১৩ (abar shraban haye ele phire)

  আবার   শ্রাবণ হয়ে এলে ফিরে,

          মেঘ-আঁচলে নিলে ঘিরে।

                   সূর্য হারায়, হারায় তারা,

                   আঁধারে পথ হয় যে হারা,

                             ঢেউ দিয়েছে নদীর নীরে।

    সকল আকাশ, সকল ধরা,

    বর্ষণেরি বাণী-ভরা।

            ঝরঝর ধারায় মাতি

            বাজে আমার আঁধার রাতি,

                   বাজে আমার শিরে শিরে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

79
Verses
আমার বাণী আমার প্রাণে লাগে।
     যত তোমায় ডাকি, আমার
            আপন হৃদয় জাগে।
     শুধু তোমায় চাওয়া
     সে-ও আমার পাওয়া,
তাই তো পরান পরানপণে
            হাত বাড়িয়ে মাগে।
হায় অশক্ত, ভয়ে থাকিস পিছে!
    লাগলে সেবায় অশক্তি তোর
            আপনি হবে মিছে।
    পথ দেখাবার তরে
    যাব কাহার ঘরে,
যেমনি আমি চলি, তোমার
            প্রদীপ চলে আগে।
আরো দেখুন
মিলনদৃশ্য
Verses
হেসো না, হেসো না তুমি বুদ্ধি-অভিমানী!
একবার মনে আনো ওগো ভেদজ্ঞানী,
সে মহাদিনের কথা, যবে শকুন্তলা
বিদায় লইতেছিল স্বজনবৎসলা
জন্মতপোবন হতে--সখা সহকার,
লতাভগ্নী মাধবিকা, পশুপরিবার,
মাতৃহারা মৃগশিশু, মৃগী গর্ভবতী,
দাঁড়াইল চারি দিকে; স্নেহের মিনতি
গুঞ্জরি উঠিল কাঁদি পল্লবমর্মরে,
ছলছল মালিনীর জলকলস্বরে;
ধ্বনিল তাহারি মাঝে বৃদ্ধ তপস্বীর
মঙ্গলবিদায়মন্ত্র গদ্‌গদগম্ভীর।
তরুলতা পশুপক্ষীনদনদীবন
নরনারী সবে মিলি করুণ মিলন।
আরো দেখুন
নূতন কাল
Verses
আমাদের কালে গোষ্ঠে যখন সাঙ্গ হল
           সকালবেলার প্রথম দোহন,
        ভোরবেলাকার ব্যাপারীরা
           চুকিয়ে দিয়ে গেল প্রথম কেনা বেচা,
        তখন কাঁচা রৌদ্রে বেরিয়েছি রাস্তায়,
           ঝুড়ি হাতে হেঁকেছি আমার কাঁচা ফল নিয়ে--
        তাতে কিছু হয়তো ধরেছিল রঙ, পাক ধরে নি।
    তার পর প্রহরে প্রহরে ফিরেছি পথে পথে;
কত লোক কত বললে, কত নিলে, কত ফিরিয়ে দিলে,
        ভোগ করলে দাম দিলে না, সেও কত লোক--
               সে কালের দিন হল সারা।
কাল আপন পায়ের চিহ্ন যায় মুছে মুছে,
        স্মৃতির বোঝা আমরাই বা জমাই কেন,
    এক দিনের দায় টানি কেন আর-এক দিনের 'পরে,
দেনা-পাওনা চুকিয়ে দিয়ে হাতে হাতে
        ছুটি নিয়ে যাই না কেন সামনের দিকে চেয়ে।
সেদিনকার উদ্‌বৃত্ত নিয়ে নূতন কারবার জমবে না
           তা নিলেম মেনে।
        তাতে কী বা আসে যায়।
দিনের পর দিন পৃথিবীর বাসাভাড়া
           দিতে হয় নগদ মিটিয়ে।
তার পর শেষ দিনে দখলের জোর জানিয়ে
           তালা বন্ধ করবার ব্যর্থ প্রয়াস,
                কেন সেই মূঢ়তা।
           তাই প্রথম ঘণ্টা বাজল যেই
        বেরিয়েছিলেম হিসেব চুকিয়ে দিয়ে।
দরজার কাছ পর্যন্ত এসে যখন ফিরে তাকাই,
           তখন দেখি তুমি যে আছ
               এ কালের আঙিনায় দাঁড়িয়ে।
    তোমার সঙ্গীরা একদিন যখন হেঁকে বলবে
        আর আমাকে নেই প্রয়োজন,
           তখন ব্যথা লাগবে তোমারই মনে
               এই আমার ছিল ভয়--
                   এই আমার ছিল আশা।
           যাচাই করতে আস নি তুমি--
    তুমি দিলে গ্রন্থি বেঁধে তোমার কালে আমার কালে হৃদয় দিয়ে।
দেখলেম ওই বড়ো বড়ো চোখের দিকে তাকিয়ে,
    করুণ প্রত্যাশা তো এখনো তার পাতায় আছে লেগে।
    তাই ফিরে আসতে হল আর একবার।
           দিনের শেষে নতুন পালা আবার করেছি শুরু
                       তোমারি মুখ চেয়ে,
               ভালোবাসার দোহাই মেনে।
আমার বাণীকে দিলেম সাজ পরিয়ে
        তোমাদের বাণীর অলংকারে--
    তাকে রেখে দিয়ে গেলেম পথের ধারে পান্থশালায়,
        পথিক বন্ধু, তোমারি কথা মনে ক'রে।
    যেন সময় হলে একদিন বলতে পার
        মিটল তোমাদেরও প্রয়োজন,
           লাগল তোমাদেরও মনে।
দশ জনের খ্যাতির দিকে হাত বাড়াবার দিন নেই আমার।
    কিন্তু তুমি আমাকে বিশ্বাস করেছিলে প্রাণের টানে--
        সেই বিশ্বাসকে কিছু পাথেয় দিয়ে যাব এই ইচ্ছা।
           যেন গর্ব করে বলতে পার
                   আমি তোমাদেরও বটে,
        এই বেদনা মনে নিয়ে নেমেছি এই কালে--
           এমন সময় পিছন ফিরে দেখি তুমি নেই।
               তুমি গেলে সেইখানেই
    যেখানে আমার পুরোনো কাল অবগুণ্ঠিত মুখে চলে গেল,
        যেখানে পুরাতনের গান রয়েছে চিরন্তন হয়ে।
আর, একলা আমি আজও এই নতুনের ভিড়ে বেড়াই ধাক্কা খেয়ে,
                   যেখানে আজ আছে কাল নেই।
আরো দেখুন