বিলম্বিত (bilombito)

    অনেক হল দেরি,

আজো তবু দীর্ঘ পথের

    অন্ত নাহি হেরি।

 

         তখন ছিল দখিন হাওয়া

              আধ-ঘুমো আধ-জাগা,

         তখন ছিল সর্ষে-খেতে

              ফুলের আগুন লাগা,

         তখন আমি মালা গেঁথে

              পদ্মপাতায় ঢেকে

         পথে বাহির হয়েছিলেম

              রুদ্ধ কুটির থেকে।

 

                         অনেক হল দেরি,

                     আজো তবু দীর্ঘ পথের

                         অন্ত নাহি হেরি।

 

    বসন্তের সে মালা

আজ কি তেমন গন্ধ দেবে

    নবীন-সুধা-ঢালা?

 

         আজকে বহে পুবে বাতাস,

              মেঘে আকাশ জুড়ে--

         ধানের খেতে ঢেউ উঠেছে

              নব-নবাঙ্কুরে।

         হাওয়ায় হাওয়ায় নাইকো রে হায়

              হালকা সে হিল্লোল,

         নাই বাগানে হাস্যে গানে

              পাগল গণ্ডগোল।

 

                             অনেক হল দেরি,

                      আজো তবু দীর্ঘ পথের

                             অন্ত নাহি হেরি।

 

     হল কালের ভুল,

পুবে হাওয়ায় ধরে দিলেম

     দখিন হাওয়ার ফুল।  

 

              এখন এল অন্য সুরে

                  অন্য গানের পালা,

             এখন গাঁথো অন্য ফুলে

                 অন্য ছাঁদের মালা।

                   বাজছে মেঘের গুরু গুরু,

                বাদল ঝরো ঝরো--

            সজল বায়ে কদম্ববন

                কাঁপছে থরোথরো।

 

                                  অনেক হল দেরি,

                          আজো তবু দীর্ঘ পথের

                                   অন্ত নাহি হেরি।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

থাকে সে কাহালগাঁয়
Verses
থাকে সে কাহালগাঁয়;
     কলুটোলা আফিসে
রোজ আসে দশটায়
     এক্কায় চাপি সে।
  ঠিক যেই মোড়ে এসে
  লাগাম গিয়েছে ফেঁসে,
দেরি হয়ে গেল ব'লে
     ভয়ে মরে কাঁপি সে--
ঘোড়াটার লেজ ধ'রে
     করে দাপাদাপি সে।
আরো দেখুন
32
Verses
          আজ এই দিনের শেষে
সন্ধ্যা যে ওই মানিকখানি পরেছিল চিকন কালো কেশে
          গেঁথে নিলেম তারে
এই তো আমার বিনিসুতার গোপন গলার হারে।
     চক্রবাকের নিদ্রানীরব বিজন পদ্মাতীরে
     এই সে সন্ধ্যা ছুঁইয়ে গেল আমার নতশিরে
              নির্মাল্য তোমার
              আকাশ হয়ে পার;
          ওই যে মরি মরি
তরঙ্গহীন স্রোতের 'পরে ভাসিয়ে দিল তারার ছায়াতরী;
          ওই যে সে তার সোনার চেলি
              দিল মেলি
          রাতের আঙিনায়
          ঘুমে অলস কায়;
         ওই যে শেষে সপ্তঋষির ছায়াপথে
              কালো ঘোড়ার রথে
     উড়িয়ে দিয়ে আগুন-ধূলি নিল সে বিদায়;
একটি কেবল করুণ পরশ রেখে গেল একটি কবির ভালে;
তোমার ওই অনন্ত মাঝে এমন সন্ধ্যা হয় নি কোনোকালে,
              আর হবে না কভু।
              এমনি করেই প্রভু
          এক নিমেষের পত্রপুটে ভরি
চিরকালের ধনটি তোমার ক্ষণকালে লও যে নূতন করি।
আরো দেখুন
শরতের শুকতারা
Verses
একাদশী রজনী
                   পোহায় ধীরে ধীরে--
রাঙা মেঘ দাঁড়ায়
                   উষারে ঘিরে ঘিরে।
ক্ষীণ চাঁদ নভের
                   আড়ালে যেতে চায়,
মাঝখানে দাঁড়ায়ে
                   কিনারা নাহি পায়।
বড়ো ম্লান হয়েছে
                   চাঁদের মুখখানি,
আপনাতে আপনি
                   মিশাবে অনুমানি।
হেরো দেখো কে ওই
                   এসেছে তার কাছে,
শুকতারা চাঁদের
                   মুখেতে চেয়ে আছে।
মরি মরি কে তুমি
                   একটুখানি প্রাণ,
কী না জানি এনেছ
                   করিতে ওরে দান।
চেয়ে দেখো আকাশে
                   আর তো কেহ নাই,
তারা যত গিয়েছে
                   যে যার নিজ ঠাঁই।
সাথীহারা চন্দ্রমা
                   হেরিছে চারি ধার,
শূন্য আহা নিশির
                   বাসর-ঘর তার!
শরতের প্রভাতে
                   বিমল মুখ নিয়ে
তুমি শুধু রয়েছে
                   শিয়রে দাঁড়াইয়ে।
ও হয়তো দেখিতে
                   পেলে না মুখ তোর!
ও হয়তো তারার
                   খেলার গান গায়,
ও হয়তো বিরাগে
                   উদাসী হতে চায়!
ও কেবল নিশির
                   হাসির অবশেষ!
ও কেবল অতীত
                   সুখের স্মৃতিলেশ!
দ্রুতপদে তাহারা
                   কোথায় চলে গেছে--
সাথে যেতে পারে নি
                   পিছনে পড় আছে!
কত দিন উঠেছ
                   নিশির শেষাশেষি,
দেখিয়াছ চাঁদেতে
                   তারাতে মেশামেশি!
দুই দণ্ড চাহিয়া
                   আবার চলে যেতে,
মুখখানি লুকাতে
                   উষার আঁচলেতে।
পুরবের একান্তে
                   একটু দিয়ে দেখা,
কী ভাবিয়া তখনি
                   ফিরিতে একা একা।
আজ তুমি দেখেছ
                   চাঁদের কেহ নাই,
স্নেহময়, আপনি
                   এসেছ তুমি তাই!
দেহখানি মিলায়
                   মিলায় বুঝি তার!
হাসিটুকু রহে না
                   রহে না বুঝি আর!
দুই দণ্ড পরে তো
                   রবে না কিছু হায়!
কোথা তুমি, কোথায়
                   চাঁদের ক্ষীণকায়!
কোলাহল তুলিয়া
                   গরবে আসে দিন,
দুটি ছোটো প্রাণের
                   লিখন হবে লীন।
সুখশ্রমে মলিন
                   চাঁদের একসনে
নবপ্রেম মিলাবে
                   কাহার রবে মনে!
আরো দেখুন