর উঠত দুলে
            কচি ধানের খামখেয়ালি খেলায়--
          সেদিন আমার হত মনে
          ওই সবুজের নিমন্ত্রণে
            যেন আমার প্রাণের আছে দাবি;
          তাই তো হিয়া ছুটে পালায়
          যেতে তারি যজ্ঞশালায়,
            কোন্‌ ভুলে হায় হারিয়েছিল চাবি।
                                ২
          কার কথা এই আকাশ বেয়ে
          ফেলে আমার হৃদয় ছেয়ে,
            বলে দিনে, বলে গভীর রাতে--
          "যে-জননীর কোলের 'পরে
          জন্মেছিলি মর্ত-ঘরে,
            প্রাণ ভরা তোর যাহার বেদনাতে,
          তাহার বক্ষ হতে তোরে
          কে এনেছে হরণ করে,
            ঘিরে তোরে রাখে নানান পাকে।
          বাঁধন-ছেঁড়া তোর সে নাড়ী
          সইবে না এই ছাড়াছাড়ি,
            ফিরে ফিরে চাইবে আপন মাকে।'
          শুনে আমি ভাবি মনে
          তাই ব্যথা এই অকারণে,
            প্রাণের মাঝে তাই তো ঠেকে ফাঁকা,
          তাই বাজে কার করুণ সুরে--
          "গেছিস দূরে অনেক দূরে',
            কী যেন তাই চোখের 'পরে ঢাকা।
          তাই এতদিন সকল খানে
          কিসের অভাব জাগে প্রাণে
            ভালো করে পাই নি তাহা বুঝে;
          ফিরেছি তাই নানামতে
          নানান হাটে নানান পথে
            হারানো কোল কেবল খুঁজে খুঁজে।
                                ৩
          আজকে খবর পেলেম খাঁটি -
          মা আমার এই শ্যামল মাটি,
            অন্নে ভরা শোভার নিকেতন;
          অভ্রভেদী মন্দিরে তার
          বেদী আছে প্রাণদেবতার,
            ফুল দিয়ে তার নিত্য আরাধন।
          এইখানে তার অঙ্ক-মাঝে
          প্রভাতরবির শঙ্খ বাজে,
            আলোর ধারায় গানের ধারা মেশে;
          এইখানে সে পূজার কালে
          সন্ধ্যারতির প্রদীপ জ্বালে
            শান্ত মনে ক্লান্ত দিনের শেষে।
          হেথা হতে গেলেম দূরে
          কোথা যে ইঁটকাঠের পুরে
            বেড়া-ঘেরা বিষম নির্বাসনে;
          তৃপ্তি যে নাই, কেবল নেশা,
          ঠেলাঠেলি, নাই তো মেশা,
            আবর্জনা জমে উপার্জনে।
          যন্ত্র-জাঁতায় পরান কাঁদায়,
          ফিরি ধনের গোলকধাঁধায়,
            শূন্যতারে সাজাই নানা সাজে;
          পথ বেড়ে যায় ঘুরে ঘুরে,
          লক্ষ্য কোথায় পালায় দূরে,
            কাজ ফলে না অবকাশের মাঝে।
                ৪
          যাই ফিরে যাই মাটির বুকে,
          যাই চলে যাই মুক্তি-সুখে,
            ইঁটের শিকল দিই ফেলে দিই টুটে;
          আজ ধরণী আপন হাতে
          অন্ন দিলেন আমার পাতে,
            ফল দিয়েছেন সাজিয়ে পত্রপুটে।
          আজকে মাঠের ঘাসে ঘাসে
          নিশ্বাসে মোর খবর আসে
            কোথায় আছে বিশ্বজনের প্রাণ;
          ছয় ঋতু ধায় আকাশ-তলায়,
          তার সাথে আর আমার চলায়
            আজ হতে না রইল ব্যবধান।
          যে দূতগুলি গগনপারের,
          আমার ঘরের রুদ্ধ দ্বারের
            বাইরে দিয়েই ফিরে ফিরে যায়,
          আজ হয়েছে খোলাখুলি
          তাদের সাথে কোলাকুলি
            মাঠের ধারে পথতরুর ছায়।
          কী ভুল ভুলেছিলেম, আহা,
          সব চেয়ে যা নিকট তাহা
            সুদূর হয়ে ছিল এতদিন;
          কাছেকে আজ পেলেম কাছে--
          চার দিকে এই যে ঘর আছে
            তার দিকে আজ ফিরল উদাসীন।
আরো দেখুন
আষাঢ়
Verses
নব বরষার দিন
বিশ্বলক্ষ্মী তুমি আজ নবীন গৌরবে সমাসীন
রিক্ত তপ্ত দিবসের নীরব প্রহরে
ধরণীর দৈন্য 'পরে
ছিলে তপস্যায় রত
রুদ্রের চরণতলে নত।
উপবাসশীর্ণ তনু, পিঙ্গল জটিল কেশপাশ,
উত্তপ্ত নিঃশ্বাস।
দুঃখেরে করিলে দগ্ধ দুঃখেরি দহনে
অহনে অহনে;
শুষ্কেরে জ্বালায়ে তীব্র অগ্নিশিখারূপে
ভস্ম করি দিলে তারে তোমার পূজার পুণ্যধূপে।
কালোরে করিলে আলো,
নিস্তেজেরে করিলে তেজালো;
নির্মম ত্যাগের হোমানলে
সম্ভোগের আবর্জনা লুপ্ত হয়ে গেল পলে পলে।
অবশেষে দেখা দিল রুদ্রের উদার প্রসন্নতা
বিপুল দাক্ষিণ্যে অবনতা
উৎকণ্ঠিতা ধরণীর পানে।
নির্মল নবীন প্রাণে
অরণ্যানী
লভিল আপন বাণী।
দেবতার বর
মুহূর্তে আকাশ ঘিরি রচিল  সজল মেঘস্তর।
মরুবক্ষে তৃণরাজি
পেতে দিল আজি
শ্যাম আস্তরণ,
নেমে এল তার'পরে সুন্দরের করুণ চরণ
সফল তপস্যা তব
জীর্ণতারে সমর্পিল রূপ অভিনব;মলিন দৈন্যের লজ্জা ঘুচাইয়া
নব ধারাজলে তারে স্নাত করি দিলে মুছাইয়া
কলঙ্কের গ্লানি;
দীপ্ততেজে নৈরাশ্যেরে হানি
উদ্বেল উৎসাহে
রিক্ত যত নদীপথ ভরি দিলে অমৃতপ্রবাহে।
জয় তব জয়
গুরুগুরু মেঘগর্জে ভরিয়া উঠিল বিশ্বময়।
আরো দেখুন
অনন্ত মরণ
Verses
কোটি কোটি  ছোটো ছোটো মরণেরে লয়ে
        বসুন্ধরা ছুটিছে আকাশে,
        হাসে খেলে মৃত্যু চারিপাশে।
        এ ধরণী মরণের পথ,
        এ জগৎ মৃত্যুর জগৎ।
যতটুকু বর্তমান, তারেই কি বল' প্রাণ?
         সে তো শুধু, পলক, নিমেষ।
অতীতের মৃত ভার পৃষ্ঠেতে রয়েছে তার,
        না জানি কোথায় তার শেষ।
যত বর্ষ বেঁচে আছি তত বর্ষ মরে গেছি,
        মরিতেছি প্রতি পলে পলে,
জীবন্ত মরণ মোরা মরণের ঘরে থাকি
        জানি নে মরণ কারে বলে।
একমুঠা মরণেরে জীবন বলে কি তবে,
        মরণের সমষ্টি কেবল?
একটি নিমেষ তুচ্ছ শত মরণের গুচ্ছ,
       নাম নিয়ে এত কোলাহল।
মরণ বাড়িবে যত জীবন বাড়িবে তত,
      পলে পলে উঠিব আকাশে
      নক্ষত্রের কিরণনিবাসে।
মরণ বাড়িবে যত   কোথায় কোথায় যাব,
       বাড়িবে প্রাণের অধিকার--
বিশাল প্রাণের মাঝে  কত গ্রহ কত তারা
       হেথা হোথা করিবে বিহার ।
উঠিবে জীবন মোর কত-না আকাশ ছেয়ে,
        ঢাকিয়া ফেলিবে রবি শশী--
যুগ-যুগান্তর যাবে, নব নব রাজ্য পাবে
        নব নব তারায় প্রবেশি।
কবে রে আসিবে সেই দিন
উঠিব সে আকাশের পথে,
আমার মরণ-ডোর দিয়ে
বেঁধে দেব জগতে জগতে।
আমাদের মরণের জালে
জগৎ ফেলিব আবরিয়া,
এ অনন্ত  আকাশসাগরে
দশ দিক রহিব ঘেরিয়া।
জয় হোক জয় হোক মরণের জয় হোক--
          আমাদের অনন্ত মরণ,
          মরণের হবে না মরণ।
এ ধরায় মোরা সবে শতাব্দীর ক্ষুদ্র শিশু
           লইলাম তোমার শরণ,
এসো তুমি এসো কাছে, স্নেহ-কোলে লও তুমি,
          পিয়াও তোমার মাতৃস্তন,
          আমাদের করো হে পালন।
আনন্দে পুরেছে প্রাণ, হেরিতেছি এ জগতে
          মরণের অনন্ত উৎসব।
কার নিমন্ত্রণে মোরা মহাযজ্ঞে এসেছি রে,
          উঠেছে বিপুল কলরব।
যে ডাকিছে ভালোবেসে, তারে চিনিস নে শিশু?
          তার কাছে কেন তোর ডর?
জীবন যাহারে বলে মরণ তাহারি নাম,
       মরণ তো নহে তোর পর।
       আয়, তারে অলিঙ্গন কর্‌--
       আয় তার হাতখানি ধর্‌।
আরো দেখুন