৪৯ (hethat tini kol petechhen)

হেথায় তিনি কোল পেতেছেন

       আমাদের এই ঘরে।

আসনটি তাঁর সাজিয়ে দে ভাই,

       মনের মতো করে।    

গান গেয়ে আনন্দমনে

       ঝাঁটিয়ে দে সব ধুলা।

যত্ন করে দূর করে দে

       আবর্জনাগুলা।

জল ছিটিয়ে ফুলগুলি রাখ

       সাজিখানি ভরে--

আসনটি তাঁর সাজিয়ে দে ভাই,

মনের মতো করে।

 

                                  দিনরজনী আছেন তিনি

                                         আমাদের এই ঘরে,

                                  সকালবেলায় তাঁরি হাসি

                                         আলোক ঢেলে পড়ে।

                                  যেমনি ভোরে জেগে উঠে

                                         নয়ন মেলে চাই,

                                  খুশি হয়ে আছেন চেয়ে

                                         দেখতে মোরা পাই।

                                  তাঁরি মুখের প্রসন্নতায়

                                         সমস্ত ঘর ভরে।

                                   সকালবেলায় তাঁর হাসি

                                          আলোক ঢেলে পড়ে।

 

একলা তিনি বসে থাকেন

       আমাদের এই ঘরে

আমরা যখন অন্য কোথাও

       চলি কাজের তরে,

দ্বারের কাছে তিনি মোদের

       এগিয়ে দিয়ে যান--

মনের সুখে ধাই রে পথে,

       আনন্দে গাই গান।

দিনের শেষে ফিরি যখন

       নানা কাজের পরে,

দেখি তিনি একলা বসে

       আমাদের এই ঘরে।

 

                                  তিনি জেগে বসে থাকেন

                                         আমাদের এই ঘরে

                                  আমরা যখন অচেতনে

                                         ঘুমাই শয্যা-'পরে।

                                  জগতে কেউ দেখতে না পায়

                                         লুকানো তাঁর বাতি,

                                  আঁচল দিয়ে আড়াল ক'রে

                                         জ্বালান সারা রাতি।

                                  ঘুমের মধ্যে স্বপন কতই

                                         আনাগোনা করে,

                                  অন্ধকারে হাসেন তিনি

                                         আমাদের এই ঘরে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

জরতী
Verses
হে জরতী,
           অন্তরে আমার
                 দেখেছি তোমার ছবি।
   অবসানরজনীতে দীপবর্তিকার
           স্থিরশিখা আলোকের আভা
               অধরে ললাটে -- শুভ্র কেশে।
   দিগন্তে প্রণামনত শান্ত-আলো প্রত্যুষের তারা
                 মুক্ত বাতায়ন থেকে
           পড়েছে নিমেষহীন নয়নে তোমার।
                 সন্ধ্যাবেলা
           মল্লিকার মালা ছিল গলে
               গন্ধ তার ক্ষীণ হয়ে
                 বাতাসকে করুণ করেছে --
      উৎসবশেষের যেন অবসন্ন অঙ্গুলির
                 বীণাগুঞ্জরণ।
              শিশিরমন্থর বায়ু,
           অশথের শাখা অকম্পিত।
      অদূরে নদীর শীর্ণ স্বচ্ছ ধারা কলশব্দহীন,
           বালুতটপ্রান্তে চলে ধীরে
                 শূন্যগৃহ-পানে
      ক্লান্তগতি বিরহিণী বধূর মতন।
      হে জরতী মহাশ্বেতা,
      দেখেছি তোমাকে
      জীবনের শারদ অম্বরে
      বৃষ্টিরিক্ত শুচিশুক্ল লঘু স্বচ্ছ মেঘে।
           নিয়ে শস্যে ভরা খেত দিকে দিকে,
                   নদী ভরা কূলে কূলে,
           পূর্ণতার স্তব্ধতায় বসুন্ধরা স্নিগ্ধ সুগম্ভীর।
      হে জরতী, দেখেছি তোমাকে
           সত্তার অন্তিম তটে,
                 যেখানে কালের কোলাহল
                প্রতিক্ষণে ডুবিছে অতলে।
                নিস্তরঙ্গ সেই সিন্ধুনীরে
                       তীর্থস্নান ক'রি
      রাত্রির নিকষকৃষ্ণ শিলাবেদিমূলে
                 এলোচুলে করিছ প্রণাম
                       পরিপূর্ণ সমাপ্তিরে।
      চঞ্চলের অন্তরালে অচঞ্চল যে শান্ত মহিমা
                 চিরন্তন,
              চরম প্রসাদ তার
           নামিল তোমার নম্র শিরে
        মানসসরোবরের অগাধ সলিলে
                 অস্তগত তপনের সর্বশেষ আলোর মতন।
আরো দেখুন
উর্বশী
Verses
নহ মাতা, নহ কন্যা, নহ বধূ, সুন্দরী রূপসী,
          হে নন্দনবাসিনী উর্বশী!
গোষ্ঠে যবে সন্ধ্যা নামে শ্রান্ত দেহে স্বর্ণাঞ্চল টানি
তুমি কোনো গৃহপ্রান্তে নাহি জ্বাল সন্ধ্যাদীপখানি,
দ্বিধায় জড়িত পদে কম্প্রবক্ষে নম্রনেত্রপাতে
স্মিতহাস্যে নাহি চল সলজ্জিত বাসরশয্যাতে
               স্তব্ধ অর্ধরাতে।
        উষার উদয়-সম অনবগুণ্ঠিতা
               তুমি অকুণ্ঠিতা।
বৃন্তহীন পুষ্প-সম আপনাতে আপনি বিকশি
          কবে তুমি ফুটিলে উর্বশী!
আদিম বসন্তপ্রাতে উঠেছিলে মন্থিত সাগরে,
ডান হাতে সুধাপাত্র বিষভাণ্ড লয়ে বাম করে,
তরঙ্গিত মহাসিন্ধু মন্ত্রশান্ত ভুজঙ্গের মতো
পড়েছিল পদপ্রান্তে উচ্ছ্বসিত ফণা লক্ষ শত
               করি অবনত।
      কুন্দশুভ্র নগ্নকান্তি সুরেন্দ্রবন্দিতা,
               তুমি অনিন্দিতা।
কোনোকালে ছিলে না কি মুকুলিকা বালিকা-বয়সী
          হে অনন্তযৌবনা উর্বশী!
আঁধার পাথারতলে কার ঘরে বসিয়া একেলা
মানিক মুকুতা লয়ে করেছিলে শৈশবের খেলা,
মণিদীপদীপ্ত কক্ষে সমুদ্রের কল্লোলসংগীতে
অকলঙ্ক হাস্যমুখে প্রবাল-পালঙ্কে ঘুমাইতে
             কার অঙ্কটিতে।
       যখনি জাগিলে বিশ্বে, যৌবনে গঠিতা,
               পূর্ণপ্রস্ফুটিতা।
যুগযুগান্তর হতে তুমি শুধু বিশ্বের প্রেয়সী
          হে অপূর্বশোভনা উর্বশী!
মুনিগণ ধ্যান ভাঙি দেয় পদে তপস্যার ফল,
তোমারি কটাক্ষঘাতে ত্রিভুবন যৌবনচঞ্চল,
তোমার মদির গন্ধ অন্ধবায়ু বহে চারি ভিতে,
মধুমত্তভৃঙ্গসম মুগ্ধ কবি ফিরে লুব্ধচিতে
               উদ্দাম সংগীতে।
         নূপুর গুঞ্জরি যাও আকুল-অঞ্চলা
               বিদ্যুৎ-চঞ্চলা।
সুরসভাতলে যবে নৃত্য কর পুলকে উল্লসি
          হে বিলোলহিল্লোল উর্বশী,
ছন্দে ছন্দে নাচি উঠে সিন্ধুমাঝে তরঙ্গের দল,
শস্যশীর্ষে শিহরিয়া কাঁপি উঠে ধরার অঞ্চল,
তব স্তনহার হতে নভস্তলে খসি পড়ে তারা--
অকস্মাৎ পুরুষের বক্ষোমাঝে চিত্ত আত্মহারা,
                নাচে রক্তধারা।
     দিগন্তে মেখলা তব টুটে আচম্বিতে
                অয়ি অসম্‌বৃতে।
স্বর্গের উদয়াচলে মূর্তিমতী তুমি হে উষসী,
          হে ভুবনমোহিনী উর্বশী!
জগতের অশ্রুধারে ধৌত তব তনুর তনিমা,
ত্রিলোকের হৃদিরক্তে আঁকা তব চরণশোণিমা।
মুক্তবেণী বিবসনে, বিকশিত বিশ্ব-বাসনার
অরবিন্দ-মাঝখানে পাদপদ্ম রেখেছ তোমার
               অতি লঘুভার--
      অখিল মানসস্বর্গে অনন্তরঙ্গিণী,
               হে স্বপ্নসঙ্গিনী।
ওই শুন দিশে দিশে তোমা লাগি কাঁদিছে ক্রন্দসী
          হে নিষ্ঠুরা বধিরা উর্বশী!
আদিযুগ পুরাতন এ জগতে ফিরিবে কি আর,
অতল অকূল হতে সিক্তকেশে উঠিবে আবার?
প্রথম সে তনুখানি দেখা দিবে প্রথম প্রভাতে
সর্বাঙ্গে কাঁদিবে তব নিখিলের নয়ন-আঘাতে
               বারিবিন্দুপাতে--
       অকস্মাৎ মহাম্বুধি অপূর্ব সংগীতে
               রবে তরঙ্গিতে।
ফিরিবে না, ফিরিবে না-- অস্ত গেছে সে গৌরবশশী,
               অস্তাচলবাসিনী উর্বশী!
তাই আজি ধরাতলে বসন্তের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে
কার চিরবিরহের দীর্ঘশ্বাস মিশে বহে আসে,
পূর্ণিমানিশীথে যবে দশ দিকে পরিপূর্ণ হাসি
দূরস্মৃতি কোথা হতে বাজায় ব্যাকুল-করা বাঁশি--
               ঝরে অশ্রুরাশি।
        তবু আশা জেগে থাকে প্রাণের ক্রন্দনে--
               অয়ি অবন্ধনে।
আরো দেখুন
108
Verses
GOD is ashamed when the prosperous boasts of His special favour.
আরো দেখুন