৪৭ (ei kothata dhore rakhis)

এই কথাটা ধরে রাখিস

          মুক্তি তোরে পেতেই হবে,

যে পথ গেছে পারের পানে

         সে পথে তোর যেতেই হবে।

অভয়-মনে কণ্ঠ ছাড়ি

গান গেয়ে তুই দিবি পাড়ি,

খুশি হয়ে ঝড়ের হাওয়ায়

            ঢেউ যে তোরে খেতেই হবে।

পাকের ঘোরে ঘোরায় যদি

          ছুটি তোরে পেতেই হবে।

চলার পথে কাঁটা থাকে

       দ'লে তোমায় যেতেই হবে।

সুখের আশা আঁকড়ে লয়ে

মরিস নে তুই ভয়ে ভয়ে,

জীবনকে তোর ভরে নিতে

        মরণ-আঘাত খেতেই হবে।

  

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

5
Verses
              যদি এ আমার হৃদয়দুয়ার
                           বন্ধ রহে গো কভু
              দ্বার ভেঙে তুমি এসো মোর প্রাণে,
                           ফিরিয়া যেয়ো না প্রভু।
যদি কোনদিন এ বীণার তারে
তব প্রিয়নাম নাহি ঝংকারে
দয়া ক'রে তুমি ক্ষণেক  দাঁড়ায়ো,
              ফিরিয়া যেয়ো না প্রভু।
              তব আহ্বানে যদি কভু মোর
              নাহি ভেঙে যায়ে সুপ্তির ঘোর
              বজ্রবেদনে জাগায়ো আমায়,
                          ফিরিয়া যেয়ো না প্রভু।
যদি কোনোদিন তোমার আসনে
আর-কাহারেও বসাই যতনে
চিরদিবসের হে রাজা আমার,
              ফিরিয়া যেয়ো না প্রভু।
আরো দেখুন
গানের বাসা
Verses
               তোমরা দুটি পাখি,
           মিলন-বেলায় গান কেন আজ
               মুখে মুখে নীরব হল।
                   আতশবাজির বক্ষ থেকে
           চতুর্দিকে স্ফুলিঙ্গ সব ছিটকে পড়ে--
                   তেমনি তোমাদের
           বিরহতাপ ছড়িয়ে গিয়েছিল
               সারারাত্রি সুরে সুরে বনের থেকে বনে।
           গানের মূর্তি নিয়ে তারা পড়ল না তো ধরা--
                   বাতাস তাদের মিলিয়ে দিল
                       দিগন্তরের অরণ্যচ্ছায়ায়।
আমরা মানুষ, ভালোবাসার জন্যে বাসা বাঁধি,
    চিরকালের ভিত গড়ি তার গানের সুরে;
        খুঁজে আনি জরাবিহীন বাণী
           সে মন্দিরের গাঁথন দিতে।
    বিশ্বজনের সবার জন্যে সে গান থাকে
           সব প্রেমিকের প্রাণের আসন মেলে দিয়ে।
               বিপুল হয়ে উঠেছে সে
                   দেশে দেশে কালে কালে।
                       মাটির মধ্যখানে থেকে
           মাটিকে সে অনেক দূরে ছাড়িয়ে তোলে মাথা
                       কল্পস্বর্গলোকে।
               সহজ ছন্দে যায় আনন্দে জীবন তোমাদের
                       উধাও পাখার নাচের তালে।
                   দুরু দুরু কোমল বুকের প্রেমের বাসা
                       আপনি আছে বাঁধা
                          পাখির ভুবনে।
                       প্রাণের রসে শ্যামল মধুর,
                          মুখরিত গুঞ্জনে মর্মরে,
               ঝলকিত চিকন পাতার দোলনে কম্পনে,
                          পুলকিত ফুলের উল্লাসে,
        নব নব ঋতুর মায়া-তুলি
           সাজায় তারে নবীন রঙে--
               মনে-রাখা ভুলে-যাওয়া
                   যেন দুটি প্রজাপতির মতো
    সেই নিভৃতে অনায়াসে হালকা পাখায়
           আলোছায়ার সঙ্গে বেড়ায় খেলে।
        আমরা কেবল বানিয়ে তুলি
           আপন ব্যথার রঙে রসে
    ধূলির থেকে পালিয়ে যাবার সৃষ্টিছাড়া ঠাঁই,
               বেড়া দিয়ে আগলে রাখি
           ভালোবাসার জন্যে দূরের বাসা--
                   সেই আমাদের গান।
আরো দেখুন
7
Verses
      শুন সখি, বাজত বাঁশি
গভীর রজনী, উজল কুঞ্জপথ,
      চন্দ্রম ডারত হাসি।
দক্ষিণপবনে কম্পিত তরুগণ,
      তম্ভিত যমুনাবারি,
কুসুমসুবাস উদাস ভইল, সখি,
      উদাস হৃদয় হমারি।
বিগলিত মরম, চরণ খলিতগতি,
      শরম ভরম গয়ি দূর,
নয়ন বারিভর, গরগর অন্তর,
      হৃদয় পুলকপরিপূর।
কহ সখি, কহ সখি, মিনতি রাখ সখি,
      সো কি হমারই শ্যাম?
মধুর কাননে মধুর বাঁশরি
      বজায় হমারি নাম?
কত কত যুগ সখি, পুণ্য করনু হম,
      দেবত করনু ধেয়ান,
তব ত মিলল সখি, শ্যামরতন মম,
      শ্যাম পরানক প্রাণ।
           শ্যাম রে,
শুনত শুনত তব মোহন বাঁশি,
      জপত জপত তব নামে,
সাধ ভইল ময় দেহ ডুবায়ব
      চাঁদউজল যমুনামে!
"চলহ তুরিত গতি শ্যাম চকিত অতি,
      ধরহ সখীজন হাত,
নীদমগন মহী, ভয় ডর কছু নহি,
      ভানু চলে তব সাথ।'
আরো দেখুন