৩৪ (amar milon lagi tumi)

আমার মিলন লাগি তুমি

      আসছ কবে থেকে।

তোমার চন্দ্র সূর্য তোমায়

      রাখবে কোথায় ঢেকে।

             কত কালের সকাল-সাঁঝে

             তোমার চরণধনি বাজে,

             গোপনে দূত হৃদয়মাঝে

                    গেছে আমায় ডেকে।

 

ওগো পথিক, আজকে আমার

       সকল পরান ব্যেপে

থেকে থেকে হরষ যেন

       উঠছে কেঁপে কেঁপে।

                    যেন সময় এসেছে আজ,

                    ফুরালো মোর যা ছিল কাজ--

                    বাতাস আসে হে মহারাজ,

                           তোমার গন্ধ মেখে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

দূরবর্তিনী
Verses
সেদিন তুমি দূরের ছিলে মম,
     তাই ছিলে সেই আসন-'পরে যা অন্তরতম।
          অগোচরে সেদিন তোমার লীলা
               বইত অন্তঃশীলা।
                   থমকে যেতে যখন কাছে আসি
               তখন তোমার ত্রস্ত চোখে বাজত দূরের বাঁশি।
ছায়া তোমার মনের কুঞ্জে ফিরত চুপে চুপে,
     কায়া নিত অপরূপের রূপে।
          আশার অতীত বিরল অবকাশে
               আসতে তখন পাশে;
                   একটি ফুলের দানে
চিরফাগুন-দিনের হাওয়া আনতে আমার প্রাণে।
     অবশেষে যখন তোমার অভিসারের রথ
          পেল আপন সহজ সুগম পথ,
ইচ্ছা তোমার আর নাহি পায় নতুন-জানার বাধা,
     সাধনা নাই, শেষ হয়েছে সাধা।
তোমার পালে লাগে না আর হঠাৎ দখিন-হাওয়া;
     শিথিল হল সকল চাওয়া পাওয়া।
মাঘের রাতে আমের বোলের গন্ধ বহে যায়,
     নিশ্বাস তার মেলে না আর তোমার বেদনায়।
উদ্‌বেগ নাই, প্রত্যাশা নাই, ব্যথা নাইকো কিছু,
     পোষ-মানা সব দিন চলে যায় দিনের পিছু পিছু।
               অলস ভালোবাসা
          হারিয়েছে তার ভাষাপারের ভাষা।
     ঘরের কোণের ভরা পাত্র দুই বেলা তা পাই,
               ঝর্‌নাতলার উছল পাত্র নাই।
আরো দেখুন
মৌলানা জিয়াউদ্দীন
Verses
কখনো কখনো কোনো অবসরে
          নিকটে দাঁড়াতে এসে;
"এই যে' বলেই তাকাতেম মুখে,
          "বোসো' বলিতাম হেসে।
দু-চারটে হত সামান্য কথা,
          ঘরের প্রশ্ন কিছু,
গভীর হৃদয় নীরবে রহিত
          হাসিতামাশার পিছু।
কত সে গভীর প্রেম সুনিবিড়,
          অকথিত কত বাণী,
চিরকাল-তরে গিয়েছ যখন
          আজিকে সে কথা জানি।
প্রতি দিবসের তুচ্ছ খেয়ালে
          সামান্য যাওয়া-আসা,
সেটুকু হারালে কতখানি যায়
          খুঁজে নাহি পাই ভাষা।
তব জীবনের বহু সাধনার
          যে পণ্যভারে ভরি
মধ্যদিনের বাতাসে ভাসালে
          তোমার নবীন তরী,
যেমনি তা হোক মনে জানি তার          
          এতটা মূল্য নাই
যার বিনিময়ে পাবে তব স্মৃতি
          আপন নিত্য ঠাঁই--
সেই কথা স্মরি বার বার আজ
          লাগে ধিক্‌কার প্রাণে--
অজানা জনের পরম মূল্য
          নাই কি গো কোনোখানে।
এ অবহেলার বেদনা বোঝাতে
          কোথা হতে খুঁজে আনি
ছুরির আঘাত যেমন সহজ
          তেমন সহজ বাণী।
কারো কবিত্ব, কারো বীরত্ব,
          কারো অর্থের খ্যাতি--
কেহ-বা প্রজার সুহৃদ্‌ সহায়,
          কেহ-বা রাজার জ্ঞাতি--
তুমি আপনার বন্ধুজনেরে
          মাধুর্যে দিতে সাড়া,
ফুরাতে ফুরাতে রবে তবু তাহা
          সকল খ্যাতির বাড়া।
ভরা আষাঢ়ের যে মালতীগুলি
          আনন্দমহিমায়
আপনার দান নিঃশেষ করি
          ধুলায় মিলায়ে যায়--
আকাশে আকাশে বাতাসে তাহারা
          আমাদের চারি পাশে
তোমার বিরহ ছড়ায়ে চলেছে
          সৌরভনিশ্বাসে।
আরো দেখুন
অন্তর্ধান
Verses
তব অন্তর্ধানপটে হেরি তব রূপ চিরন্তন।
অন্তরে অলক্ষ্যলোকে তোমার পরম-আগমন।
                              লভিলাম চিরস্পর্শমণি;
তোমার শূন্যতা তুমি পরিপূর্ণ করেছ আপনি।
জীবন আঁধার হল, সেই ক্ষণে পাইনু সন্ধান
সন্ধ্যার দেউলদীপ অন্তরে রাখিয়া গেছ দান।
                               বিচ্ছেদেরি হোমবহ্নি হতে
পূজামূর্তি ধরে প্রেম, দেখা দেয় দুঃখের আলোতে।
আরো দেখুন