৫৫ (aji bonto jagroto dware)

         আজি  বসন্ত জাগ্রত দ্বারে।

            তব অবগুণ্ঠিত কুণ্ঠিত জীবনে

               কোরো না বিড়ম্বিত তারে।

                      আজি       খুলিয়ো হৃদয়দল খুলিয়ো,

                      আজি       ভুলিয়ো আপনপর ভুলিয়ো,

                      এই          সংগীত-মুখরিত গগনে

                                    তব গন্ধ তরঙ্গিয়া তুলিয়ো।  

                      এই          বাহির ভুবনে দিশা হারায়ে

                      দিয়ো       ছড়ায়ে মাধুরী ভারে ভারে।

 

       অতি        নিবিড় বেদনা বনমাঝে রে

       আজি       পল্লবে পল্লবে বাজে রে--

       দূরে         গগনে কাহার পথ চাহিয়া

       আজি       ব্যাকুল বসুন্ধরা সাজে রে।

                           মোর        পরানে দখিন বায়ু লাগিছে,

                           কারে       দ্বারে দ্বারে কর হানি মাগিছে,

                           এই          সৌরভবিহ্বল রজনী

                           কার         চরণে ধরণীতলে জাগিছে।

                           ওগো        সুন্দর, বল্লভ, কান্ত,

                           তব         গম্ভীর আহ্বান কারে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

নাসিক হইতে খুড়ার পত্র
Verses
কলকত্তামে চলা গয়ো রে সুরেনবাবু১ মেরা,
সুরেনবাবু, আসল বাবু, সকল বাবুকো সেরা।
খুড়া সাবকো কায়কো নহি পতিয়া ভেজো বাচ্ছা--
মহিনা-ভর্‌ কুছ খবর মিলে না ইয়ে তো নহি আচ্ছা!
টপাল্‌,২ টপাল্‌, কঁহা টপাল্‌রে, কপাল হমারা মন্দ,
সকাল বেলাতে নাহি মিলতা টপাল্‌কো নাম গন্ধ!
ঘরকো যাকে কায়কো বাবা, তুম্‌সে হম্‌সে ফর্‌খৎ।
দো-চার কলম লীখ্‌ দেওঙ্গে ইস্‌মে ক্যা হয় হর্‌কৎ!
প্রবাসকো এক সীমা পর হম্‌ বৈঠ্‌কে আছি একলা--
সুরিবাবাকো বাস্তে আঁখ্‌সে বহুৎ পানি নেক্‌লা।
সর্বদা মন কেমন কর্‌তা, কেঁদে উঠ্‌তা হির্দয়--
ভাত খাতা, ইস্কুল যাতা, সুরেনবাবু নির্দয়!
মন্‌কা দুঃখে হূহু কর্‌কে নিক্‌লে হিন্দুস্থানী--
অসম্পূর্ণ ঠেক্‌তা কানে বাঙ্গলাকো জবানী।
মেরা উপর জুলুম কর্‌তা তেরি বহিন বাই,৩
কী করেঙ্গা কোথায় যাঙ্গা ভেবে নাহি পাই!
বহুৎ জোরসে গাল টিপ্‌তা দোনো আঙ্গ্‌লি দেকে,
বিলাতী এক পৈনি বাজ্‌না বাজাতা থেকে থেকে,
কভী কভী নিকট আকে ঠোঁটমে চিম্‌টি কাটতা,
কাঁচিলে কর কোঁক্‌ড়া কোঁক্‌ড়া চুলগুলো সব ছাঁটতা,
জজসাহেব৪ কুছ বোল্‌তা নহি রক্ষা করবে কেটা,
কঁহা গয়োরে কঁহা গয়োরে জজসাহেবকি বেটা!
গাড়ি চড়্‌কে লাঠিন পড়কে তুম্‌ তো যাতা ইস্কিল্‌
ঠোঁটে নাকে চিম্‌টি খাকে হমারা বহুৎ মুস্কিল!
এদিকে আবার party খেল্‌নেকোবি যাতা,
জিম্‌খানামে হিম্‌ঝিম্‌ এবং থোড়া বিস্কুট খাতা।
তুম ছাড়া কোই সম্‌জে না তো হম্‌রা দুরাবস্থা,
বহির তেরি বহুৎ merry খিল্‌খিল্‌ কর্কে হাস্তা!
চিঠি লিখিও মাকে দিও বহুৎ বহুৎ সেলাম,
আজকের মতো তবে বাবা বিদায় হোকে গেলাম।
১ সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
২ চিঠির ডাক।
৩ ইন্দিরা দেবী।
৪ অগ্রজ সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুরেন্দ্রনাথের পিতা।
আরো দেখুন
সে আমার জননী রে
Verses
ভৈরবী । রূপক
কে এসে যায় ফিরে ফিরে
আকুল নয়নের নীরে?
     কে বৃথা আশাভরে
     চাহিছে মুখ-'পরে?
সে যে আমার জননী রে!
কাহার সুধাময়ী বাণী
মিলায় অনাদর মানি?
     কাহার ভাষা হায়
     ভুলিতে সবে চায়?
সে যে আমার জননী রে!
ক্ষণেক স্নেহকোল ছাড়ি
চিনিতে আর নাহি পারি।
     আপন সন্তান
     করিছে অপমান--
সে যে আমার জননী রে!
পুণ্য কুটিরে বিষণ্ণ
কে ব'সে সাজাইয়া অন্ন?
     সে স্নেহ-উপহার
     রুচে না মুখে আর!
সে যে আমার জননী রে!
আরো দেখুন
বিলম্বিত
Verses
    অনেক হল দেরি,
আজো তবু দীর্ঘ পথের
    অন্ত নাহি হেরি।
         তখন ছিল দখিন হাওয়া
              আধ-ঘুমো আধ-জাগা,
         তখন ছিল সর্ষে-খেতে
              ফুলের আগুন লাগা,
         তখন আমি মালা গেঁথে
              পদ্মপাতায় ঢেকে
         পথে বাহির হয়েছিলেম
              রুদ্ধ কুটির থেকে।
                         অনেক হল দেরি,
                     আজো তবু দীর্ঘ পথের
                         অন্ত নাহি হেরি।
    বসন্তের সে মালা
আজ কি তেমন গন্ধ দেবে
    নবীন-সুধা-ঢালা?
         আজকে বহে পুবে বাতাস,
              মেঘে আকাশ জুড়ে--
         ধানের খেতে ঢেউ উঠেছে
              নব-নবাঙ্কুরে।
         হাওয়ায় হাওয়ায় নাইকো রে হায়
              হালকা সে হিল্লোল,
         নাই বাগানে হাস্যে গানে
              পাগল গণ্ডগোল।
                             অনেক হল দেরি,
                      আজো তবু দীর্ঘ পথের
                             অন্ত নাহি হেরি।
     হল কালের ভুল,
পুবে হাওয়ায় ধরে দিলেম
     দখিন হাওয়ার ফুল।  
              এখন এল অন্য সুরে
                  অন্য গানের পালা,
             এখন গাঁথো অন্য ফুলে
                 অন্য ছাঁদের মালা।
                   বাজছে মেঘের গুরু গুরু,
                বাদল ঝরো ঝরো--
            সজল বায়ে কদম্ববন
                কাঁপছে থরোথরো।
                                  অনেক হল দেরি,
                          আজো তবু দীর্ঘ পথের
                                   অন্ত নাহি হেরি।
আরো দেখুন