76 (day after day o lord)

DAY AFTER DAY, O lord of my life, shall I stand before thee face to face? With folded hands, O lord of all worlds, shall I stand before thee face to face?

Under thy great sky in solitude and silence, with humble heart shall I stand before thee face to face?

In this laborious world of thine, tumultuous with toil and with struggle, among hurrying crowds shall I stand before thee face to face?

And when my work shall be done in this world, O King of kings, alone and speechless shall I stand before thee face to face?

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

10
Verses
বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি।
দেশে দেশে কত-না নগর রাজধানী--
মানুষের কত কীর্তি, কত নদী গিরি সিন্ধু মরু,
কত-না অজানা জীব, কত-না অপরিচিত তরু
রয়ে গেল অগোচরে। বিশাল বিশ্বের আয়োজন;
মন মোর জুড়ে থাকে অতি ক্ষুদ্র তারি এক কোণ।
সেই ক্ষোভে পড়ি গ্রন্থ ভ্রমণবৃত্তান্ত আছে যাহে
অক্ষয় উৎসাহে--
যেথা পাই চিত্রময়ী বর্ণনার বাণী
কুড়াইয়া আনি।
জ্ঞানের দীনতা এই আপনার মনে
পূরণ করিয়া লই যত পারি ভিক্ষালব্ধ ধনে।
আমি পৃথিবীর কবি, যেথা তার যত উঠে ধ্বনি
আমার বাঁশির সুরে সাড়া তার জাগিবে তখনি,
এই স্বরসাধনায় পৌঁছিল না বহুতর ডাক--
রয়ে গেছে ফাঁক।
কল্পনায় অনুমানে ধরিত্রীর মহা-একতান
কত-না নিস্তব্ধ ক্ষণে পূর্ণ করিয়াছে মোর প্রাণ।
দু্‌র্গম তুষারগিরি অসীম নিঃশব্দ নীলিমায়
অশ্রুত যে গান গায়
আমার অন্তরে বারবার
পাঠায়েছে নিমন্ত্রণ তার।
দক্ষিণমেরুর ঊর্ধ্বে যে অজ্ঞাত তারা
মহাজনশূন্যতায় রাত্রি তার করিতেছে সারা,
সে আমার অর্ধরাত্রে অনিমেষ চোখে
অনিদ্রা করেছে স্পর্শ অপূর্ব আলোকে।
সুদূরের মহাপ্লাবী প্রচন্ড নির্ঝর
মনের গহনে মোর পঠায়েছে স্বর।
প্রকৃতির ঐকতানস্রোতে
নানা কবি ঢালে গান নানা দিক হতে;
তাদের সবার সাথে আছে মোর এইমাত্র যোগ--
সঙ্গ পাই সবাকার, লাভ করি আনন্দের ভোগ,
গীতভারতীর আমি পাই তো প্রসাদ
নিখিলের সংগীতের স্বাদ।
সব চেয়ে দুর্গম-যে মানুষ আপন অন্তরালে,
তার কোনো পরিণাপ নাই বাহিরের দেশে কালে।
সে অন্তরময়
অন্তর মিশালে তবে তার অন্তরের পরিচয়।
পাই নে সর্বত্র তার প্রবেশের দ্বার,
বাধা হয়ে আছে মোর বেড়াগুলি জীবনযাত্রার।
চাষি খেতে চালাইছে হাল,
তাঁতি বসে তাঁত বোনে, জেলে ফেলে জাল--
বহুদূরপ্রসারিত এদের বিচিত্র কর্মভার
তারি 'পরে ভর দিয়ে চলিতেছে সমস্ত সংসার।
অতি ক্ষুদ্র অংশে তার সম্মানের চিরনির্বাসনে
সমাজের উচ্চ মঞ্চে বসেছি সংকীর্ণ বাতায়নে।
মাঝে মাঝে গেছি আমি ও পাড়ার প্রাঙ্গণের ধারে,
ভিতরে প্রবেশ করি সে শক্তি ছিল না একেবারে।
জীবনে জীবন যোগ করা
না হলে কৃত্রিম পণ্যে ব্যর্থ হয় গানের পসরা।
তাই আমি মেনে নিই সে নিন্দার কথা
আমার সুরের অপূর্ণতা।
আমার কবিতা, জানি আমি,
গেলেও বিচিত্র পথে হয় নাই সে সর্বত্রগামী।
কৃষাণের জীবনের শরিক যে জন,
কর্মে ও কথায় সত্য আত্মীয়তা করেছে অর্জন,
যে আছে মাটির কাছাকাছি,
সে কবির বাণী-লাগি কান পেতে আছি।
সাহিত্যের আনন্দের ভোজে
নিজে যা পারি না দিতে নিত্য আমি থাকি তারি খোঁজে।
সেটা সত্য হোক,
শুধু ভঙ্গি দিয়ে যেন না ভোলায় চোখ।
সত্য মূল্য না দিয়েই সাহিত্যের খ্যাতি করা চুরি
ভালো নয়, ভালো নয় নকল সে শৌখিন মজ্‌দুরি।
এসো কবি, অখ্যাতজনের
নির্বাক্‌ মনের।
মর্মের বেদনা যত করিয়ো উদ্ধার--
প্রাণহীন এ দেশেতে গানহীন যেথা চারি ধার,
অবজ্ঞার তাপে শুষ্ক নিরানন্দ সেই মরুভূমি
রসে পূর্ণ করি দাও তুমি।
অন্তরে যে উৎস তার আছে আপনারি
তাই তুমি দাও তো উদ্‌বারি।
সাহিত্যের ঐকতানসংগীতসভায়
একতারা যাহাদের তারাও সম্মান যেন পায়--
মূক যারা দুঃখে সুখে,
নতশির স্তব্ধ যারা বিশ্বের সম্মুখে,
ওগো গুণী,
কাছে থেকে দূরে যারা তাহাদের বাণী যেন শুনি।
তুমি থাকো তাহাদের জ্ঞাতি,
তোমার খ্যাতিতে তারা পায় যেন আপনারি খ্যাতি--
আমি বারংবার
তোমারে করিব নমস্কার।
আরো দেখুন
কুহুধ্বনি
Verses
     প্রখর মধ্যাহ্নতাপে              প্রান্তর ব্যাপিয়া কাঁপে
                    বাষ্পশিখা অনলশ্বসনা,
     অম্বেষিয়া দশ দিশা                   যেন ধরণীর তৃষা
                   মেলিয়াছে লেলিহা রসনা।
     ছায়া মেলি সারি সারি          স্তব্ধ আছে তিন-চারি
                সিসু গাছ পাণ্ডুকিশলয়,
    নিম্ববৃক্ষ ঘনশাখা                 গুচ্ছ গুচ্ছ পুষ্পে ঢাকা,
                আম্রবন তাম্রফলময়।
     গোলক-চাঁপার ফুলে            গন্ধের হিল্লোল তুলে,
                বন হতে আসে বাতায়নে--
     ঝাউ গাছ ছায়াহীন                   নিশ্বসিছে উদাসীন
                শূন্যে চাহি আপনার মনে।
     দুরান্ত প্রান্তর শুধু                    তপনে করিছে ধু ধু,
                বাঁকা পথ শুষ্ক তপ্তকায়া--
     তারি প্রান্তে উপবন,                      মৃদুমন্দ সমীরণ,
                ফুলগন্ধ, শ্যামস্নিগ্ধ ছায়া।
     ছায়ায় কুটিরখানা               দু ধারে বিছায়ে ডানা
                পক্ষী-সম করিছে বিরাজ,
     তারি তলে সবে মিলি              চলিতেছে নিরিবিলি
                সুখে দুঃখে দিবসের কাজ।
     কোথা হতে নিদ্রাহীন               রৌদ্রদগ্ধ দীর্ঘ দিন
                কোকিল গাহিছে কুহুস্বরে।
     সেই পুরাতন তান                  প্রকৃতির মর্ম-গান
                পশিতেছে মানবের ঘরে।
     বসি আঙিনার কোণে         গম ভাঙে দুই বোনে,
                গান গাহে শ্রান্তি নাহি মানি।
     বাঁধা কূপ, তরুতল,     বালিকা তুলিছে জল
                খরতাপে ম্লানমুখখানি।
     দূরে নদী, মাঝে চর;          বসিয়া মাচার 'পর
                শস্যখেত আগলিছে চাষি।
     রাখালশিশুরা জুটে             নাচে গায় খেলে ছুটে,
                দূরে তরী চলিয়াছে ভাসি।
     কত কাজ কত খেলা               কত মানবের মেলা,
                সুখ দুঃখ ভাবনা অশেষ--
     তারি মাঝে কুহুস্বর                 একতান সকাতর
                কোথা হতে লভিছে প্রবেশ।
     নিখিল করিছে মগ্ন--              জড়িত মিশ্রিত ভগ্ন
                গীতহীন কলরব কত,
     পড়িতেছে তারি 'পর                     পরিপূর্ণ সুধাস্বর
                পরিস্ফুট পুষ্পটির মতো।
     এত কাণ্ড, এত গোল,             বিচিত্র এ কলরোল
                সংসারের আবর্তবিভ্রমে--
     তবু সেই চিরকাল                      অরণ্যের অন্তরাল
                কুহুধ্বনি ধ্বনিছে পঞ্চমে।
     যেন কে বসিয়া আছে               বিশ্বের বক্ষের কাছে
                যেন কোন্‌ সরলা সুন্দরী,
     যেন সেই রূপবতী                    সংগীতের সরস্বতী
                সম্মোহন-বীণা করে ধরি'--
     সুকুমার কর্ণে তার                ব্যথা দেয় অনিবার
                গণ্ডগোল দিবসে নিশীথে,
     জটিল সে ঝঞ্ঝনায়                 বাঁধিয়া তুলিতে চায়
                সৌন্দর্যের সরল সংগীতে।
     তাই ওই চিরদিন                ধ্বনিতেছে শ্রান্তিহীন
                কুহুতান, করিছে কাতর--
     সংগীতের ব্যথা বাজে,          মিশিয়াছে তার মাঝে
                করুণার অনুনয়স্বর।
     কেহ ব'সে গৃহ-মাঝে,           কেহ বা চলেছে কাজে,
                কেহ শোনে, কেহ নাহি শোনে--
     তবুও সে কী মায়ায়              ওই ধ্বনি থেকে যায়
                বিশ্বব্যাপী মানবের মনে।
     তবু যুগ-যুগান্তর                       মানবজীবনস্তর
                ওই গানে আর্দ্র হয়ে আসে,
     কত কোটি কুহুতান             মিশায়েছে নিজ প্রাণ
                জীবের জীবন-ইতিহাসে।
     সুখে দুঃখে উৎসবে                  গান উঠে কলরবে
                বিরল গ্রামের মাঝখানে,
     তারি সাথে সুধাস্বরে            মিশে ভালোবাসাভরে
                পাখি-গানে মানবের গানে।
     কোজাগর পূর্ণিমায়              শিশু শূন্যে হেসে চায়,
                ঘিরে হাসে জনকজননী--
     সুদূর বনান্ত হতে                   দক্ষিণ সমীর-স্রোতে
                ভেসে আসে কুহুকুহু ধ্বনি।
     প্রচ্ছায়তমসাতীরে                 শিশু কুশলব ফিরে,
                সীতা হেরে বিষাদে হরিষে--
     ঘন সহকারশাখে             মাঝে মাঝে পিক ডাকে,
                কুহুতানে করুণা বরিষে।
     লতাকুঞ্জে তপোবনে                  বিজনে দুষ্মন্তসনে
                 শকুন্তলা লাজে থরথর,
     তখনো সে কুহু ভাষা                রমণীর ভালোবাসা
                 করেছিল সুমধুরতর।
     নিস্তব্ধ মধ্যাহ্নে তাই                  অতীতের মাঝে ধাই
                 শুনিয়া আকুল কুহুরব--
     বিশাল মানবপ্রাণ                   মোর মাঝে বর্তমান
                 দেশ কাল করি অভিভব।
     অতীতের দুঃখ সুখ,                 দূরবাসী প্রিয়মুখ,
                 শৈশবের স্বপ্নশ্রুত গান,
     ওই কুহুমন্ত্রবলে                   জাগিতেছে দলে দলে,
                 লভিতেছে নূতন পরান।
আরো দেখুন
জয়ধ্বনি
Verses
যাবার সময় হলে জীবনের সব কথা সেরে
শেষবাক্যে জয়ধ্বনি দিয়ে যাব মোর অদৃষ্টেরে।
       বলে যাব, পরমক্ষণের আশীর্বাদ
বারবার আনিয়াছে বিস্ময়ের অপূর্ব আস্বাদ।
          যাহা রুগ্ন, যাহা ভগ্ন, যাহা মগ্ন পঙ্কস্তরতলে
                   আত্মপ্রবঞ্চনাছলে
               তাহারে করি না অস্বীকার।
                   বলি, বারবার
                 পতন হয়েছে যাত্রাপথে
                        ভগ্ন মনোরথে;
                             বারে বারে পাপ
          ললাটে লেপিয়া গেছে কলঙ্কের ছাপ;
          বারবার আত্মপরাভব কত
                    দিয়ে গেছে মেরুদণ্ড করি নত;
          কদর্যের আক্রমণ ফিরে ফিরে
                   দিগন্ত গ্লানিতে দিল ঘিরে।
     মানুষের অসম্মান দুর্বিষহ দুখে
          উঠেছে পুঞ্জিত হয়ে চোখের সম্মুখে,
               ছুটি নি করিতে প্রতিকার--
          চিরলগ্ন আছে প্রাণে ধিক্কার তাহার।
অপূর্ণ শক্তির এই বিকৃতির সহস্র লক্ষণ
          দেখিয়াছি চারি দিকে সারাক্ষণ,
    চিরন্তন মানবের মহিমারে তবু
             উপহাস করি নাই কভু।
      প্রত্যক্ষ দেখেছি যথা
দৃষ্টির সম্মুখে মোর হিমাদ্রিরাজের সমগ্রতা,
গুহাগহ্বরের যত ভাঙাচোরা রেখাগুলো তারে
              পারে নি বিদ্রূপ করিবারে--
     যত-কিছু খণ্ড নিয়ে অখণ্ডেরে দেখেছি তেমনি,
জীবনের শেষবাক্যে আজি তারে দিব জয়ধ্বনি।
আরো দেখুন