১০২ (tomay chhere dure cholar)

তোমায় ছেড়ে দূরে চলার

      নানা ছলে

তোমার মাঝে পড়ি এসে

     দ্বিগুণ বলে।

নানান পথে আনাগোনা

মিলনেরই জাল সে বোনা,

যতই চলি ধরা পড়ি

     পলে পলে।

শুধু যখন আপন কোণে

     পড়ে থাকি

তখনি সেই স্বপন-ঘোরে

     কেবল ফাঁকি।

বিশ্ব তখন কয় না বাণী,

মুখেতে দেয় বসন টানি,

আপন ছায়া দেখি, আপন

     নয়ন-জলে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

রাজার বাড়ি
Verses
আমার রাজার বাড়ি কোথায় কেউ জানে না সে তো;
সে বাড়ি কি থাকত যদি লোকে জানতে পেত।
রুপো দিয়ে দেয়াল গাঁথা, সোনা দিয়ে ছাত,
থাকে থাকে সিঁড়ি ওঠে সাদা হাতির দাঁত।
সাত মহলা কোঠায় সেথা থাকেন সুয়োরানী,
সাত রাজার ধন মানিক-গাঁথা গলার মালাখানি।
আমার রাজার বাড়ি কোথায় শোন্‌ মা, কানে কানে --
ছাদের পাশে তুলসি গাছের টব আছে সেইখানে।
রাজকন্যা ঘুমোয় কোথা সাত সাগরের পারে,
আমি ছাড়া আর কেহ তো পায় না খুঁজে তারে।
দু হাতে তার কাঁকন দুটি, দুই কানে দুই দুল,
খাটের থেকে মাটির 'পরে লুটিয়ে পড়ে চুল।
ঘুম ভেঙে তার যাবে যখন সোনার কাঠি ছুঁয়ে
হাসিতে তার মানিকগুলি পড়বে ঝ'রে ভুঁয়ে।
রাজকন্যা ঘুমোয় কোথা শোন্‌ মা, কানে কানে --
ছাদের পাশে তুলসি গাছের টব আছে যেইখানে।
তোমরা যখন ঘাটে চল স্নানের বেলা হলে
আমি তখন চুপি চুপি যাই সে ছাদে চলে।
পাঁচিল বেয়ে ছায়াখানি পড়ে মা, যেই কোণে
সেইখানেতে পা ছড়িয়ে বসি আপন মনে।
সঙ্গে শুধু নিয়ে আসি মিনি বেড়ালটাকে,
সেও জানে নাপিত ভায়া কোন্‌খানেতে থাকে।
জানিস নাপিতপাড়া কোথায়? শোন্‌ মা কানে কানে --
ছাদের পাশে তুলসি গাছের টব আছে যেইখানে।
আরো দেখুন
60
Verses
সকল দাবি ছাড়বি যখন
            পাওয়া সহজ হবে।
এই কথাটা মনকে বোঝাই,
            বুঝবে অবোধ কবে?
নালিশ নিয়ে বেড়াস মেতে
পাস নি যা তার হিসাব পেতে,
শুনিস নে তার ভাণ্ডারেতে
            ডাক পড়ে তোর যবে।
দুঃখ নিয়ে দিন কেটে যায়
            অশ্রু মুছে মুছে,
চোখের জলে দেখতে না পাস
            দুঃখ গেছে ঘুচে।
সব আছে তোর ভরসা যে নেই,
দেখ্‌ চেয়ে দেখ্‌ এই যে সে এই,
মাথা তুলে হাত বাড়ালেই
            অমনি পাবি তবে।
আরো দেখুন
অবাধ
Verses
     সরে যা, ছেড়ে দে পথ,
দুর্ভর সংশয়ে ভারী তোর মন পাথরের পারা।
      হালকা প্রাণের ধারা
           দিকে দিকে ওই ছুটে চলে
           কলকোলাহলে
                 দুরন্ত আনন্দভরে।
           ওরাই যে লঘু করে
                 অতীতের পুরাতন বোঝা।
                       ওরাই তো করে দেয় সোজা
সংসারের বক্র ভঙ্গি চঞ্চল সংঘাতে।
      ওদের চরণপাতে
জটিল জালের গ্রন্থি যত
      হয় অপগত।
           মলিনতা দেয় মেজে,
      শ্রান্তি দূর করে ওরা ক্লান্তিহীন তেজে।
      ওরা সব মেঘের মতন
প্রভাতকিরণপায়ী, -- সিন্ধুর তরঙ্গ অগনন,
      ওরা যেন দিশাহারা হাওয়ার উৎসাহ,
           মাটির হৃদয়জয়ী নিরন্তর তরুর প্রবাহ;
           প্রাচীনরজনীপ্রান্তে ওরা সবে প্রথম আলোক।
                 ওরা শিশু, বালিকা বালক,
                 ওরা নারী তারুণ্যে উচ্ছল।
                       ওরা যে নির্ভীক বীরদল
                 যৌবনের দুঃসাহসে বিপদের দুর্গ হানে,
                       সম্পদেরে উদ্ধারিয়া আনে।
           পায়ের শৃঙ্খল ওরা চলে ঝংকারিয়া
                 অন্তরে প্রবল মুক্তি নিয়া।
           আগামী কালের লাগি নাই চিন্তা, নাই মনে ভয়,
                 আগামী কালেরে করে জয়।
           চলেছে চলেছে ওরা চারি দিক হতে
                       আঁধারে আলোতে,
                            সম্মুখের পানে
                                অজ্ঞাতের টানে।
                            তুই সরে যা রে
           ওরে ভীরু, ভারাতুর সংশয়ের ভারে।
আরো দেখুন