রাজার বাড়ি (rajar bari)

আমার রাজার বাড়ি কোথায় কেউ জানে না সে তো;

সে বাড়ি কি থাকত যদি লোকে জানতে পেত।

রুপো দিয়ে দেয়াল গাঁথা, সোনা দিয়ে ছাত,

থাকে থাকে সিঁড়ি ওঠে সাদা হাতির দাঁত।

সাত মহলা কোঠায় সেথা থাকেন সুয়োরানী,

সাত রাজার ধন মানিক-গাঁথা গলার মালাখানি।

আমার রাজার বাড়ি কোথায় শোন্‌ মা, কানে কানে --

ছাদের পাশে তুলসি গাছের টব আছে সেইখানে।

রাজকন্যা ঘুমোয় কোথা সাত সাগরের পারে,

আমি ছাড়া আর কেহ তো পায় না খুঁজে তারে।

দু হাতে তার কাঁকন দুটি, দুই কানে দুই দুল,

খাটের থেকে মাটির 'পরে লুটিয়ে পড়ে চুল।

ঘুম ভেঙে তার যাবে যখন সোনার কাঠি ছুঁয়ে

হাসিতে তার মানিকগুলি পড়বে ঝ'রে ভুঁয়ে।

রাজকন্যা ঘুমোয় কোথা শোন্‌ মা, কানে কানে --

ছাদের পাশে তুলসি গাছের টব আছে যেইখানে।

তোমরা যখন ঘাটে চল স্নানের বেলা হলে

আমি তখন চুপি চুপি যাই সে ছাদে চলে।

পাঁচিল বেয়ে ছায়াখানি পড়ে মা, যেই কোণে

সেইখানেতে পা ছড়িয়ে বসি আপন মনে।

সঙ্গে শুধু নিয়ে আসি মিনি বেড়ালটাকে,

সেও জানে নাপিত ভায়া কোন্‌খানেতে থাকে।

জানিস নাপিতপাড়া কোথায়? শোন্‌ মা কানে কানে --

ছাদের পাশে তুলসি গাছের টব আছে যেইখানে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

৯১
Verses
৯১
নূতন প্রেম সে ঘুরে ঘুরে মরে শূন্য আকাশমাঝে,
পুরানো প্রেমের রিক্ত বাসায় বাসা তার মেলে না যে॥  
আরো দেখুন
2
Verses
অতিথি ছিলাম যে বনে সেথায়
      গোলাপ উঠিল ফুটে--
"ভুলো না আমায়' বলিতে বলিতে
      কখন পড়িল লুটে।
আরো দেখুন
বৃষ্টি রৌদ্র
Verses
ঝুঁটি-বাঁধা ডাকাত সেজে
দল বেঁধে মেঘ চলেছে যে
          আজকে সারাবেলা।
কালো ঝাঁপির মধ্যে ভরে
সুর্যিকে নেয় চুরি করে,
          ভয়-দেখাবার খেলা।
বাতাস তাদের ধরতে মিছে
হাঁপিয়ে ছোটে পিছে পিছে,
          যায় না তাদের ধরা।
আজ যেন ওই জড়োসড়ো
আকাশ জুড়ে মস্ত বড়ো
          মন-কেমন-করা।
বটের ডালে ডানা-ভিজে
কাক বসে ওই ভাবছে কী যে,
          চড়ুইগুলো চুপ।
বৃষ্টি হয়ে গেছে ভোরে
শজনেপাতায় ঝরে ঝরে
          জল পড়ে টুপটুপ।
লেজের মধ্যে মাথা থুয়ে
খ্যাঁদন কুকুর আছে শুয়ে
          কেমন একরকম।
দালানটাতে ঘুরে ঘুরে
পায়রাগুলো কাঁদন-সুরে
          ডাকছে বকবকম।
কার্তিকে ঐ ধানের খেতে
ভিজে হাওয়া উঠল মেতে
          সবুজ ঢেউয়ের 'পরে।
পরশ লেগে দিশে দিশে
হিহি করে ধানের শিষে
          শীতের কাঁপন ধরে।
ঘোষাল-পাড়ার লক্ষ্মী বুড়ী
ছেঁড়া কাঁথায় মুড়িসুড়ি
          গেছে পুকুরপাড়ে,
দেখতে ভালো পায় না চোখে
বিড়বিড়িয়ে বকে বকে
          শাক তোলে, ঘাড় নাড়ে।
ঐ ঝমাঝম বৃষ্টি নামে
মাঠের পারে দূরের গ্রামে
          ঝাপসা বাঁশের বন।
গোরুটা কার থেকে থেকে
খোঁটায়-বাঁধা উঠছে ডেকে
          ভিজছে সারাক্ষণ।
গদাই কুমোর অনেক ভোরে
সাজিয়ে নিয়ে উঁচু ক'রে
          হাঁড়ির উপর হাঁড়ি
চলছে রবিবারের হাটে
গামছা মাথায় জলের ছাঁটে
          হাঁকিয়ে গোরুর গাড়ি।
বন্ধ আমার রইল খেলা,
ছুটির দিনে সারাবেলা
          কাটবে কেমন করে?
মনে হচ্ছে এমনিতরো
ঝরবে বৃষ্টি ঝরঝর
          দিনরাত্তির ধরে!
এমন সময় পুবের কোণে
কখন যেন অন্যমনে
          ফাঁক ধরে ঐ মেঘে,
মুখের চাদর সরিয়ে ফেলে
হঠাৎ চোখের পাতা মেলে
          আকাশ ওঠে জেগে।
ছিঁড়ে-যাওয়া মেঘের থেকে
পুকুরে রোদ পড়ে বেঁকে,
          লাগায় ঝিলিমিলি।
বাঁশবাগানের মাথায় মাথায়
তেঁতুলগাছের পাতায় পাতায়
          হাসায় খিলিখিলি।
হঠাৎ কিসের মন্ত্র এসে
ভুলিয়ে দিলে একনিমেষে
          বাদলবেলার কথা।
হারিয়ে-পাওয়া আলোটিরে
নাচায় ডালে ফিরে ফিরে
          বেড়ার ঝুমকোলতা।
উপর নিচে আকাশ ভরে
এমন বদল কেমন করে
          হয়, সে-কথাই ভাবি।
উলটপালট খেলাটি এই,
সাজের তো তার সীমানা নেই,
          কার কাছে তার চাবি?
এমন যে ঘোর মন-খারাপি
বুকের মধ্যে ছিল চাপি
          সমস্ত খন আজি
হঠাৎ দেখি সবই মিছে
নাই কিছু তার আগে পিছে
          এ যেন কার বাজি।
আরো দেখুন